Breaking News
Home / খেলাধুলা / বাংলাদেশকে লজ্জায় ডুবিয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

বাংলাদেশকে লজ্জায় ডুবিয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

আগেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে রেখেছিল মাশরাফির বাংলাদেশ। আর সেই মাশরাফির দলকে দশ উইকেটের বড় লজ্জায় ডুবিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করলো চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সিরিজের ষষ্ঠ ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ৮২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ১১.৫ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে জয়ের বন্দরে তরী ভেড়ায় লঙ্কানরা। আগামী ২৭ জানুয়ারি এ টুর্নামেন্টের ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে হাথুরুর শ্রীলঙ্কা।
মিরপুরে ফাইনালের আগে সিরিজের ষষ্ঠ ম্যাচে মাশরাফি বাহিনীর বিপক্ষে খেলতে নামে শ্রীলঙ্কা। এরইমধ্যে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আর তাই এদিন স্বাগতিকদের জন্য নিয়মরক্ষার ম্যাচ হলেও টুর্নামেন্ট থেকে জিম্বাবুয়েকে বিদায় করতে এই ম্যাচে জিততেই হতো হাথুরুর শিষ্যদের।
তবে এ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা হারলেও উঠতো ফাইনালে। কারণ ৮৩ রানের লক্ষ্যে নামার আগে রানরেটের হিসাব নিকাশে এজন্য মাত্র ১৯ রান প্রয়োজন ছিল লঙ্কানদের। আর সেটা তারা করে ফেলে ম্যাচের তৃতীয় ওভারেই। লঙ্কান দুই ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকা ও উপুল থারাঙ্গা দলকে জিতেই তবে মাঠ ছাড়েন। শেস পর্যন্ত থারাঙ্গা ৩৯, গুনাথিলাকা ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
এরআগে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও এদিন স্বাগতিকদের জন্য ছিল নিযমরক্ষার ম্যাচ। কারণ ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তিন ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। আর নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে সেই দলটির ব্যাটিংয়ের বেহাল দশা। মাত্র ২৪ ওভারে ৮২ রানে অলআউট তারা। দেশের ওয়ানডে ইতিহাসে এটি ছিল নবম সর্বনিম্ন রানের স্কোর করলো বাংলাদেশ।
বিশেষ করে এদিন শুরু থেকে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। মাত্র ১৬ রানে প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলে তারা। এনামুল হক বিজয়ের পর সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালও দ্রুত ফিরে যান সাজঘরে। ব্যাটসম্যানদের এই আসা-যাওয়া মিছিলটা পরেও আর থামেনি।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। লাকমল বোল্ড করেন এনামুলকে। এই ডানহাতি ওপেনার ৬ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। লাকমলের তৃতীয় ওভারে আরও দুটি উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশের।
গুনাথিলাকার সরাসরি থ্রোথে রান আউটে কাটা পড়েন সাকিব। দলীয় মাত্র ১৫ রানে তিনি ফেরেন ব্যাক্তিগত ৮ রান করে। এক বল বিরতি দিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে তামিমের অসাধারণ ক্যাচ ধরেন গুনাথিলাকা। গত তিন ম্যাচের হাফসেঞ্চুরিয়ান এদিন ফিরলেন মাত্র ৫ রানে।
পরে মাহমুদউল্লা ও মুশফিকের জুটিটাও বড় হয়নি। ২০ বলে ৭ রান করে লাকমলের বলে ফাইন লেগে দুস্মন্ত চামিরাকে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ। এরপর ২৩ রানের জুটি গড়ে সাব্বির রহমান ১০ রানে আউট থিসারার বলে।
লঙ্কার এই পেসার তার দ্বিতীয় উইকেট নেন আবুল হাসানকে (৭) মাঠছাড়া করে। ২৩তম ওভারে চামিরার তৃতীয় ও ষষ্ঠ বলে আউট হন নাসির হোসেন (৩) ও মুশফিকুর রহিম (২৬)।
পরের ওভারে মাশরাফিকে (১) ও রুবেল হোসেনকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ৮২ রানে গুটিয়ে দেন লাকশান সান্দাকান। লাকমল সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পান। আর ২টি করে উইকেট তুলে নেন থিসারা, সান্দাকান ও চামিরারা।

About জানাও.কম