Breaking News
Home / শিক্ষা / দেশের প্রথম নারী উপাচার্যের ৪ বছরের সাফল্য

দেশের প্রথম নারী উপাচার্যের ৪ বছরের সাফল্য


২০১৪ সালে দেশের প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত করতে নিরলস চেষ্টা করে গেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭ বছরের ইতিহাসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব কম সংখ্যক উপাচার্য তাঁর মেয়াদকাল পূর্ণ করতে পেরেছেন। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমর্ধী উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। তার প্রশাসন সাফল্যের সঙ্গে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃংখলা বজায় রেখে এবং কোন ধরনের উল্লেখযোগ্য অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পূর্ণ মেয়াদকাল শেষ করতে যাচ্ছেন। আগামী মার্চ মাসের ২তারিখ তার উপাচার্যের মেয়াদের ৪বছর পূর্ণ হবে। কিন্তু এর আগেই দেশের প্রথম এই নারী উপাচার্যের সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে ৪বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রতি তাকে এ নিয়োগ দিয়েছেন।

জানা যায়, দেশের প্রথম এই নারী উপাচার্য ২০১৪ সালের ২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অস্থিতিশীল পরিবেশে ও ক্রান্তিলগ্নে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তখন সবেমাত্র শিক্ষকরা আন্দোলনের মাধ্যমে উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। তিনি পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক এম এ মতিন। এরপর উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম জয় লাভ করলে তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।

তারপর থেকে সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্রমান্বয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলেন দেশের প্রথম এই নারী উপাচার্য। বিগত ৪ বছরে ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভেদ অপসারণ করে তিনি একটি পারস্পরিক আস্থা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতামূলক ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন বলে মনে করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এছাড়াও উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের প্রশাসন গত ৪বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পাসকে ডিজিটাল নিরাপত্তার আওতায় এনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। বিগত ১৯ বছর ধরে বন্ধ থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন উপাচার্যের নেতৃত্বে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

পাশাপাশি উপাচার্যের দায়িত্বকালে তিনি নতুন দুইটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন। নতুন চালু হওয়া ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেনসিং এবং বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

এছাড়া বিগত প্রশাসনের রেখে যাওয়া ১০টি নতুন বিভাগের জন্য উপাচার্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবলের ব্যবস্থা করেছেন ।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামের অধিকতর উন্নয়নের জন্য ডিপিপি তৈরীর অংশ হিসেবে ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে থ্রিডি মাস্টারপ্লান প্রণয়ন করা হয়েছে যার ভিত্তিতে ১২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প একনেক -এ চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে উপাচার্য জানিয়েছেন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের উৎকর্ষতা বৃদ্ধির জন্য বঙ্গবিদ্যা সম্মেলন এবং অ্যাডভান্সড ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সস শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনসহ উপাচার্যের পৃষ্ঠপোষকতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার/কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষকদের জন্য মাসিক গবেষণা ভাতা বৃদ্ধি করে ৩০০০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে ইউজিসি থেকে গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সহকর্মীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষাকালীন ছুটিকে সক্রিয় সার্ভিস হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও পরিদর্শনের সম্মানী ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের (যেমন, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। পরিবহন সংকট নিরসনের জন্য নতুন এসি বাস ক্রয় এবং চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ও ঔষধ সরবরাহ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য লাইব্রেরীতে সিট সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
এছাড়াও গত বছর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে এবং ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতির লক্ষ্যে মুক্তিসংগ্রাম নাট্য উৎসব ২০১৭ আয়োজন করা হয়।

এই উৎসবের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, নাট্যকার, সাংবাদিকসহ গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। যা সাংস্কৃতিক রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। নতুন নিয়োগ পাওয়ার পর উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে আগামী ৪বছরের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত ৪বছরের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে আমাকে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি আমার সাফল্যের স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে চলমান উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখবো এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, শিক্ষা ও গবেষণাধর্মী, সেশনজটমুক্ত, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবান্ধব, বৈষম্যমুক্ত একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে নিরালসভাবে কাজ করে যাব।’

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন