Breaking News
Home / বাংলাদেশ / একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৬ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৬ প্রকল্প অনুমোদন


অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় স্থাপিত শিল্পের উৎপাদন নির্বিঘ্নে করতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য স্থাপন করা হবে দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক (ডুয়েল ফুয়েল) ১৫০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুত কেন্দ্র। এটি তৈরিতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত ‘মীরসরাই ১৫০ মেগাওয়াট ডুয়েল-ফুয়েল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুত সরবরাহের লক্ষ্যে সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এ ছাড়া ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো ও যাত্রী সুবিধা বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২০টি মিটার গেজ রেলইঞ্জিন ও ১৫০টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনার প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ তিনটিসহ মোট ১৬ প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১০ কোটি টাকা। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। সভা শেষে প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি জানান, মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারী তহবিল থেকে ১১ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৩০০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। মন্ত্রী জানান, এখন থেকে নতুন রাস্তা তৈরির চেয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলোকে আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাছাড়া রাস্তা মেরামত বা সংস্কারের সময় মান বজায় রাখতে এলজিইডিকে বিশেষভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন।

রেলের বহরে নতুন বগি ও ইঞ্জিন সংযোজন বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৮৬টি মিটার গেজ ও ৯৬টি ব্রড গেজসহ মোট ২৮২টি লোকোমোটিভ রয়েছে। মেকানিক্যাল কোড ও ডিজাইন স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী লোকোমোটিভগুলোর অর্থনৈতিক মেয়াদ ২০ বছর। যার মধ্যে ১৬৮টি লোকোমোটিভের বয়স ৩০ বছর অতিক্রম করেছে। এছাড়া রেলওয়েতে ১ হাজার ১৬৫টি যাত্রীবাহী মিটার গেজ ক্যারেজ (বগি) রয়েছে। যাত্রীবাহী ক্যারেজের অর্থনৈতিক মেয়াদ ৩৫ বছর। যার মধ্যে ৪৫৬টি যাত্রীবাহী কোচের বয়স ৩৫ বছর অতিক্রম করেছে, ১৩৫টির মেয়াদ ৩১ থেকে ৩৪ বছর। যাত্রী চাহিদার কারণে মেরামতের মাধ্যমে মেয়াদ উত্তীর্ণ যাত্রীবাহী কোচগুলো ব্যবহার করা হলেও তা আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন আরামদায়ক ও নিরাপদ নয়। তাই ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেক্ট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এসব ইঞ্জিন ও বগি রেলের বহরে সংযুক্ত হবে।

সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ময়মনসিংহ অঞ্চল পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। রাজশাহী বিভাগ (সিরাজগঞ্জ জেলা ব্যতীত) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭০ কোটি টাকা। কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদ্যমান পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। সিলেট, বরিশাল, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫৪ কোটি।

এ ছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯১ কোটি টাকা। শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনমূলক যোগাযোগ কার্যক্রম প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। চক্ষু স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও অন্ধত্ব দূরীকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রিজসমূহের উন্নয়নসহ আধুনিক যান যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮২ কোটি টাকা। ত্রিশাল-বালিপাড়া-নান্দাইল জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুত সরবরাহের লক্ষ্যে সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিরতা, ময়মনসিংহ ও কালকিনি, মাদারীপুর ইসলামিক মিশন হাসপাতাল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং বায়তুল মোকাররম ডায়াগনস্টিক সেন্টার শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯ কোটি টাকা।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন