Breaking News
Home / বাংলাদেশ / ৫ বছর পরও রানা প্লাজায় আর্তনাদ

৫ বছর পরও রানা প্লাজায় আর্তনাদ


স্মরণকালের ভয়াবহ ভবন ধস সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৫ বছর আজ। অন্যদিনগুলোর মতো সেদিনও সকালে গার্মেন্টে গিয়েছিলেন শ্রমিকরা।ঝকঝকে এক সকালে শুরু করেছিলেন কর্মব্যস্ত দিন।

ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে জীবন দিয়েছিল ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক। এতে আহত হয় আরও প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক। তার অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান। ওই ঘটনায় বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে তোলপাড় তৈরি হয়।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, সকাল ৮টায় ব্যস্ত শ্রমিকরা নিজের কাজে। হঠাৎ করেই বিকট শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে ভবনটি। ধসে পড়া ভবন থেকে ১ হাজার ১১৭ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যায়। এ ছাড়া ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মৃত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮৪৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা রেখে ২৯১ জনের অশনাক্তকৃত লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। জীবিত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১ হাজার ৫২৪ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন ৭৮ জন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই।

রানা প্লাজা ধসের ৫ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় দায়ের মামলার বিচারে কোনো অগ্রগতি নেই। অনেকটা থমকে আছে। তাই ৫ বছর পরও নিহত শ্রমিকদের পরিবার-পরিজন ও আহতদের মাঝে বিরাজ করছে বিচার না পাওয়ার চাপা আর্তনাদ। বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়া আলোচিত ওই ঘটনায় ৩টি মামলা হয়। ত্রুটিপূর্ণ জেনেও শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার অভিযোগে মামলাটি করে পুলিশ, সরাসরি হত্যার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন নিহত শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলী আক্তার এবং বিল্ডিং কোর্ড অনুসরণ না করার অভিযোগে ইমারত আইনে মামলাটি করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

এঘটনায় মোটা মামলা হয় ১৪টি। এর মধ্যে অন্যতম ৩টি মামলার মধ্যে পুলিশের এবং নিহত শ্রমিক জাহাঙ্গীরে স্ত্রী শিউলী আক্তারের মামলা ২টির একসঙ্গে এবং অপরটির আলাদা তদন্ত হয়। ঘটনার দুই বছরের বেশি সময় পর ২০১৫ সালের ১ জুন তদন্ত শেষে আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর। বাকী ১১টি মামলা করেছিলো কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।

পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে ভবন মালিক সোহেল রানা ও তার মা-বাবাসহ ৪১ জনকে এবং ইমারত নির্মাণ আইন না মেনে ভবন নির্মাণের অভিযোগে সোহেল রানাসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়। দুটি অভিযোগপত্রে মোট আসামি ৪২ জন। এর মধ্যে সোহেল রানাসহ ১৭ জন দুটি মামলারই আসামি। এ ছাড়া রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে দুদকের মামলায় সাজা হয়েছে যদিও সেটি ছিল ভিন্ন মামলা।

মূলত সব মামলার প্রায় আসামিরা একই। অর্থাৎ একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিলো ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে। এখন শ্রম আদালতে এগারটি মামলা বিচারাধীন আছে। বিচারিক আদালতে ফৌজদারি মামলা ও ক্ষতিপূরণের মামলাও বিচারাধীন

মামলাগুলোতে বিভিন্ন সময়ে সোহেল রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও সাভারের জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী, গার্মেন্টস মালিক ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জেলে যেতে হলেও এখন তারা সবাই জামিনে আছেন।

পরে তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ভবন মালিক, গার্মেন্ট মালিক, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের ৪১ জনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে অভিযোগ পত্র দেয়া হয়। অন্যান্য মামলাগুলো এখনো বিচারাধীন। কয়েকটা স্থগিত। তাই এখন প্রশ্ন সবার যে, রানা প্লাজা মামলার বিচার কবে শেষ হবে?

শুধু বিচার নয়, ভবন ধসের চার বছর পার হলেও এখনও অনেক নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা পায়নি প্রয়োজনী সহায়তা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ। যার ফলে অনেক আহত শ্রমিক অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিয়ে আজও ফিরতে পারেনি স্বাভাবিক জীবনে। গত শনিবার (২২ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতা সংস্থা অ্যাকশনএইড জানিয়েছে, রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের মধ্যে ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ এখনও বেকার রয়েছেন।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন