সোমবার , সেপ্টেম্বর 16 2019
Breaking News
Home / শিল্প-সাহিত্য / ভাস্কর অলি মাহমুদঃ যার হাতে শৈল্পিক ছোঁয়া

ভাস্কর অলি মাহমুদঃ যার হাতে শৈল্পিক ছোঁয়া


মোহাম্মদ ওমর ফারুক: একটি গল্প দিয়ে শুরু যাক, বীরশ্রেষ্ঠ মতিরউর রহমানকে নিয়ে বাংলার ঈগল নামে একটি ভাস্কর্য। যা মতিউর রহমানের জন্মভূমি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার ঢাকা সিলেট মহা সড়কের মাহবুদাবাদ নামক স্থানে। মতিউরনগর যাওয়ার প্রবেশমুখে এই ভাস্কর্যটি চোখে পড়ে। ভাস্কর্যটি নির্মানের সময় নানান তির্যক কথা শুনতে হয় ভাস্কর্রকে। কেউ বলে বিমান ডাকাত নিয়ে না বানিয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধি নিয়ে বানালে ভালো হয়। এগুলো বানিয়ে কি লাভ। এমন নানান কথা। তারপরও থেমে থাকেননি তিনি। বলছি নতুন প্রজন্মের ভাস্কর অলি মাহমুদের কথা। বাংলার ঈগল ভাস্কর্যটি নিয়ে শুনবো তার মুখ থেকেই, তিনি বলেন, এই কাজটি ত্রিমাত্রিক এ ভাস্কর্য। একটি স্তম্ভে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের একটি মুরাল করা হয়েছে। ২ স্তম্ভে তাঁর জীবনী রয়েছে। আর একটি স্তম্ভ খোলা রাখা হয়েছ। যা কিনা খোলা আকাশকে বুঝানো হয়েছে। যে আকাশে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান পাখির মত উড়েছিলেন। এছাড়াও আলোক সজ্জা ও বাগানের মাঝে লাল সবুজের একটা সংমিশ্রণ ঘটেছে।
আরেকটি ভাস্কর্য সেবাবৃত্ত। আধুনিক ভাস্কর্য শিল্পে এটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেবাবৃত্ত ভাস্কর্যটি নরসিংদী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্হিত। এস এস পাইপ, মেটাল ও টেরাকোটার সমন্বয়ে এটি এদেশের শিল্পকলায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই তো মাত্র দু’টির উদাহন।এমন আরো অনেক ভাস্কর্য নির্মান হয়েছে তার হাত দিয়ে।

আকৃতি থেকে প্রকৃতি প্রতিটি অংশে থাকে শৈল্পিক ছোঁয়া, প্রতিটি গাঁথুনিতে থাকে মেধাবী চিন্তার জোগান। এমনটাই হচ্ছে ভাস্কর অলি মাহমুদের কাজ। নিজের মনের ভাবনা ও শিল্পবোধের সমন্বয়ে নির্মাণ করেন একেকটি নান্দনিক শিল্পকর্ম, যা দেখে নতুন প্রজন্মে বিস্মিত হচ্ছে। তবে এসব শিল্পকর্ম শুধু আনন্দ বা বিস্মিত হওয়ার জন্য নয়, এর পেছনে থাকে একটি গল্প ,বার্তা। যা সমাজের নানা প্রেক্ষাপট থেকেই সৃষ্টি। একজন ভাস্কর সমাজের হাসি-কান্না, দুঃখ- উচ্ছ্বাস সবকিছুই মেলে ধরেন তার কাজে।
ছোট বেলা থেকেই অলি মাহমুদ শৈল্পিক মন নিয়ে বেড়ে ওঠে। এমনটাই বুঝা যায় তার কাজে। কখনো ডাক্তার বা প্রকৌশলি হওয়া স্বপ্ন দেখতেন না তিনি। তবে খুব কওে চাইতেন ফুটবলার হবেন। কিন্তু ঝোক ছিল ছবি আকার প্রতি। দিনে ছবি না আকলে তার দিনটাই যেন অপূর্ন থেকে যেত। সেই ধারাবাহিকতায় স্কুল,কলেজে ছবি আকার প্রতি শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন। স্কুল,কলেজ শেষে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে ভর্তি হন। কিন্তু ওই যে বললাম ছোট বেলা থেকেই শৈল্পিক মন নিয়ে বেড়ে ওঠছেন। এক বছর পড়ারর পর হুট করে ভ’ত চাপলো চারুকলায় পড়বে। যে ভাবনা সেই কাজ। ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান হয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয় চারু কলাতে ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগ ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম বিভাগে উর্ত্তীন হন তিনি। এমন পাগলামির পরিবারের শায় ছিল কেমন,এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,
সব কিছু বাবা মা সহজে মেনে নেন। বিশেষ করে বাবার উৎসাহ ও স্বাধীনতা কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগায়। তবে মা চান ছেলে সরকারি চাকরী করুক।বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজনরা বলতো এ বিষয়ে পড়ে কি করবে? এর তো কোন ভবিষৎ নেই। যদিও তারা এসব বলার পেছনেও অনেক কারন আছে। আমাদের দেশে শিল্পকলার প্রসারে এখনো অনেক বাধা আছে। একটা কথা প্রচলিত হয়ে গেছে ছবি আকা নিষিদ্ধ,এদেশের বেশিরভাগ মানুষ ভাস্কর্যকে মূর্তি বলে ।আসলে ভাস্করৃয আর মূর্তি এক জিনিস না ।শুধুমাত্র ভাস্কর্য নিয়ে আলাদা ভাবনা থাকলেও শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি আমার দুর্বলতা অনেক।
নরসিংদির ছেলে অলি ,এই পর্যন্ত প্রায় ১৭টি ভাস্কর্য নির্মান করেছেন।জীবনের প্রথম ভাস্কর্যটি নির্মান করেছেন মার্স্টাসে পড়ার সময়। সেই অনুভুতি ছিল অন্যরকম। শিল্পীর কাজে মাতৃভূমির প্রতি অগাত ভালোবাসা ও দেশীয় সংস্কৃতি ফুটে ওঠে।তার প্রতিটি ভাস্কর্যে পোড়া মাটির কাজ রাখেন। এতে করে এদেশের প্রাচীন ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্ঠা করেন তিনি।
শুধু ভাস্কর্য নয়। ছবি একেও মন কেড়ে নিয়েছেন সবার। আয়োজন করেছেন একক চিত্র প্রদর্শনী। শখের বশে আকেন বইয়ের প্রচ্ছদ। করেন সাহিত্য চর্চা। তার সম্পাদিত শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক “বাংলা দর্পণ” মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার জন্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে তিনি।
তরুন সংগঠক হিসেবে সামাজিকও সাংস্কৃতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে ইতোমধ্যে সফলতার পরিচয় রেখেছেন। এছাড়া নরসিংদির তিনটি স্কুলে সপ্তাহে একদিন বাচ্চাদের সেচ্ছায় ছবি আকা শেখান। মনের তৃপ্তি থেকে।
ভাস্কর্য ভাবনা নিয়ে তিনি জানান, কাজতো কেবল শুরু করেছি,মনে রাখার মতো কিছু কাজ করতে চাই।সবার সহযোগিতা পেলে ভালো কিছু কাজ উপহার দিবো।

About জানাও.কম

Check Also

দীর্ঘশ্বাসের দ্রাঘিমা —- – মনিরা সুলতানা

গুনতি’তে বেশ হাত পাকিয়েছ আজকাল ! স্তব্ধ দুপুরের নিঃশ্বাস ছুঁয়ে বলে দিতে পারো, রাতের অভিসারের …

মন্তব্য করুন