বৃহস্পতিবার , মে 23 2019
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / দেশ পরিচিতি / অপার স্মভাবনার বাংলাদেশঃ বঙ্গবন্ধু দ্বীপের সম্ভাবনা ‘অব্যবহৃত’

অপার স্মভাবনার বাংলাদেশঃ বঙ্গবন্ধু দ্বীপের সম্ভাবনা ‘অব্যবহৃত’


বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা ‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড’ হতে পারে একটি বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র ও ব্লু ইকনমির (নীল অর্থনীতির) অন্যতম প্রতীক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দুই মিটার উচ্চে গড়ে ওঠা ৭ দশমিক ৮৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড’কে গেজেটের মাধ্যমে নামকরণ এবং সুষ্ঠুভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করাও জরুরি। তবে আলোচনায় আসার পরও এ দ্বীপের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হচ্ছে না। বিশেষত প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে দ্বীপটির ইকো-ট্যুরিজম সম্ভাবনা উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

জানা গেছে, সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর ও লোনাপানির মাছের খনির মাঝামাঝি বঙ্গোপসাগরের গভীরে জেগে ওঠা বিশাল ভূখণ্ড ‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড’। বলা হচ্ছে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২০ নটিক্যাল মাইল ও বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন উপকূল দুবলার চর-হিরন পয়েন্ট থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল দূরে সাগর গভীরে এই দ্বীপটি বাংলাদেশের আরেক ‘সেন্ট মার্টিন’।

২০১২ হতে ২০১৪ সালে বঙ্গোপসাগরে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে এক লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ২০১৬ বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ সদস্যের একটি গবেষণা দল। তারা মনে করেন, বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ডকে ঘিরে নীল অর্থনীতি বিকাশে উপকূলীয় ইকো ট্যুরিজম বিশেষ অবদান রাখতে পারে। এ গবেষণা কাযক্রমে নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম।

‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ডে’ প্রকৃতির সৃষ্ট গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে বলে জানা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমুদ্রতীরে অবস্থিত মালদ্বীপের মত বাংলাদেশের সমুদ্র তীরে জেগে ওঠা দ্বীপগুলিকে নীল অর্থনীতি বিকাশে সরকারি উদ্যোগ জরুরি হয়ে ওঠেছে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ডের চারপাশে সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল জল, নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির শব্দ, সৈকতে আছড়েপড়া সমুদ্রের ঢেউ, বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ মনকে নিয়ে যায় প্রকৃতির গভীরে। মাইলের পর মাইল দীর্ঘ এই সৈকতে বসে দেখা মেলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত জুড়ে ঘুরে ফিরছে কচ্ছপ, হাজারো লাল রঙের ছোট শিলা কাঁকড়া। স্বচ্ছ নীল জলে ঘুরছে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় সামুদ্রিক মাছ। কখনো কখনো দেখা মিলছে ডলফিনের। এখানকার নীল জলে নেই কোনো হাঙরের আনাগোনা। সৈকতে আছড়েপড়া ঢেউয়ে সার্ফিংয়ের আদর্শ জায়গা।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড যে কোনো দেশী-বিদেশী ইকোট্যুরিস্টের জন্য হতে পারে আকর্ষণীয় স্থান। তবে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের এ উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় স্থান বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ডে প্রচারের অভাবে নেই কোনো দেশি-বিদেশি ইকোট্যুরিস্টের আনাগোনা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের সমুদ্রবিজয়ের পর ব্লু-ইকোনমির কারণে এ দ্বীপটি শুধু প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমিই নয়, জলদস্যু দমন, চোরাচালান প্রতিরোধ ও সমুদ্র-নিরাপত্তায় এটি রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কোস্টগার্ড এই দ্বীপে করতে যাচ্ছে এইটি শক্তিশালী বেজ ক্যাম্প। বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ডে কোস্টগার্ডের বেজ ক্যাম্প নির্মাণ হলে ইকোট্যুরিস্টরা (প্রতিবেশ পর্যটক) নির্বিঘ্নে ঘুরে দেখতে পারবেন বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ডের প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য।

দেড় যুগ আগে জেগে উঠে দ্বীপটি। প্রকৃতির নিয়মে বছরের পর বছর ধরে বিশাল আয়তন ধারণ করা এ দ্বীপে সরকারি কোনো জরিপ হয়নি এখনো। তবে দ্বীপটির উপকূলে মাছ আহরণে থাকা জেলেদের দাবি, বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড প্রায় ১০ কিলোমিটার লম্বা ও পূর্ব-পশ্চিমে আট কিলোমিটার প্রশস্ত। বর্ষা মৌসুমেও বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ডের অধিকাংশ এলাকায় জোয়ারের পানি ওঠে না।

এ দ্বীপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রাকৃতিকভাবে এখানে জন্মাতে শুরু করেছে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ সুন্দরী, কেওড়া, গেওয়া, পশুর, গরান, ধুন্দল, বাইন, আমুর, টাইগার ফার্নসহ বিভিন্ন লতাগুল্ম ও অর্কিড। এখন এটি রূপ নিচ্ছে ম্যানগ্রোভ বনে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইকোট্যুরিস্টদের নিরাপত্তা ও সার্বিক বিষয়ে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ডে কোস্টগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্প স্থাপনের পাশাপাশি মেডিকেল ক্যাম্প, সুপেয় পানির জন্য প্রয়োজন দিঘি খনন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষায় প্রয়োজন পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার, আধুনিক বার, সুইমিং পুল, শপিং কমপ্লেক্স, হোটেল-মোটেল ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ। পর্যটকদের ন্যূনতম এ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড ইকোট্যুরিস্টদের জন্য হয়ে উঠবে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

এক যুগ আগে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা খুবই ছোট এই দ্বীপটিকে চিনত ‘পুতনির চর’বলে। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের মালেক ফরাজী নামের এক জেলে এ দ্বীপটির নামকরণ করেন বঙ্গবন্ধুর নামে। ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে মালেক ফরাজী ওই দ্বীপটির নাম ‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড’ সাইনবোর্ডে লিখে এনে টানিয়ে দেন। এর পর থেকে দ্বীপটির নাম হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড। বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড উপকূলে মাছ আহরণে থাকা একাধিক জেলের কাছ থেকে জানা গেছে এ তথ্য। কোস্টগার্ডও তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। তিন বছর আগে মারা যাওয়া মালেক ফরাজীর ‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড’ এখন গুগল মানচিত্রেও স্থান করে নিয়েছে।

About janaadmin517

Check Also

উপজেলা নির্বাচনে অনিয়ম করলে আইনি ব্যবস্থা : সিইসি

উপজেলা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান …

মন্তব্য করুন