Breaking News
Home / বিনোদন / বছর শুরুর চার ছবিই ফ্লপ

বছর শুরুর চার ছবিই ফ্লপ

Pagol manush
নতুন বছরের প্রথম মাসে চারটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ‘পুত্র’, ‘পাগল মানুষ’, ‘দেমাগ’ ও ‘হৈমন্ত্মি’। হতাশার কথা হচ্ছে চারটি ছবিই ফ্লপ হয়েছে। ছবিগুলো চিত্রনাট্য, নির্মাণশৈলী দর্শকের আশা পূরণে রীতিমতো ব্যর্থ হয়েছে।
নতুন বছর শুরম্ন হয় জয়া আহসানের অভিনীত পুত্র ছবি দিয়ে। ছবিটি ৫ জানুয়ারি সারাদেশের ১০৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের প্রযোজনায় অটিজম ও সামাজিক মূল্যবোধ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি অনুদানে নির্মাণ করা হয় শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘পুত্র’। ছবিটির কাহিনী লিখেছেন হারম্নন রশীদ ও সাইফুল ইসলাম মান্নু। এই ছবিতে জয়া ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন এ সময়ের জনপ্রিয় মুখ ফেরদৌস। তারকাবহুল ছবি হলেও দর্শক হলমুখী হননি।
পুত্র ছবির সঙ্গে একইদিনে মুক্তি পায় মুকুল নেত্রবাদী পরিচালিত ‘দেমাগ’। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন নবাগত অভিনয়শিল্পী রিপন গাজী ও তানিন সুবহা। দেমাগের গল্প, নির্মাণ ও অভিনয়শিল্পীদের অদক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। শুধু তাই নয়, ছবিটি মাত্র দুটি হলে মুক্তি পেয়েছে। তাই এটি খুব একটা দর্শকের নজরে আসেনি।
বছরের প্রথম সপ্তাহের সিনেমা দর্শক আগ্রহ না থাকা প্রসঙ্গে প্রযোজক সমিতির পক্ষে খোরশেদ আলম খসরম্ন বলেন, ‘এ বছরে প্রথম সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের প্রযোজনায় অটিজম ও সামাজিক মূল্যবোধ বিষয়ে ‘পুত্র’ সিনেমাটি নিয়ে খুবই আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত্ম আমরা তা নিয়ে খুবই হতাশ হয়েছি। তবে অন্যদিকে দেমাগের মতো একটি নিম্নমানের সিনেমার জন্য চলচ্চিত্রসংশিস্নষ্ট সবাই বেশ সমালোচনায় মুখে পড়েছি। এগুলো চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য বিব্রতকর। তাই আমরা খুব দ্রম্নত সব প্রযোজক, পরিচালক ও চলচ্চিত্রের সংশিস্নষ্টদের নিয়ে সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে বসে একটি নীতিমালার সিদ্ধান্ত্ম নিব। যেন এই নিম্নমানের সিনেমাগুলোকে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে শুভমুক্তি দেয়া হয়।’
অন্যদিকে দ্বিতীয় সপ্তাহে ১২ জানুয়ারি মুক্তি পায় এম এ মান্নান পরিচালিত ও শাবনুর অভিনীত ‘পাগল মানুষ’ ছবিটি। শুটিংয়ের সময় পরিচালকের আকস্মিত মৃতু্য, দীর্ঘ বিরতি, নায়িকার শিডিউল পাওয়া নিয়ে জটিলতা আর সব মিলিয়ে ‘পাগল মানুষ’ ছবিটি শেষ হবে কি না তাই নিয়েই দেখা দিয়েছিল সংশয়। পরে বদিউল আলম খোকনের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে একাধিক হলে মুক্তি পেলেও কোনো সাফল্যের মুখ দেখেনি সিনেমাটি। একইদিনে ওপার বাংলার ‘মা’ সিরিয়াল ঝিলিকখ্যাত তিথি বসু অভিনীত ও ডায়েল খানের ‘হৈমন্ত্মি’ মুক্তি পায়। মুক্তি পেলেও ছবিটি কেউ গ্রহণ করেননি।
বছরের শুরম্ন থেকেই চলচ্চিত্রে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলে, পুরো বছর নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। চলচ্চিত্রের দুঃসময় ও নানা পরিস্থিতি নিয়ে প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা সিনেমা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘ইদানীং চিত্রজগতে খুব বাজে পরিস্থিতিতে আছি। এভাবে চলতে থাকলে তো আমাদের সত্যি সত্যি সিনেমা হল বন্ধ করে দিতে হবে। অন্যদিকে এ মাসে ‘পুত্র’ ছাড়া যে তিনটি সিনেমা রিলিজ হয়েছে, তা নিয়েও আমরা খুব শঙ্কিত রয়েছি। এগুলো সিনেমা হলে চালালে ব্যবসা তো হবেই বরং আমরা আরও দর্শক হারিয়ে ফেলব।’ নিম্নমানের সিনেমা নিয়ে মুঠোফোনে আরও জানান, এ ব্যাপারে শ্যামলী সিনেমা হলের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। কোনো নিম্নমানের সিনেমা আমরা আর চালাব না। প্রয়োজনে ওই সপ্তাহে সিনেমা হল বন্ধ করে রাখব। এ ব্যাপারে সেন্সর বোর্ডের সঙ্গেও আমরা মিটিং করব। যেন প্রতিটি সিনেমা মুক্তির আগে চারটি ক্যাটাগরিতে সেন্সর দেয়া হয়।’

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন