Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে চরাঞ্চলের কৃষকরা

ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে চরাঞ্চলের কৃষকরা


রংপুরের গঙ্গাচড়া চরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে ভুট্টা চাষের দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার তামাকের চেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। তামাকের চেয়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষকরা । তিস্তার বুক চিরে জেগে ওঠা মাঠ জুড়ে দেখা যাচ্ছে ভুট্টা গাছের সবুজ পাতার সমাহার। এ যেন সবুজের এক সবুজ দিগন্ত। ভুট্টা গাছের সঙ্গে মিশে আছে কৃষকদের মধুর হাসির ঝিলিক। ভুট্টা চাষের জন্য পরিবেশ অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন আশা করছে কৃষকরা।
তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের কৃষকরা বেশি লাভের আশায় গত বছর অধিকাংশ জমিতে তামাক চাষ করে আসছিল। সম্প্রতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে তামাক চাষে জমির উর্বরতা নষ্ট, পরিবেশ দূষণ ও তামাকের ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরেন প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে। অন্যদিকে একই জমিতে ভুট্টা চাষ করে অধিক লাভবান হওয়ায় বিষয়টি কৃষকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। কৃষি অফিসের এমন আশ্বাসে এখন দিগন্ত জুড়ে তিস্তার মাঠে বাতাসে দোল খাচ্ছে, সবুজ-শ্যামল ভুট্টা আর ভুট্টা। উপজেলা নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, এ বছর তামাক চাষ ছেড়ে দিয়ে ভুট্টা চাষ করছি। গত বছর বন্যা ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলাম তা এ বছর ভুট্টা চাষ করে পুষিয়ে নিতে পারব বলে মনে করছি। উপজেলা কোলকোন্দ ইউনিয়নের আলেকিশামত ক্লিনিকপাড়া গ্রামের নওশা মিয়া বলেন, এ বছর ভুট্টা ভালো ফলনের আশা করছি। প্রাকৃতিক আবহাওয়ার কারণে কাটুই পোকার লক্ষণ দেখা দিলে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সেচ দেয়ার পোকাগুলো ভেসে উঠলে পাখি সেগুলো খেয়ে ফেলে এবং পোকাগুলো মারা যায়। এর ফলে তারা মনে করেন ভুট্টা চাষে আর কোনো সমস্যা হবে না। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলা তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলসহ ৩ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে এসিআই, করবি, এলিচ ও মিরাকেল জাতের ভুট্টা চাষ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিয়মিত চাষিদের পরামর্শ এবং সরকারি প্রণোচনা দিয়ে আসছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন