Breaking News
Home / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / নতুন আবিস্কার / প্রথম ক্লোন ম্যাকাক বানর

প্রথম ক্লোন ম্যাকাক বানর


সম্প্রতি চীনের এক বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার পদ্ধতিতে জিনগতভাবে অভিন্ন লম্বা লেজওয়ালা দুই ম্যাকাক বানর জন্ম নিয়েছে। গবেষকরা বানর দুটির নাম দিয়েছেন ঝং ঝং এবং হুয়া হুয়া। চীনা ভাষায় ‘ঝংহুয়া’ শব্দের অর্থ চীনা জাতি বা জনগণ। সোমাটিক সেল ট্রান্সফার বা যে পদ্ধতিতে ক্লোন মেষ ডলি জন্ম নিয়েছিল সেই একই পদ্ধতিতে এই প্রথম কোন প্রাইমেট ক্লোন করা হলো। তাই বলে এরাই যে প্রথম ক্লোন বানর তা নয়। এর আগে ১৯৯৯ সালে এমব্লায়ো স্পিটিং নামে আরও সহজতর এক পদ্ধতিতে টেট্টা নামে এক রেসাস বানরের জন্ম দেয়া হয়েছিল। সেটা আমেরিকার ওরিগণ রাজ্যের এক গবেষণাগারে।
ক্লোন ম্যাকাক বানরের জন্ম দেয়ার সঙ্গে যুক্ত চীনা বিজ্ঞান একাডেমির নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউটের নন হিউম্যান প্রাইমেট রিসার্চ ফ্যাসিলিটির ডিরেক্টর কিয়াং সান বলেছেন প্রাইমেট বায়োলজি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে যেগুলো এই অতিরিক্ত মডেলের সাহায্যে পর্যালোচনা করে দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, যে জিনটি বদলানো হয়েছে সেটি বাদে এভাবে একই জিনগত পটভূমিসম্পন্ন ক্লোন বানর তৈরি করা যাবে। এতে করে শুধু জিনগত মস্তিষ্কের রোগ নয় উপরন্তু ক্যান্সার, ইমিউন, বিপাকগত বৈকল্যের মতো সমস্যার জন্য উদ্ভাবিত ওষুধ ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে ব্যবহারের আগে সেগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য সত্যিকারের মডেল তৈরি করা যাবে।
ঝং ঝং ও হুয়া হুয়ার জন্ম হয়েছে সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার (এসসিএনটি) নামক কৌশলে। এই কৌশলে ২০ বছর আগে ডলির জন্ম হয়েছিল। এই কৌশলে গবেষকরা ডিম্বকোষ থেকে নিউক্লিয়াস সরিয়ে নিয়ে পৃথকীকৃত দেহকোষের আরেক নিউক্লিয়াস সে জায়গায় স্থাপন করে থাকেন। এই পুনর্গঠিত ডিম্বানু তখন বদলি নিউক্লিয়াসের ক্লোনে পরিণত হয়। ইঁদুর বা গরুর মতো অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলোর তুলনায় বানরের পৃথকীকৃত দেহকোষের নিউক্লিয়াস সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার (এসসিএটি) কৌশলটির প্রতিরোধী প্রমাণিত হয়েছিল। কিয়াং সান ও তার সহকর্মীরা এপিজেনেটিক মডিউলেটর প্রয়োগ করেই মূলত এই চ্যালেঞ্জটি কাটিয়ে
ওঠেন। নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার জিনগুলোকে একবার চালু করে একবার বন্ধ করে ভ্রণের বিকাশ ব্যাহত করলে এপিজেনেটিক মডিউলেটর প্রয়োগ করা হয়। গবেষকরা দেখতে পান যে সংযোজন কলার কোষ ফাইব্রোব্লাস্টের মতো পৃথকীকৃত ভ্রণ কোষ থেকে নেয়া নিউক্লিয়াস স্থানান্তর করার ফলে এই সাফল্যের হার বেড়ে গেছে। ঝং ঝং ও হুয়া হুয়া হলো একই ম্যাকাক বানরের ভ্রণের ফাইব্রোব্লাস্টের ক্লোন। প্রাপ্তবয়স্ক ডোনারের কোষও ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ক্লোষগুলো জন্মের কয়েক ঘণ্টা পর মারা যায়।
সান বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করেছিলাম। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র একটাই কাজে দিয়েছে। অনেক ব্যর্থতার পর আমরা সাফল্যের সঙ্গে একটা বানরকে ক্লোন করার উপায় খুঁজে পেয়েছিলাম।’
এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত পোস্ট ডস্টোবাল ফেলো ঝেন লিউ সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার (এসসিএনটি) পদ্ধতিটি নিয়ে তিন বছর চর্চা করেন এবং উৎকর্ষার সর্বোচ্চ মাত্রায় নিয়ে যান। তিনি ডিম্বেকোষ থেকে নিউক্লিয়ার উপাদানগুলো দ্রুত ও নিখুঁতভাবে অপসারণ এবং নিউক্লিয়াস ডোনার সেল নিউক্লিয়াস অপসারিত ডিম্বানু সংযোজনের নানাবিধ পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখেন। পৃথকীকৃত নিউক্লিয়াসে অবদমিত জিনগুলো পুনরায় সক্রিয় করে তোলা এপিজেনেটিক মডিউলেটরের বাড়তি সহায়তায় তিনি বিকল্প মা বানরের গর্ভধারণ এবং ভ্রƒণের স্বাভাবিক বিকাশে অনেক উচ্চহার অর্জনে সক্ষম হন।
এই প্রকল্পের আরেক গবেষক মু মিং পু বলেন, সোমাটিক সেল নিউক্লিয়াস ট্রান্সফার পদ্ধতিটি এক জটিল পদ্ধতি। যত দ্রুত এ কাজটা করা যায় ততই ডিম্বের কম ক্ষতি হয়। আর ড. লিউ এ কাজে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। এক্ষেত্রে প্রচুর চর্চা প্রয়োজন।
এদিকে ঝং ঝং ও হুয়া হুয়ার শারীরিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বানর শিশু দুটিকে বোতলে দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। ওদের বয়সী বানরদের তুলনায় তারা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছে। আগামী মাসগুলোতে আরও ম্যাকাক ক্লোন জন্ম নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র : লাইফ সায়েন্স

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন