Breaking News
Home / বাংলাদেশ / ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মরত কর্মচারীদেরকে সপ্তাহ ব্যাপী প্রশিক্ষনের উদ্বোধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মরত কর্মচারীদেরকে সপ্তাহ ব্যাপী প্রশিক্ষনের উদ্বোধন


আদালত প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনির কামাল বলেছেন কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাজের গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষনের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ ব্যতীত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মেধার বিকাশ কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্ম করা দূরহ হয়ে উঠে। তিনি বলেন আমরা জন্ম থেকেই কাজে পারদর্শী হয়ে উঠি না। ক্রমান্বযে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সময়ের সাথে সাথে মানুষ দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং সাধারণ কাজকেও অসাধারণ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
আপনারা ম্যাজিস্ট্রেসী এবং পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারী রয়েছেন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ধৈর্য্য ধরে প্রশিক্ষণকালীন সময়ে প্রশিক্ষকবৃন্দের কথা শুনলে এবং মেনে চললে অল্প সময়ের মধ্যে যে যত শিখবেন সে তত বেশী পারদর্শী ও লাভবান হবেন বলে আমার বিশ্বাস। আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে আপনারা সবাই শিক্ষিত। আপনারা কোর্টে গরীব- দুঃখী ও অসহায় মানুষের সেবাধর্মী কাজের সাথে সম্পৃক্ত। সমানুবর্তিতা, নিয়ম-শৃংখলা, আইনকানুন, পোশাক পরিচ্ছদ, আচার-আচারণ, ধৈর্য্য, শিষ্টাচার ইদ্যাদি বিষয়গুলো আপনারে হৃদয়ে ধারণ করে কাজ করতে হবে। আপনাদের চেষ্টায় বিচার প্রার্থী জনগন উপকৃত হবে। বিচার বিভাগ সমৃদ্ধ হবে এবং সেই সাথে দেশ এগিয়ে যাবে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর কোর্স পরিচালক, কোর্স সমন্বয়ক, প্রশিক্ষকবৃন্দের সকলের প্রতি আমি এই প্রত্যাশা রাখছি আপনারা কষ্ট স্বীকার করে দেশের স্বার্থে অল্প সময়ের মধ্যে সহায়ক কর্মকর্তা/কর্মচারীগনকে আপনাদের মেধা, মনন, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্য সম্পন্ন করে তাদেরকে দক্ষ করে তুলবেন। তিনি গতকাল রবিবার বিকাল ৩ ঘটিকার সময় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হলরুমে প্রশাসনিক কার্যক্রম গতি আনয়নের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদেরকে সপ্তাহ ব্যাপী প্রশিক্ষনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন আমি অত্র ম্যাজিস্ট্রেসীতে যোগদান করার পরপরই বিচার বিভাগের উন্নতির লক্ষ্যে নানামুখী কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠি যেমন ১। বিল্ডিং স্থানান্তর করা, ২। বিল্ডিং এর নাম ফলক করনের ব্যবস্থা করা, ৩। ফার্ণিচার আনয়নের ব্যবস্থা করা, ৪। বিল্ডিং এ অভ্যন্তরীন সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও রক্ষনা বেক্ষণ করা, ৫। বিল্ডিং এর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ফুলের টব এবং গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করা, ৬। বিল্ডিং এর নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা বসানোর ব্যবস্থা করা, ৭। বিচারপ্রার্থী দর্শনার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা, ৮। জজ কোর্টের সাথে গ্যাংক রাস্তার নির্মানের ব্যবস্থা করা ও বিচারকদের জন্য গেস্ট এর ২টি রুম ব্যবস্থা করা, ৯। বিল্ডিং সম্প্রসারণ ১০ তলায় উন্নতি করার ব্যবস্থা করা, ১০। নদীর পাড়ে ঘাটলা নির্মানের ব্যবস্থা করা, ১১। বিচারপ্রার্থী জনগনের জন্য মেইন রোড থেকে রাস্তা তৈরীর ব্যবস্থা করা, ১২। জজ কোর্টের সাথে সর্ম্পক বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া, ১৩। রোজার মাসে ইফতার পার্টির আয়োজন করা, ১৪। জজশীপ-ম্যাজিস্ট্রেসী সমন্বয়ে পিকনিকের ব্যবস্থা করা, ১৫। বিভিন্ন দপ্তরের সাথে সর্ম্পক বৃদ্ধির নিমিত্তে ঈদ কার্ড প্রবর্তন করা, ১৬। মাসিক পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসীর কনফারন্সের আয়োজন করা, ১৭। নিজস্ব কোর্ট ও বিভাগ সমূহ পরিদর্শন করা, ১৮। নিয়মিত বিভিন্ন থানা পরিদর্শন করা, ১৯। নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শন করা, ২০। আলামত (মাদক) ধ্বংস করা, ২১। আলামত নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা। ইতি পূর্বে এক দিনের স্বল্প সময়ের জন্যে কর্মচারীদেরকে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে ছিলাম। তিনি বলেন তখনই আমার সুপ্ত বাসনা ছিল কর্মচারীদেরকে বৃহৎ পরিসরে আবারো প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করবো। কিন্তু বিল্ডিং স্থানান্তরসহ বিভিন্ন ঝামেলা এবং কনফারেন্স রুমে আসবাবপত্রের অভাবে সেটা ইতিপূর্বে সম্ভব হয়ে উঠেনি। আজ সেই স্বপ্ন পূরন হতে চলেছে। তিনি প্রশিক্ষনার্থীদের কথা ভেবে অর্থনৈতিক স্বল্পতা হেতু এইখাতে বাজেট না থাকা সত্বেও শত ব্যস্তার মাঝে নিজস্ব উদ্যোগে ম্যাজিস্ট্রেসীর ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে বৃহৎপরিসরে সপ্তাহব্যাপী ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেছি। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন কোর্স পরিচালক ও অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম, কোর্স সন্বয়ক ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদ, জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডঃ সারোয়ার-ই আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি খ,আ,ম রশিদুল ইসলাম, চীফ জুডিসিয়াল আদালতের এপিপি নাজমুল হোসেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীমতি জয়ন্তী রাণী রায়ের পরিচালনায় সপ্তাহ ব্যাপী প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সুলতান সোহাগ উদ্দিন, বেগম ফারজানা আহম্মেদ, বেগম আয়েশা বেগম, মোঃ জাহিদ হোসাইন, বেগম তারান্নুম রাহাত। পরিশেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষনের সফলতা কামনা করে উদ্বোধনী ঘোষনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠান পূর্বে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করেন হাফেজ জুলফিকার ও গীতা পাঠ করেন মলয়চক্রবর্তী।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন