Breaking News
Home / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / তথ্য-প্রযুক্তি / চাকরিই যখন পর্নোগ্রাফি দেখা…

চাকরিই যখন পর্নোগ্রাফি দেখা…


ফেসবুকে কিছু আপত্তিকর চোখে পড়লে আপনি যদি সেটা রিপোর্ট করেন – তাহলে সেই অনুরোধ চলে আসে বার্লিনে অবস্থিত ফেসবুকের এক লুকোনো অফিসে। সেখানে কর্মরতরা সাথে সাথে সেটি রিভিউ করে বিবেচনা করেন সেটি ফেসবুকে রাখার যোগ্য কি না।
আর এসব কনটেন্ট’র বেশিরভাগই পর্নোগ্রাফি। আরো আছে বিভৎস মৃত্যু, শিশু ও প্রাণি নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের মতো কদর্যতম বিষয়। ফেসবুকে কর্মরত ওই কর্মীরা, রোজ যারা ইন্টারনেটের কুৎসিততম জিনিসগুলো দেখেন – যাতে আমার আপনার মতো সাধারণ লোকের সেগুলো দেখতে না-হয় তারাও মানসিকভাবে হয়ে পড়েন অসুস্থ। তাদেরই একজন সম্প্রতি কথা বলেছেন বিবিসি’র সঙ্গে।
সারাহ কাট্জ নামে ফেসবুকের এমনই এক সাবেক কর্মী জানিয়েছেন, ইন্টারনেটে পাওয়া যায় এমন সব ধরনের কদর্যতম জিনিস তাকে এই চাকরিতে রোজ দেখতে হত, যার বেশিটাই পর্নোগ্রাফি – আর এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল তার ব্যক্তিগত জীবনে।
সবচেয়ে খারাপ জিনিস কী দেখতে হয়েছিল প্রশ্নের জবাবে সারা কাট্জ বলেন, চাইল্ড পর্নোগ্রাফিটাই সবচেয়ে খারাপ – কারণ ছমাসের শিশুকে ধর্ষণ করার দৃশ্যও দেখতে হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদও আছে … জঙ্গী হামলা ও নৃশংসতার বহু রক্তাক্ত ঘটনাও দেখতে হয়েছে। এই কনটেন্ট রিভিউয়ের কাজ তার মানসিক সুস্থতা ও স্থিতিশীলতার ওপরেও সাঙ্ঘাতিক প্রভাব ফেলেছিল।
ওই অফিসে কাজ করতেন, এমন আরেক কর্মী বলেন, আমাকে রোজ কাঁদতে হত। ফেসবুকে বোধহয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এটা – আর সবচেয়ে খারাপও, কিন্তু কারো যেন সেটা নিয়ে মাথাব্যথা নেই।
তিনি বলেন, রোজ অসম্ভব সব খারাপ ও যন্ত্রণাদায়ক জিনিস দেখতে হত … মাথা কেটে ফেলা, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, পশুদের ওপর নির্যাতন এই সব। একটা যেন যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম – ওগুলো দেখে আঙুলের একটা ক্লিকে ঠিক করতে হত জিনিসটা থাকবে কি থাকবে না।
ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, তারা তাদের মডারেটরদের মনস্তাত্ত্বিক সাহায্য দিতে সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রেখেছে।
ফেসবুক প্রোডাক্ট পলিসির প্রধান মনিকা বিকার্ট জানান, কাজটা কঠিন কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমি বলব রিভিউয়াররা যে ধরনের জিনিসপত্র দেখেন, এই ধরনের গ্রাফিক কনটেন্ট তার খুবই সামান্য একটা অংশ। আর ক্রমশ আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছি, যাতে কেউ ফেসবুকে এই ধরনের জিনিস আপলোড করলে তা যাতে নিজে থেকেই রিভিউ করে সরিয়ে দেয়া যায়।
ফেসবুক এসব কনটেন্ট রিভিউয়ারদের কোনো সহযোগিতা করেনা এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মনিকা বিকার্ট বলছিলেন, কাজটা কঠিন ঠিকই – কিন্তু সেটা ঠিকমতো করার জন্য যা দরকার কর্মীদের সেটা দিতেও কিন্তু আমরা দায়বদ্ধ। তারা যদি কাজে কখনো অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় – অন্য ধরনের কনটেন্টের কাজেও তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। সূত্র : বিবিসি

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন