Breaking News
Home / বাংলাদেশ / ধনী-দরিদ্রের আয় বৈষম্য প্রকট হচ্ছে

ধনী-দরিদ্রের আয় বৈষম্য প্রকট হচ্ছে


সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে আয় বৈষম্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে কর্মজীবী এবং দরিদ্ররা লাভবান হয়েছে- সরকারের এমন দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে। গত ৭ এপ্রিল এক প্রতিবেদনে সরকারের কথারই প্রতিধ্বনি করেছে বিশ্বব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ‘দারিদ্র্য বিমোচন ও মানব উন্নয়নে বিস্ময়কর অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে। সঠিক কর্মনীতি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া গেলে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে হবে বাংলাদেশ।
২০১৬ সালের চিত্র নিয়ে গত অক্টোবরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পুরো অংশই গিয়েছে পুঁজিপতি শ্রেণীর হাতে। আয়, খরচ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিসহ যেকোনো দিক থেকে বিবেচনা করলেই এই প্রতিবেদন থেকে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান যে বাড়ছে, সেটা স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। সরকারি সংস্থা হিসেবে সীমিত তথ্য প্রকাশ করে বিবিএস। সংস্থাটির ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে করা সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পাঁচ শতাংশ মানুষের আয় ২০১০ সালে ছিল ০.৭৮ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ০.২৩ শতাংশে। বিপরীতে সবচেয়ে ধনী পাঁচ শতাংশ মানুষের আয় ২০১০ সালে ছিল ২৪.৬১ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে গিয়ে হয়েছে ২৭.৮৯ শতাংশ। শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর আয় এই সময়ের মধ্যে বেড়ে ৩৫.৮৪ শতাংশ থেকে ৩৮.১৬ শতাংশ হয়েছে। আর তলানীদতে থাকা ১০ শতাংশ দরিদ্রের আয় দুই শতাংশ থেকে কমে ১.০১ শতাংশ হয়েছে। গবেষকরা এর কারণ হিসেবে বলছেন, দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকা, চাকরির অসম সুযোগ, মারাত্মক শোষণ, নিম্ন বেতনের চাকরি, যুবকদের বেকারত্বের উচ্চহার ও স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় সামাজের প্রান্তিক শ্রেণী মারাত্মক দারিদ্র্যে ভুগছে। যথার্থ শিক্ষার অভাবও দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সরকারি প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে মানুষের মাসিক গড় আয় ১৫ হাজার ৯৪৫ টাকা। আর ব্যয় ১৫ হাজার ৭১৫ টাকা। দরিদ্র ও শ্রমজীবী শ্রেণীর আয়ের ৯৮ শতাংশই ব্যয় হয় তাদের ন্যূনতম দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে। গ্রামীণ এলাকায় এই অবস্থা আরো প্রকট। সেখানে মাসিক গড় আয় ১৩ হাজার ৩৫৩ টাকা। আর ব্যয় ১৪ হাজার ১৫৬ টাকা। তার মানে, গ্রামের মানুষের ব্যয় আয়কে ছাড়িয়ে যায়। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ঋণ সংকট।
শিক্ষার হার বাড়ার দাবি সরকার করলেও বাস্তবে দেখা যায়, বাংলাদেশে শিক্ষিতের হার ৬৫.৬ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম শিক্ষিত মানুষের দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। গ্রামীণ এলাকায় এই হার ৬৩.৩ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবা খাতেও একই চিত্র। মাত্র ১৫.৪৪ শতাংশ মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থেকে সেবা নেয়ার সুযোগ পায়। আর ২২.৫১ শতাংশ মানুষকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সনদহীন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন