Breaking News
Home / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / জৈবজ্বালানি উৎপাদনেই চিনিশিল্পের ভবিষ্যৎ

জৈবজ্বালানি উৎপাদনেই চিনিশিল্পের ভবিষ্যৎ


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বের উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশের সাথে তাল রেখে বাংলাদেশের চিনিশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে চিনিকলগুলোতে চিনি ও গুড়ের পাশাপাশি জৈবজ্বালানি বা ইথানল উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই। তারা মনে করেন, দেশে যে হারে আখের চাষ দিন দিন কমছে, তাতে এ শিল্পকে ধরে রাখতে হলে চিনিকলে ইথানল তৈরি করাই সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে কৃষক ও ‍চিনিশিল্প বেঁচে থাকবে।

তারা বলেন, বিশ্বে জৈবজ্বালানি হিসাবে মূলত ইথানল ব্যবহার করা হয়। আর আখের রস বা মোলাসেস (চিটাগুড়) থেকে প্রথমে ইথানল তৈরি করা হয়। এই ইথানল গ্যাসোলিন (পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল) এর সাথে ২০-২৫% হারে মিশ্রিত করে অথবা পুরোটাই সরাসরি ইঞ্জিনচালিত যানবাহনে ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে ইঞ্জিনের সামান্য কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।

তারা বলেন, গ্যাসোলিনের (পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল) পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে ইথানল ব্যবহার করলে ৯০% কার্বন ডাই-অক্সাইড (গ্রীনহাউজ গ্যাস) নিঃসরণ কম হয়। এটি ব্যবহারে ইঞ্জিনের শব্দ কম হয় এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বায়ুদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্যই, আধুনিক বিশ্বে ইথানলকে টেকসই জৈবজ্বালানির অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তারা বলেন, আখ উৎপাদনে শীর্ষ দেশ ব্রাজিল তার মোট উৎপাদনের ৫৬ শতাংশ আখ জৈবজ্বালানি (ইথানল) উৎপাদনে ব্যবহার করে এবং প্রতিটি ইঞ্জিনচালিত গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে ২০-২৫ শতাংশ ইথানলমিশ্রিত গ্যাসোলিন ব্যবহার করছে ব্রাজিলিয়ানরা।

উল্লেখ্য, জ্বালানি নিরাপত্তার কথা ভেবে ভারত ২০০৯ সালে জৈবজ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যে নীতিমালায় চলতি ২০১৭ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ইথানলমিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। চীনেও ২০২০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত গ্যাসোলিন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। শুধু মাত্র চীন ও ভারত নয় যেসব দেশে আখ উৎপাদিত হয় যেমন পাকিসস্তান, তুরস্ক, মেক্সিকো, থাইল্যান্ডসহ প্রায় সব দেশই এ পথে হাঁটছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে এখন আখ উৎপাদন করে চাষীর পাশাপাশি চিনিকলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দেশেরও বিরাট লোকসান হচ্ছে। তাই এদেশে আখ উৎপাদনের সাথে জড়িত লাখ লাখ চাষী ও চিনিকলকে অপমৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখে অন্যান্য দেশের মত লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে জৈবজ্বালানি তৈরির বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে শুধুমাত্র কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে মোলাসেস (চিটগুড়) থেকে ইথানল তৈরি করা হয় এবং তা পানীয় হিসেবে ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার হয়। কিন্তু জৈবজ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় না।

বিশেষজ্ঞরা এটাও বলেন, যেহেতু সুগার মিলগুলো সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান, তাই চিনির দাম বিশ্ববাজারে খুব বেড়ে গেলে সরকার চাইলেই মিলে জৈবজ্বালানি উৎপাদন কমিয়ে চিনি উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে পারবে।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন