সোমবার , অক্টোবর 21 2019
Breaking News
Home / পাঁচ-মিশালী / চিন্তা-চেতনা / কথা বলুন মূলদৃশ্য নিয়ে– ইস্যু অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে

কথা বলুন মূলদৃশ্য নিয়ে– ইস্যু অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে


নিচের লেখাটি লিখেছিলাম গত বছর তনু-হত্যা নিয়ে যখন দেশ তোলপাড় তখনই ব্যাংক থেকে শতশত কোটি টাকা গায়েব। তনু-ইস্যু নিয়ে বিবেকবান মানুষ এতো ব্যস্ত ছিলো (আমিও), ব্যাংক থেকে টাকা চুরি যাওয়ার ঘটনাটি প্রায় ধামাচাপা পড়ে যায়। এরপর সরে যেতে থাকে দৃশ্য । দৃশ্যকে আড়াল করতে তৈরি হয় কোনো না কোনো ইস্যু। মূলদৃশ্য নিয়ে দুয়েকজন ছাড়া কেউ কথাই বলে না, সৃষ্টইস্যুর নিচে চাপা পড়ে যায়। বলির পাঠা হয় নিরিহ জনসাধারণ (অধিকাংশই সংখ্যালঘু)। এবারও বাজেট পেশ হলো, আর আগুন জ্বললো পাহাড়ে। একমাস আগের টক’শোকে সামনে এনে ইস্যু করা হলো ‘সুলতানা কামাল’কে। পাহাড়ে আগুন, সুলতানা কামালের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে সুশীল-কুশীল সমাজ এতোই ব্যস্ত যে– ভয়াবহ বাজেট নিয়ে কেউ কথাই বলছে না কিংবা আমলেই নিচ্ছে না। ইস্যু নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। আবারও বলছি ইস্যু নিয়ে কথা বলে লাভ নেই– যা হবার তাই হবে। পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কিছুই হয় না, হয়নি। কাটপিছ দৃশ্যে মনোযোগ না দিয়ে মূলদৃশ্যে আসুন, দেখুন– কী হচ্ছে দেশে! কথা বলুন মূলদৃশ্য নিয়ে– ইস্যু অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আমারও স্বপ্ন। দেশ সোনার বাঙলা হোক। কিন্তু ইস্যুদৃশ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণ না যাক।

জয় বাঙলা জয় বাঙলা

গতবছরের লেখাটি কপি করে নিচে পেস্ট করলাম:

“মানুষ যে জাগ্রত এটাই আশাবাদী চেতনা।”—রবিউল আলম নবি।

সত্যিই এটা আশাবাদী চেতনা যে– মানুষ জাগ্রত। কিন্তু আমাকে ভাবতে হবে মানুষ কি নিজে থেকেই জাগ্রত নাকি জাগানো হয়েছে! সারাদেশব্যপী তনুহত্যার বিচার নিয়ে তোলপাড়। মিটিং-মিছিল-ফেসবুক-মিডিয়ায় প্রতিবাদী গান আজ ১৬ কোটি মানুষের কণ্ঠে। আমার কণ্ঠেও এর ব্যতীক্রম নয়। তনু ধর্ষনের পর কি আর কোনো তনু ধর্ষিত হয়নি? আর কোনো তনুর লাশ কি পরেনি এ বাঙলার গ্রামে-গঞ্জে-নগরে-অলিতে-গলিতে-বাসে-ট্রেনে-পার্কে-হোস্টেলে-মেসে-পাহারে-চরে-মসজিদে-মন্দিরে-রাস্তায়-ঘরে? যদি এমন না হয় তবে ধরে নেবো আমাদের জেগে থাকা সার্থক হয়েছে।

আর যদি এমন ঘটনা ঘটতেই থাকে কিংবা পূর্বে ঘটে থাকে তাহলে সোচ্চার হতে হবে, রুখে দাঁড়াতে হবে বাঙলার প্রতিটি বর্তমান-অতীত ধর্ষন-খুন-চুরি-ডাকাতি-কালোবাজারি-দুর্নিতীর বিরুদ্ধে। এক তনুহত্যার বিচার চাওয়া যাবে না। পূর্বের হত্যা-ধর্ষনের বিচার না চাইলে প্রতীয়মান হয় যে এ দেশের মানুষ ঘুমিয়ে থাকে। তাকে কখনো-সখনো জাগানো হয় মশার কয়েলের ধোয়া ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজনে। বিচার চাইতে হবে তনুদের হত্যার বিচার। সকল দুর্নীতি তথা সকল অপকর্ম বন্ধ হবার বিচার। এক তনুকে নিয়ে মেতে থাকলে তো তারা খুশি হবে যদি কেউ চায়– বাঙলার মানুষ, বাঙলার মিডিয়া শুধু তনুকে নিয়েই মেতে থাকুক। এই ফাঁকে অর্জন করা যাক অন্য বড় কোনো স্বার্থ।

আমি বলছি না– বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা চুরি হওয়ার ঘটনা থেকে চিন্তাশীল মানুষকে অন্য দিকে ডায়ভার্ট করার জন্যই কোনো স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তনুকে প্রথমে ধর্ষন ও পরে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি বলতে চাই– টাকা চুরি হয়েছে এ কথা সত্য। কিন্তু কার টাকা চুরি হয়েছে? জনগনের টাকা নিশ্চয়ই। জনগন চুপ কেন? নাকি তনুর লোমহর্ষক মৃত্যু ভুলিয়ে দিয়েছে আপনার-আমার সম্পদ চুরি যাওয়ার ঘটনা। চুরিও অপরাধ। আমরা তনুদের হত্যার বিচারের পাশাপাশি সম্পদ খোয়া যাওয়ার পেছনে কারা দায়ী সেটাও জানতে চাই। অবিলম্বে চোর-ধর্ষক-হত্যাকারীকে সনাক্ত করে দ্রুত-বিচারকার্য আদালতের অধীনে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

আখতার জামান
নরসিংদী।

About janaadmin517

Check Also

ড: কামাল সাহেব শেখ হাসিনার সাথে কোয়ালিশন করলে ভালো হবে!

লেখক চাদঁগাজীঃ ড: কামাল হোসেন মরা ঘোড়ার উপর বাজি রেখেছেন, ফলাফল কারো জন্য ভালো হবে …

মন্তব্য করুন