Breaking News
Home / বিনোদন / সর্বকালের সেরা ১০ বাংলা সিনেমা

সর্বকালের সেরা ১০ বাংলা সিনেমা


বাংলা সিনেমার রয়েছে প্রাচীন ও গৌরবময় ইতিহাস। ১৯২৭ সালে ঢাকার নবাব পরিবারের তরুণদের মাধ্যমে নির্বাক ছবির যাত্রা শুরু হলেও ১৯৫৭ সালে আব্দুল জাব্বার খানের পরিচালনায় ‘মুখ ও মুখোশ’ নামে প্রথম সবাক সিনেমা নতুন ইতিহাস রচনা করে। তারপর আর এ অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি। সময়ের আবর্তনে বাংলা সিনেমার মুকুটে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য সোনালি পালক। আর সেইসব সোনালি পালক থেকে সেরা ১০ খুঁজে বের করে আনা খড়ের গাঁদায় সুই খোঁজার মতই তবুও চেষ্টা করতে ক্ষতি কি!

জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০), পরিচালক: জহির রায়হান
জহির রায়হান তৎকালে বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনকে অসাধারণ রুপকতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো গানটি জহির রায়হান সরাসরি একুশের প্রভাত ফেরি থেকে ধারন করেন। ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি প্রথমবারের মত কোন ছবিতে দেখানো হয়, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭), পরিচালক: আলমগীর কবির
ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে এক তরুণ আর ধনীর দুলালী তরুণী ভাসতে ভাসতে এসে পৌঁছায় জনমানবহীন এক দ্বীপে। সেখানে শুরু হয় তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে দুজনের প্রতি ভালবাসা তৈরি হয় তারপর কাহিনী নেয় নতুন মোড়।

ছুটির ঘণ্টা (১৯৮০), পরিচালক: আজিজুর রহমান
এই ছবিটি একটি সত্য ঘটনার উপর নির্মিত। ঈদের ছুটি ঘোষণার দিন সবার অলক্ষ্যে স্কুলের বাথরুমে আটকা পরে বারো বছরের এক ছাত্র। আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার আকুতি, অমানবিক কষ্টের স্বরূপ পরিচালক তাঁর দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩), পরিচালক: ঋত্বিক ঘটক
ছবিটি অদ্বৈত মল্লবর্মনের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। তিতাস নদী ও নদী পাড়ের মানুষের জীবন চিত্র উঠে এসেছে এ ছবিতে। ছবিটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের জরিপে দর্শক ও সমালোচক দুই শ্রেণীতেই প্রথম স্থান অধিকার করে।

চিত্রা নদীর পাড়ে (১৯৯৯), পরিচালক: তানভীর মোকাম্মেল
১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময়কে প্লট করে এ ছবিটি নির্মাণ করেছেন তানভীর মোকাম্মেল। ধর্মের পরিচয়ে বিভক্ত বিপুল মানুষের দেশবদল, আবেগ, আশা ও অনিশ্চতাকে পরিচালক অসাধারণ শৈল্পিকতায় বন্দী করেছেন।

নবাব সিরাজউদ্দৌলা (১৯৬৭), পরিচালক: খান আতাউর রহমান
বাংলার দুইশ বছরের পরাধীনতার শুরুর চিত্র এটি। পলাশীর প্রান্তরে মীরজাফরের কূটচালে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হন। সেই সাথে বাঙালির সৌভাগ্যের সূর্য্ও অস্তমিত হয়। সেই ঘটনাই আনোয়ার হোসেন দক্ষ অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। যার প্রতিটি সংলাপ আজো মানুষের মুখে মুখে।

বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না (১৯৮৯), পরিচালক: তোজাম্মেল হক বকুল
বাংলাদেশের চলচিত্র ইতিহাসের অন্যতম সফল ছবি এটি। ধনী গরীবের ভালবাসাই ছবিটির উপজীব্য। ছবিটির প্রতিটি গান আজো মানুষকে আলোড়িত করে। চলচ্চিত্রটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও পুননির্মাণ করে মুক্তি দেয়া হয়।

সাত ভাই চম্পা (১৯৬৮), পরিচালক: দীলিপ সোম
সাত ভাই চম্পা মূলত বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি রূপকথার গল্প। গল্পটি প্রথম অনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হয়েছিল ১৯০৭ সালে ঠাকুরমার ঝুলি নামক রূপকথার বইতে যা দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রচনা করেন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন। সাত ভাই চম্পার গল্পকে উপজীব্য করে বেশ কয়েকটি বাংলা সিনেমা নির্মিত হয়েছিল। সাত ভাই চম্পা চলচ্চিত্রটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে সর্বকালের সেরা দশটি বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে একটি হিসাবে স্থান পেয়েছে।

রূপালী সৈকতে (১৯৭৯), পরিচালক: আলমগীর কবির
ছবিটির মূল উপজীব্য হচ্ছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ পরিচালক অসীম সাহসিকতায় ফিতায় বন্দি করেছেন।

ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩), পরিচালক: আলমগীর কবির
ভারতের সাথে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র ধীরে বহে মেঘনা। ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট ২০০৭ সালে দুইটি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের সেরা দশটি চলচ্চিত্রের দুটি তালিকা তৈরি করে।

সর্বকালের সেরা বাংলাদেশী চলচ্চিত্র: চলচ্চিত্র বোদ্ধা ও সমালোচকদের দৃষ্টিতে:
১। তিতাস একটি নদীর নাম– ঋত্বিক ঘটক (১৯৭৩)
২। চিত্রা নদীর পারে– তানভীর মোকাম্মেল (১৯৯৯)
৩। নদীর নাম মধুমতি– তানভীর মোকাম্মেল (১৯৯৪)
৪। সীমানা পেরিয়ে– আলমগীর কবির (১৯৭৭)
৫। বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না– তোজাম্মেল হক বকুল (১৯৮৯)
৬। সূর্য দীঘল বাড়ী– শেখ নিয়ামত আলী ও মসীউদ্দীন শাকের (১৯৭৯)
৭। ধীরে বহে মেঘনা– আলমগীর কবির (১৯৭৩)
৮। রূপালী সৈকতে– আলমগীর কবির (১৯৭৯)
৯। শ্রাবণ মেঘের দিন– হুমায়ুন আহমেদ (১৯৯৯)
১০। সাত ভাই চম্পা– দীলিপ সোম (১৯৬৮)

সর্বকালের সেরা বাংলাদেশী চলচ্চিত্র: দর্শকদের দৃষ্টিতে ও ভোটে:
১। তিতাস একটি নদীর নাম– ঋত্বিক ঘটক (১৯৭৩)
২। সীমানা পেরিয়ে– আলমগীর কবির (১৯৭৭)
৩। চিত্রা নদীর পারে– তানভীর মোকাম্মেল (১৯৯৯)
৪। উত্তরা– বুদ্ধদেব দাসগুপ্ত (১৯৯৯)
৫। সাত ভাই চম্পা– দীলিপ সোম (১৯৬৮)
৬। রূপালী সৈকতে– আলমগীর কবির (১৯৭৯)
৭। লালসালু– তানভীর মোকাম্মেল (২০০১)
৮। ধীরে বহে মেঘনা– আলমগীর কবির (১৯৭৩)
৯। সুপ্রভাত– কবীর আনোয়ার (১৯৭৬)
১০। জীবন থেকে নেয়া– জহির রায়হান (১৯৭০)

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন