সোমবার , অক্টোবর 14 2019
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / পর্যটন / দেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন!

দেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন!


ক্রমেই দ্বিতীয় সুন্দরবনে রূপ নিচ্ছে সাগর মোহনায় অবস্থিত ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরকুকরিমুকরি। এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সরকারিভাবে নেওয়া হয়েছে শত কোটি টাকার কয়েকটি প্রকল্প। অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক চরকুকরিমুকরি ইকোপার্কটি গত ২৫ জানুয়ারি উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর আগের দিন ২৪ জানুয়ারি এই পর্যটনকেন্দ্রের চারতারকা হোটেলে সপরিবারে রাতযাপনও করেন তিনি। উদ্বোধনের পর পরিদর্শন বইয়ে ইকোপার্কটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলেও উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি।

চরকুকরিমুকরিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা এবং সাগর মোহনায় নতুন করে জেগে ওঠা চরভূমিকে স্থায়ী করতে ১৯৭২ সালেই চরফ্যাশনের উপজেলার দক্ষিণ উপকূলে সৃজন করা হয় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। বর্তমানে ১৪ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত ও ৮৫ বর্গমাইল এলাকার এই জনপদকে সুন্দরবনের আদলে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৯৭৩ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল চরকুকরিমুকরি। সেখানকার বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে ছুটে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সেই সফরকে স্মরণীয় রাখতে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল মুজিব কিল্লা (দুর্যোগকবলিতদের আশ্রয়স্থল)। এই কিল্লাটিও এখন পর্যটকদের কাছে টানছে।

ভোলার মূল ভূখ-েরও পাঁচশ বছর আগে চরকুকরিমুকরি জেগে উঠেছিল। ইকোপার্ক হিসেবে ঘোষণা ও দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে গড়ে তোলার নানা কার্যক্রমে এটি এখন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি পরিচিত নাম। নতুনভাবে রূপদান শুরু করেছে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে। এরই মধ্যে চরকুকরিমুকরি পরিদর্শন করেছেন

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই ইকোপার্ক পরিদর্শনে আসছেন বলে জানিয়েছেন চরকুকরিমুকরি ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আলহাজ আবুল হাসেম মহাজন।

চেয়ারম্যান আরও জানান, দ্বিতীয় সুন্দরবন ও পর্যটনকেন্দ্রকে ঢেলে সাজাতে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পর্যটন করপোরেশনের একটি কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে আরও ২৫ কোটি টাকার কাজ। আরেকটি প্রকল্পের আওতায় নৌপথের পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে মূল ভূখ- থেকে চরকুকরিমুকরি পর্যন্ত ক্যাবলকার। এ ছাড়া পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চরকচ্ছপিয়ায় স্থাপন করা হচ্ছে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সাবস্টেশন। পাশাপাশি চার বর্গকিলোমিটার এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হচ্ছে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট। পর্যটকদের জোছনা রাতের স্নিগ্ধতা উপভোগের সুযোগ করে দিতে বাগানের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার, যার ওপর দাঁড়িয়ে পুরো ইকোপার্কের নানা বন্যপ্রাণীর বিচরণ পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন পর্যটকরা।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, চরফ্যাশন পৌরশহরে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুউচ্চ জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ারের পরই পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে চরকুকরিমুকরির অবস্থান।

কেবল প্রাকৃতিকভাবে নয়, প্রকৃতি ও মানুষের যৌথ অবদানে দিন দিন বিকশিত হচ্ছে চরকুকরিমুকরি। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এটি যাতে দেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে স্বীকৃতি পায়, সে লক্ষ্যে সরকারি অর্থায়নে কুকরি বন গবেষণা বিভাগ ১৯৯০ সালে এসব প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রুহুল আমিন। তিনি আরও জানান, এই ইকোপার্কে ২০-২৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ রয়েছে। আরও আছে বনমোরগ, শেয়াল, সাপ ও লাখো মৌচাক। মাঝে মধ্যে দেখা মেলে চিতাবাঘেরও।

প্রকল্পের আওতায় আন্ডারপ্ল্যান্টিং প্রক্রিয়ায় বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে সুন্দরবন থেকে কেওড়া, বাইন, গেওয়া, খলসী ও পশুরসহ বিভিন্ন গাছের বীজ সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। সেই চারা চরদিগল, নার্সারির খাল, চরশফি, চরজমির, চরইসলাম, দিগল, পশ্চিম দিগল ও জাইল্যার খালের ১৬ হাজার একর বাগানে রোপণ করা হয়েছে যার ৮০ শতাংশ গাছ এরই মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ ফুট উঁচু হয়েছে। কনটেন্ট ক্রেডিটঃ আমাদের সময়

About জানাও.কম

Check Also

সূর্যাস্ত দেখার সেরা ৭ জায়গা

সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয় দেখার একটা প্রবণতা আমাদের সবার মধ্যেই থাকে। আর যদি সেটা পাহাড়ি এলাকা …

মন্তব্য করুন