Breaking News
Home / পাঁচ-মিশালী / চিন্তা-চেতনা / ‘৫০ সালেই পানি সংকটে পড়বে ৫০০ কোটি মানুষ

‘৫০ সালেই পানি সংকটে পড়বে ৫০০ কোটি মানুষ


জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন ‍ক্রমেই পৃথিবীকে হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর মধ্যে আবার জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জলজ অঞ্চলগুলো আরও প্লাবিত হবে এবং শুষ্ক অঞ্চলগুলো আরও শুষ্ক হবে। তাই পানির এই চাহিদা আরও বাড়বে।

বিশ্ব জলবায়ুর ভারসাম্য ধরে রাখতে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠন সেমিনার ও সম্মেলনে মিলিত হচ্ছে। জলবায়ুর এই চ্যালেঞ্জকেই পরিবেশবিদেরা একুশ শতকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন।

বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর মধ্যে আবার জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জলজ অঞ্চলগুলো আরও প্লাবিত হচ্ছে এবং শুষ্ক অঞ্চলগুলো আরও শুষ্ক হচ্ছে। তাই পানির এই চাহিদাও আরও বাড়ছে।

আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথে সবচেয়ে বড় হয়ে সামনে আসছে পানির সংকট। বাংলাদেশের মতো বিশ্বের বহু দেশের নদ-নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কোনোরকম এখনও বেঁচে আছে এমন অনেক নদীর পানিও সাগর পর্যন্ত পৌঁছুতে পারছে না। কোথাও কোথাও দিক পরিবর্তিত হয়েছে, বাঁধ দেয়া হয়েছে।

অথচ গত ১০০ বছরে বৈশ্বিক পানির চাহিদা ছয়গুণ বেড়েছে। আর প্রতি বছর এ চাহিদা এক শতাংশ করে বাড়ছে।

বর্তমান বিশ্বে পানি সংকট দ্রুত বাড়ছে। এটি শত শত কোটি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তুলনামূলক এইসময়ে আফ্রিকার দেশগুলোতে পানির সংকট সবচেয়ে তীব্রতর। ২০১৫ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্টে পানি সংকটকে বৈশ্বিক হুমকির তালিকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শরণার্থী সংকট ও সাইবার আক্রমণের উপরে স্থান দেয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভূ-গর্ভস্থ পানি অন্তত বিশ্বের ৫০ ভাগ পান করা ও ৪০ ভাগ কৃষিতে ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়৷কিন্তু সেই পানি প্রাকৃতিকভাবে মাটির নিচে একই হারে সেসব ভূগর্ভস্থ অ্যাকুইফায়ারে যুক্ত হয় না, যেমনটা বৃষ্টিতে মাটির উপরিভাগের জলাশয়ে ভরাট হয়৷ তাই ভূ-গর্ভস্থ পানিকে আর নবায়নযোগ্য বলা যায় না৷

সবশেষ সম্প্রতি জাতিসংঘের দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ডেভেলপমেন্টের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের ৫০০ কোটিরও বেশি মানুষ পানির সংকটে ভুগবে। জলবায়ু পরিবর্তন, পানির চাহিদা বৃদ্ধি ও দূষিত পানির সরবরাহের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। নদী, হ্রদ, পানির স্তর, জলাভূমি ও জলাধারের ওপর চাপ কমানো না হলে ভবিষ্যতে সংঘাত সৃষ্টি ও সভ্যতা বিপন্ন হতে পারে বলেও ওই প্রতিবেদনে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ২০৫০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ৯৪০ থেকে ১০২০ কোটিতে গিয়ে পৌঁছবে। এ সময়ে প্রতি তিনজনে দু’জন শহরে বাস করবে। ফলে পানির চাহিদাও এই সময়ের মধ্যে আরও কয়েকগুণ বাড়বে।

সংস্থাটির পানিবিষয়ক দফতরের প্রধান গিলবার্ট হৌংবো বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে পানির এই সংকট দূর করতে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ প্রয়োজন। সুস্পষ্টভাবে বিশুদ্ধ পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য এখনই কিছু করতে হবে। আগামী দিনে পানির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুত হওয়া জরুরি।’

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন