Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / যেভাবে শুরু হয়েছিল সিরিয়া যুদ্ধ

যেভাবে শুরু হয়েছিল সিরিয়া যুদ্ধ


স্বৈরশাসন থেকে মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে ২০১১ সালে সমগ্র আরব ভূখণ্ডজুড়ে শুরু হয়েছিল ‘আরব বসন্ত’। প্রথমে তিউনেশিয়ায় বেন আলী সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হলেও আরব বসন্তের সেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। ওই বছরই ১৫ মার্চ সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে দেশটির মুক্তিকামী তরুণরা।

এরপর থেকে আট বছর ধরে চলছে যুদ্ধ। এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে চার লাখ ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ। আহত হয়েছে ১০ লাখের বেশি। আর গৃহহীন হয়েছে এক কোটি ২০ লাখ মানুষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক।

মত প্রকাশের স্বাধীনতার অভাব আর আর্থিক সংকট থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সিরিয়ায় আন্দোলন শুরু হলেও পরে সরকারি নিপীড়ন যেন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছিল।

আরব বসন্তের মধ্য দিয়েই পতন হয়েছিল তিউনেশিয়া ও মিসরের স্বৈরশাসনের। ওই মার্চেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে ১৫ তরুণকে আটক করে আসাদ বাহিনী। এদের একজনের বয়স ছিল ১৩ বছর। তাকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।

এরপর থেকে শত শত মানুষ হত্যা আর কারারুদ্ধ করতে শুরু করে আসাদ সরকার। ২০১১ সালের জুলাই মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি অংশ বিদ্রোহ করে সরকার উৎখাতে ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ গঠন করে। শুরু হয় গৃহযুদ্ধ।

২০১১ সালে আসাদবিরোধী আন্দোলনে কোনো বিভক্তি ছিল না। কিন্তু সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পরই বিভক্তি শুরু হয়। দেশটির বেশিরভাগ মানুষই সুন্নি মুসলিম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই সরকার পরিচালিত হচ্ছিল আলাবি শিয়া সম্প্রদায় দ্বারা। আসাদ নিজেও ওই সম্প্রদায়ের সদস্য।

বাবা হাফিজ আল-আসাদের উত্তরসূরী হিসেবে ক্ষমতায় এসেছিলেন বাশার আল-আসাদ। ১৯৮২ সালে হামা শহরে মুসলিম ব্রাদারহুডের ওপর বড় ধরনের নিপীড়ন শুরু করেন হাফিজ। এতে নিহত হয় দলটির লক্ষাধিক লোক। মূলত ব্রাদারহুডপন্থীরাই নেতৃত্ব দিচ্ছিল বাশারবিরোধী বিপ্লবে।

২০১৫ সাল নাগাদ সিরিয়া সরকারকে প্রায় উৎখাত করে ফেলেছিল বিদ্রোহীরা। কিন্তু হঠাৎ করেই ওই বছর বাশারের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয় রাশিয়া। এই প্রথম সিরিয়া যুদ্ধে বিদেশী হস্তক্ষেপ শুরু হয়। প্রেক্ষাপট পাল্টে যায়। আসাদকে সমর্থন দিতে শুরু করে শিয়া প্রধান রাষ্ট্র ইরান, ইরাক ও লেবাননের হেজবুল্লাহ। বিপরীত দিকে তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরব সমর্থন দেয় বিদ্রোহীদের। সিরিয়া কার্যত পরিণত হয় একটি প্রক্সি যুদ্ধক্ষেত্রে।

বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে সিরিয়ায় ঘাঁটি গড়ে আইএস। ২০১৬ সালে আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। এছাড়া কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনটির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

আসাদ বিরোধীদের অস্ত্র দিতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৪ সাল থেকে আইএসঅধ্যুষিত এলাকায় বোমা হামলা শুরু করে আন্তর্জাতিক জোট। পরে হেজবুল্লাহ ও আসাদের পক্ষের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত করে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এই সময়ের মধ্যে হয়েছে নানা সমঝোতা চেষ্টা। কিন্তু কিছুই কাজ আসেনি। ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘের উদ্যোগও। বর্তমানে ভেঙে পড়েছে পুরো সিরিয়া। সংঘাতের শিগগিরই কোনো সমাধান হবে- এমন আশাও করা যাচ্ছে না।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন