বৃহস্পতিবার , জুন 20 2019
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / যুদ্ধাপরাধী-খুনি-দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় আনবেন না: প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধাপরাধী-খুনি-দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় আনবেন না: প্রধানমন্ত্রী


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এতিমের টাকা যারা চুরি করেছে তারা যেন আর ক্ষমতায় না আসতে পারে। জনগণের প্রতি আমি আহ্বান জানাই যুদ্ধাপরাধী-খুনি-দুর্নীতিবাজদের আর ক্ষমতায় আনবেন না। এ ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকবেন।’

এসময় তিনি তাঁর সরকারের সময় উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ বিশ্বমঞ্চে সম্মানের আসন পেয়েছে। আজ বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশকে সম্মান করে। আমরা আর কখনও কারও উপর নির্ভরশীল হতে চাই না, কারও কাছে হাত পেতে ভিক্ষা নিতে চাই না।’

বুধবার (৭ মার্চ) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ইতিহাস কখনও মুছে ফেলা যায় না। শত চেষ্টার পরেও স্বাধীনতাবিরোধীরা জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ মুছে ফেলতে পারেনি। আজ এই ভাষণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের ক্ষমতায় আসে স্বাধীনতাবিরোধীরা। তখন ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর কোনও অধিকার ছিল না। যেখানেই এই ভাষণ বাজানো হতো সেখানেই তারা বাধা দিতো। আমি স্যালুট করি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। শত নির্যাতন-বাধার পরও তারা এ ভাষণ বাজিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আজ যেখানে শিশুপার্ক ঠিক সেখানে সেদিনের মঞ্চ ছিল। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল সেখানে উপস্থিত থাকার। জাতির পিতা সেখানে দাঁড়িয়েই ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন।’

“বঙ্গবন্ধুর সেই ঘোষণা সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে যায়। সত্যই প্রতিটি ঘরে দুর্গ গড়ে উঠে। পাকিস্তানিরা যখন গণহত্যা শুরু করলো তখন বঙ্গবন্ধু ইপিআরের ওয়ারলেস ব্যবহার করে স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বলছিলেন। বাংলার মানুষ সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে”- যোগ করেন মুজিবকন্যা।

জাতির পিতা সারাজীবন বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেখানেই বঙ্গবন্ধু অন্যায় দেখেছেন সেখানেই তিনি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই সামান্য সময়েই তিনি সারাবিশ্বে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়, মানুষের অভাব দূর, রাস্তাঘাট সংস্কার, এককোটি শরনার্থীর পুনর্বাসনসহ অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু যখনই দেশ ভালোভাবে চলতে শুরু করে, তখনই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। তিনি দেশ স্বাধীন করেছিলেন, এটাই কি তাঁর অপরাধ ছিল?’

যে দেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসে, সে দেশের কি উন্নয়ন হয়- এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসে। যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিয়ে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা করে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল।’

বিএনপি-জামাত জোট সরকার দেশকে নরকে পরিণত করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তারা পাকিস্তানি শোষকদের মতোই দেশবাসীর ওপর নির্মম নিপীড়ন চালিয়েছে। মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে।’

২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারার কারণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশের অনেক উন্নয়ন করেছিলাম। কেবল দেশের গ্যাস বিদেশিদের কাছে বিক্রি করতে চাইনি। আর সেজন্যই ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি।’

সেই সময়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তখন দেশের গ্যাস উত্তোলন করার প্রক্রিয়া চলছিল। আমেরিকান কোম্পানি সেই গ্যাস তুলে ভারতের কাছে বিক্রি করবে। কিন্তু আমরা বললাম, গ্যাসের মালিক জনগণ। আমাদের জনগণের জন্য ৫০ বছরের রিজার্ভ নিশ্চিত করতে হবে, তারপর গ্যাস বিক্রির সিদ্ধান্ত হবে। দেশের জনগণের এই স্বার্থ দেখেছিলাম বলে আমাদের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত হলো, ষড়যন্ত্র হলো। আওয়ামী লীগ ভোট বেশি পেয়েছিল। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। দেশের মানুষের স্বার্থ দেখার কারণে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়া হলো না।’

বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বারবার বিজয় ছিনিয়ে এনেছে বলেও ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি-জামাত দেশটাকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের যে অভয়ারণ্য বানিয়েছিল তা থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

About janaadmin517

Check Also

১১৬ উপজেলায় আ’লীগের জয়জয়কার

দ্বিতীয় দফায় ১১৬ উপজেলায় ভোট নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থীদের জয়জয়কার। বেশির ভাগ উপজেলাতেই …

মন্তব্য করুন