Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / ট্রাম্প বিশ্বকে দাবিয়ে রাখতে চাইছেন : উ. কোরিয়া

ট্রাম্প বিশ্বকে দাবিয়ে রাখতে চাইছেন : উ. কোরিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে ‘সারা বিশ্বকে দাবিয়ে রাখতে চাইছেন’ বলে অভিযোগ করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে ‘বিপর্যয়কর শক্তি’ ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া ওই কৌশল ‘অন্যায়’ বলে অভিযোগ করে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির এক সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র। বিবিসি, পার্স টুডে।

গত সোমবার নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচির হুমকি যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলা করতে হবে। দেশটির পরমাণু কর্মসূচির কড়া সমালোচনাও করেন তিনি। এ ইস্যুতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল আসলে আগ্রাসনের ঘোষণা ছাড়া আর কিছুই না। অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘টুঁটি চেপে ধরে উত্তর কোরিয়াকে দমন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আর আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা কোরিয়া উপদ্বীপকে তাদের ফাঁড়ি বানাতে চাইছে।’ দেশটির কেআরটি টিভি শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) ওই সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কিমের বোন কিম ইও জং-ও এতে উপস্থিত ছিলেন। কিম জং উন বলেন, উত্তর কোরিয়া একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশে পরিণত হয়েছে। আমেরিকার জন্য পিয়ংইয়ং একটি শক্তিশালী পারমাণবিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এদিকে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত ১৮ ডিসেম্বর ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল’কে একটি ‘অপরাধী দলিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়ে ভোটাভুটির আগে দেশটি এ মন্তব্য করেছে।

আর যুক্তরাষ্ট্র ২০০৮ সাল থেকে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় দেশটির পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ স্থগিত রাখা এবং দেশটিতে পণ্য ও সেবা রফতানি বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে আবার নতুন করে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। পিয়ংইয়ং সর্বশেষ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর পর দেশটির বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। শুক্রবার রাতে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের তোলা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবটি ১৫-০ ভোটে পাস হয়। এর ফলে উত্তর কোরিয়ার পরিশোধিত তেল আমদানি শতকরা ৯০ ভাগ পর্যন্ত আটকে দেয়া সম্ভব হবে। এ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর এক বছরে তৃতীয়বারের মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। এবারের নিষেধাজ্ঞায় দেশটির তেল সরবরাহ ৯০ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, পিয়ংইয়ং-এর অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদার চীন ও রাশিয়া। দেশটি সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করে চীনের কাছ থেকে। নিষেধাজ্ঞার ফলে পিয়ংইয়ং এখন থেকে বছরে মাত্র পাঁচ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে পারবে। অপরিশোধিত তেল রফতানির ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে দেশটি বছরে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানি করতে পারবে। বৈদ্যুতিক সামগ্রী রফতানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চীন-রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার মানুষ কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু নতুন এ নিষেধাজ্ঞার ফলে বিভিন্ন দেশে কর্মরত দেশটির প্রবাসী কর্মীদের এক বছরের মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। টুইটারে দেয়া এক পোস্টে জাতিসংঘের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এ নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাবে। নিরাপত্তা পরিষদ ১৫-০ শূন্য ভোটে সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাব পাস করেছে। বিশ্ব শান্তি চায়, মৃত্যু নয়।’ জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিক্কি হ্যালি বলেছেন, উত্তর কোরিয়াকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে। এরপরও তাদের বেপরোয়া আচরণ অব্যাহত থাকলে দেশটি আরও শাস্তি পাবে। আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। উত্তর কোরিয়ার বেশকিছু পণ্য রফতানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রস্তাবে বিদেশে থাকা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ১৫ জন পদস্থ কর্মকর্তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কথা বলা হয়েছে।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন