Breaking News
Home / বাংলাদেশ / দুর্নীতি নয়, জনগণের ভাগ্য গড়তে রাজনীতি করি: প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতি নয়, জনগণের ভাগ্য গড়তে রাজনীতি করি: প্রধানমন্ত্রী


সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ইচ্ছা থাকলে একটি সরকার দেশের উন্নয়ন করতে পারে আমরা তা প্রমাণ করেছি। বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। আমরা প্রমাণ করেছি ও বারবার অগ্নিপরীক্ষা দিয়েছি যে দুর্নীতি করতে নয়, জনগণের ভাগ্য গড়তেই আমরা রাজনীতি করি, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনীত প্রস্তাবের ওপর সরকার ও বিরোধী দলের মোট ২৩৬ জন সংসদ সদস্য সর্বমোট ৬৪ ঘণ্টা আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ধন্যবাদ প্রস্তাবটি সংসদে সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল তখন সংসদে যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হতো, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কিন্তু বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি অত্যন্ত গঠনমূলক সমালোচনা করছেন। গণতান্ত্রিক চর্চাটা কীভাবে হতে পারে তা এই সংসদে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘টানা দুই মেয়াদে ধারাবাহিকভাবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকার সুফল পাচ্ছে দেশের জনগণ। আমরা রাজনীতি করে জনগণের কল্যাণে ও তাদের উন্নয়নের জন্য। জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করেই রাজনীতি করি, একটাই লক্ষ্য দেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক মুক্তি দেয়া।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি দেশের জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ৫ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে মর্যাদায় আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারতো। ইচ্ছা থাকলে যে একটি দেশের উন্নয়ন করা যায়, সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ এটা ঘোষণা দিয়েছিলাম। এটা আমরা করেছি। অগ্রগতির উন্নয়ন সূচকে বিশ্বের ৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশের ক্রয় ক্ষমতায় দিক থেকে সারা বিশ্বে ৩২তম স্থানে রয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদ্যুতের জন্য দেশে হাহাকার ছিল। বিএনপির আমলে দিনে ৫/৬ ঘন্টা লোডশেডিং ছিল নিত্য দিনের ব্যাপার। বর্তমান সরকার ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।’

কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ প্রভাইডারদের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের মাধ্যমে চলছে, তাই প্রকল্পে যারা কাজ করছেন তাদের জাতীয়করণ করা সম্ভব নয়। যারা থাকতে চান না তারা চলে যেতে পারেন, অন্য জায়গায় চাকরি নিয়ে যেতে পারেন। তাই প্রকল্পটি চলছিল, আগামীতেও চলবে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছি। যতদিন তারা নিজ মাটিতে ফিরে না যায় ততদিন যাতে একটু ভালভাবে থাকে সেই ব্যবস্থা করেছি। ১০ লাখ ৭৮ হাজার রোহিঙ্গাদের আইডি কার্ড করে দিয়েছি, এতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে। আমরা মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি, কিন্তু তাদের সঙ্গে যে আচরণ মিয়ানমার করেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।’

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে সংসদ নেতা বলেন, ‘ইতোমধ্যে সেতুর দুটি স্প্যান বসে গেছে। এই সেতু নিয়ে অনেক ঝড়ঝাপটা গেছে। তবে যে অভিযোগটা আমাদের দেয়া হয়েছে সেটা যে গালগপ্প ছিল তা কানাডার আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।’

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন