Breaking News
Home / বাংলাদেশ / বিআইডব্লিউটিএ সিবিএ নেতাদের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

বিআইডব্লিউটিএ সিবিএ নেতাদের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

বাকী বিল্লাহ ও সাইফ বাবলু
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সিবিএ নেতাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তারা নানা অজুহাতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কমকর্তা ও কর্মচারীদের মারপিট থেকে শুরু করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে। তাদের হাতে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ জন সাধারণ কর্মচারী নাজেহাল হয়েছে। অনেকেই আছে আতঙ্কে। এমনকি সিবিএ দাপটে কর্মকর্তারা আতঙ্ক নিয়ে অফিস করছেন। এ নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ নির্যাতিত একজন স্টাফ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদকে) লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক তদন্তে নেমেছেন। তারা প্রকাশ্যে ও গোপনে সিবিএ নেতাদের অপকর্মের খোঁজখবর নেয়া শুরু করেছেন। অভিযোগ রয়েছে সিবিএর সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম ২০০১ সালের ১৩ এপ্রিল রাজবাড়ীর পাংশায় ডবল হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ওই হত্যা মামলায় পুলিশ কুস্টিয়ার খোকশা থেকে দুটি অস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় তাকে বিআইডব্লিউ থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হলেও যুদ্ধপরাধ মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়া তৎকালীন জামায়াত ও বিএনপি সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী যুদ্ধপরাধী আলী আহসান মুজাহিদের সুপারিশে চাকরিতে পুনর্বহাল করেছেন। সিবিএর সভাপতি আবুল হোসেন, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, সাংগঠনকি সম্পাদক পান্না বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় বিভিন্ন কর্মচারী প্রকাশ্যে কর্মস্থলে মারপিট, হত্যাচেষ্টাসহ নাজেহাল করার অভিযোগে ৫টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে সভাপতি আবুল হোসেনকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করার চেষ্টার অভিযোগে সিবিএ সভাপতি থেকে অপসারণ করা হলেও তিনি এখনও বিআইডব্লিউটিএ-তে বেশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এই সম্পর্কে দুদক তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, সিবিএর ৪ নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একজন উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে ওই কমিটি বিষয়টি অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করেছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
দুদকে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বিআইডব্লিউটিএতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন হয়। ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করে ২২ জুন ট্রেড ইউনিটকে সিবিএ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেন সংগঠনের সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। সিবিএ’র কমিটিতে থেকে সভাপতি আবুল হোসেন ও সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম বিআইডব্লিউটিএতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম শুরু করেন। শ্রমিকদের কাছ থেকে সংগঠনের ফান্ডে যে চাঁদা তোলা হয় ওই ফান্ডের টাকা নানাভাবে লুটপাট করেছেন সভাপতি আবুল হোসেনও সেক্রেটারি রফিকুল ইসলামের সহযোগীরা। সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম বিআইডব্লিউটিএ’র তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী। টোল কালেক্টর পদে চাকরি করে তার বেতন ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু তিনি চাষাঢ়ায় ৩০ হাজার টাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে থাকেন। স্ত্রীসহ স্বজনদের নামে একাধিক গাড়ি কিনেছেন রফিকুল ইসলাম। আরিচায় নামে বেনামে ১ বিঘার মতো জমি রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান করেছেন। সিবিএ সেক্রেটারি হওয়ার পর পরই রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলার চন্ডিদাসদি গ্রামে বহুতল বাড়ি তৈরি করেন। সভাপতি আবুল হোসেনের রয়েছে ৪টি গাড়ি। একেক দিন একেক গাড়িতে করে তিনি অফিসে আসেন। সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন মুগদায় জায়গা কিনে বহুতল বাড়ি তৈরি করছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পান্না বিশ্বাস নামে বেনামে অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। নিজ নামে ছাড়াও স্ত্রীর নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকা রয়েছে। দুদুকে করা অভিযোগে বলা হয় সভাপতি আবুল হোসেন, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আক্তার ও সাংগঠনিক সম্পাদক পান্না বিশ্বাস মিলে সিবিএ অবৈধভাবে ১১ লাখ ১৫ হাজার টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী তারা এ টাকা তুলতে পারেন না।
বিআইডব্লিউটিএ-তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিআইডব্লিটিএ-তে ৩টি নম্বরে ইউনিয়ন চলমান থাকা অবস্থায় ৪র্থ ইউনিয়ন হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন নামে একটি ইউনিয়ন হয় ২০১৬ সালের ফেব্রয়ারি মাসে যার রেজি. নং (বি-২১৭৬)। বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন হিসেবে ৪র্থ ইউনিয়নের (২১৭৬) বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বিআইডব্লিউটিএর মেডিকেল এটেনডেন্ট মজিবর রহমান নামে এক কর্মচারী হাইকোর্টে রিট করেন (১৪২৬৬/২০১৬)। রিটটি বর্তমানে শুনানি পর্যায়ে রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র এক কর্মচারী জানান, অবৈধভাবে ইউনিয়ন করা এবং সিবিএ কমিটি করার প্রতিবাদ করে মামলা করার কারণে বিআইডব্লিউটির মেডিকেল এডেটডেন্ট মজিবর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ কমিটির নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মাকসুদুর রহমান নামে বিআইডব্লিউটিএ’র শুঙ্ক আদায়কারীকে ১১ মাস আগে বরখাস্ত করা হয়েছে মিথ্যে অভিযোগে। গত ২৫ নভেম্বর সিবিএর সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম তার এক পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতা নিয়ে কেরানীগঞ্জের একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার করিয়েছে মাকসুদুর রহমানকে। তাকে ডাকাতির মামলাসহ একাধিক মামলায় জড়ানো হয়। এর আগে মাকসুদুর রহমানকে যখন বরখাস্ত করা হয় তখন তার বেতন ও খোরাকি ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই ঘটনায় মাকসুদুর রহমান হাইকোর্টে একটি রিট করে (রিট নং-১০৪১৭)। রিটের শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক বিআইডব্লিউটির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন মাকসুদুর রহমানের বেতন ও খোরাকিভাতা পরিশোধের। কিন্তু চেয়ারম্যান ওই রিটের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে সুপ্রিম কোর্ট শুঙ্ক আদায়কারী মাকসুদুর রহমানের পক্ষে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রাখেন। এরপর মাকসুদুর রহমান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন পরিশোধ ও খোরাকি ভাতার আবেদন করলে সিবিএ সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম তাতে আপত্তি করেন। সেক্রেটারি রফিকুলের আপত্তির কারণে বিআইডব্লিউটির কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করে বেতন ও খোরাকি ভাতা পরিশোধ না করায় মাকসুদুর রহমান আদালত অবমাননার রিট করে। আর এ কারণেই তাকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। মাকসুদুর রহমানের স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র রেকর্ডকিপার সঞ্জিব কুমার দাস নামে এক কর্মচারী বাদী হয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সিবিএ সভাপতি আবুল হোসেন, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. আক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পান্না বিশ্বাস, নাজমুল মজুমদার, আলী হোসেনকে বিবাদী করে একটি মামলা করেন (সিআর মামলা নং-১৫৯৭)। ওই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও বাদীকে বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ করা হয়। মামলাটি আদালত পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। মামলাটি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায় পুলিশ। সিবিএ সেক্রেটারি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২ মার্চ বিআইডব্লিউটিএ প্রকৌশল বিভাগের সহকারী তুষার কান্তি নামে এক সিবিএ নেতাকে শারীরিকভাবে মারপিট করার অভিযোগ করা হয়। ওই অভিযোগে বলা হয়, শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিলের টাকা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে দাবি করেন রফিকুল ইসলাম। ওই টাকা না দেয়ায় তুষার কান্তিকে অফিসের মধেই মারপিট করে আহত করা হয়। কিন্তু গত ৭ মাসেও ওই অভিযোগের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিআইডব্লিউটিএ। রফিকুল ইসলাম প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দূরের কথা উল্টো অভিযোগকারী তুষার কান্তি এ বিষয়ে মতিঝিল থানায় একটি জিডি করলে তাকেই অন্যত্র বদলি হতে হয়। জিডির তদন্ত করে মতিঝিল থানা পুলিশ সিবিএ সভাপতি আবুল হোসেন, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি আকতারের বিরুদ্ধে আদালতে নন এফআইআর প্রসিকিউশন দিয়েছে।
এক মামলার বাদী সঞ্জিব কুমার দাস সংবাদকে বলেন, তিনি বিআইডব্লিউটিএ-তে রেকর্ডকিপার হিসেবে চাকরি করতেন। আসামিরা প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাধর। তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়েছে অফিসের মধ্যেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা মামলা করায় তাকে খুলনায় বদলি করে দেয়া হয়েছে। তার স্ত্রী অসুস্থ। তার মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে। মামলা যাতে তদন্ত না হয় সে বিষয়ে আসামিরা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে।
বিআইডব্লিউটি সূত্রে জানা গেছে, আবুল হোসেন বিআইডব্লিউ টিএর অর্থ বিভাগের সহকারী পদে চাকরি করছেন। গত ২৫ বছর ধরে তিনি বিআইডব্লিটিএ’র প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন দফতরে চাকরি করে আসছেন। তিনি আগে ট্রেড ইউনিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। গত ২৫ বছর ধরে চাকরির সুবাধে তিনি এখন বিআইডব্লিটিএর প্রভাবশালী সিবিএ নেতা। অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কারণে বেশ প্রভাবের সঙ্গেই তিনি চাকরি করছেন। তার বিরুদ্ধে একজন পদস্থ কর্মকর্তার গাড়ি ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। কর্মচারী হয়ে কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি ব্যবহার করলেও এ নিয়ে কোন ধরনের প্রতিকার নেই।
সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জে শুঙ্ক আদায়কারী হিসেবে কর্মরত। কিন্তু তিনি অধিকাংশ সময় কাটান ঢাকার অফিসেই। চাকরিস্থল নারায়ণগঞ্জে হলেও তিনি মূল দফতরের সিবিএ কার্যালয়ে বসে বসে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। এর আগে তিনি ট্রেড ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। সহ-সভপতি আক্তার হোসেন বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয়ে বর্তমানে ষাট মুদ্রাক্ষরিক (টাইপিস্ট) পদে আছেন। গত ১২ বছর ধরে তিনি টানা একই কার্যালয়ে বিভিন্ন দফতরে চাকরি করে আসলেও অন্য কোথাও বদলি হননি। পান্না বিশ্বাস গত ১০ বছর ধরে বিআইডব্লিটিএ কার্যালয়ে আসেন। তিনি বর্তমানে হিসাব বিভাগের সহকারী (পিওন) পদে আছেন। গত ১০ বছর ধরে একই কার্যালয়ে চাকরি করে আসলেও অন্য কোথাও বদলি হননি।
সূত্র জানায়, ২০০১ সালে চাকরিরত অবস্থায় ধাতব পিলারের ব্যবসায় জড়ান রফিকুল। ব্যবসায়ী বিরোধের সূত্র ধরে ২০০১ সালে ১৩ এপ্রিল রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় ওমর চৌধুরী ও টিপু নামে দুজন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় রফিকুল ২ নম্বর আসামি ছিলেন। একইদিন তাকে কুষ্টিয়ার খোকসা থেকে দুটি অবৈধ পিস্তলসহ পুলিশ গ্রেফতার করে। তখন রফিকুল নিজের নাম বলেন, তরিকুল ইসলাম তারু। তরিকুল ইসলাম তারু নামে হত্যা ও অস্ত্র মামলায় জেলে যান রফিকুল। জেলে বসে অসুস্থতার খবর জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএ তিনি ছুটির আবেদন করলে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে তদন্ত কমিটি রফিকুলের বিরুদ্ধে হত্যার সঙ্গে জড়িত এবং অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়ে জেলে থাকার তথ্যপ্রমাণ পেয়ে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেন এবং চাকরিচ্যুত করেন। কিন্তু পরে জামিনে জেল থেকে বের হয়ে রফিকুল যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা ও তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সুপারিশে চাকরিতে পুনর্বহাল হন। রফিকুল এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বাড়ি পাশাপাশি।
অভিযোগের বিষয়ে সিবিএ সভাপতি আবুল হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সহসভাপতি আক্তার ও সাংগঠনিক সম্পাদক পান্না বিশ্বাসের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে সেক্রেটারি রফিকুল ইসলামকে ফোন করে জানতে চাওয়া হলে তিনি টেলিফোনে সংবাদের এ প্রতিবেদককে বলেন, এগুলো পেপারে লেখতে থাকেন এবং শ্রম দফতরে খোঁজ নেন। আমার সঙ্গে কথা বলে লাভ নেই। আপনি কোথায় থাকেন সেটা বলেন। আপনাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করা হয়েছে এমন প্রশ্ন শুনে তিনি বলেন, আপনি আমার অফিসে আসেন, চায়ের দাওয়াত রইল। সংগঠন করতে গেলে এ ধরনের অনেক অভিযোগ হয়। ৯টি মামলা হয়েছে। কাল অফিসে আসেন সামনাসামনি কথা বলব।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন