সোমবার , অক্টোবর 21 2019
Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / চারঘাটের নিমপাড়া গ্রামে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহারে আমগাছের জীবন নাশ

চারঘাটের নিমপাড়া গ্রামে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহারে আমগাছের জীবন নাশ


অবৈধ হরমোন দিয়ে বেশি আম ফলাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত গাছই মেরে ফেলছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। রাজশাহীতে ভুক্তভোগী মো:গোলাম কিবরীয়া তোতা সম্প্রতি মোঃ নাসির উদ্দীন,পিতা: রহমান,মোঃ নাজমুল,পিতা : মমতাজ আলী এবং মোঃ জহরুল হক, পিতা: মৃত ছহির উদ্দিন এই তিন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চল চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে একশ্রেণীর কীটনাশক ব্যবসায়ী এই হরমোন ভারত থেকে চোরাই পথে আমদানি করছেন। যেসব ব্যবসায়ী এক বা দুই বছরের জন্য আমবাগান ইজারা নেন, তাঁদের অনেকেই বেশি আম পাওয়ার লোভে গোপনে এই হরমোন ব্যবহার করছেন। এই ঔষুধ ব্যাবহারের ফলে গাছে বেশি আম ধরছে ঠিকই, কিন্তু পরিণামে গাছের বৃদ্ধি থেমে যাচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে অনেক গাছ ।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষি মো:গোলাম কিবরীয়া তোতা ১৭ মে চারঘাট থানায় তিনজন আম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও তিনি একই অভিযোগ করেছেন। এতে বলা হয়েছে, চার বছরের জন্য তিনি তাঁর ৩৯টি আমগাছ একই গ্রামের তিনজন ব্যবসায়ীর কাছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকায় ইজারা দিয়েছিলেন। এ বছরই ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তাঁর অধিকাংশ গাছের বয়স ১০-১৫ বছরের মধ্যে। ১৬ মে তিনি জানতে পারেন, ব্যবসায়ীরা তাঁর গাছের শিকড় কেটে তাতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ ঢুকিয়েছেন। ইজারা দেওয়ার পর তাঁর বাগানের চারটি গাছ মারা গেছে। অন্যান্য গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাঁর বাগান পরিদর্শন করেছেন।

বাগানমালিক তোতা বলেন, ১২৬ শতক জমিতে তার গাছ ছিলো মোট ৩৯ টি কিন্তু বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ঢুকানোর জন্য ৪টি গাছ মারা গেছে বাকি গাছ গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যে গাছের নতুন পাতা বের হওয়ার কথা, কিন্তু সেই গাছের পাতা বের না হয়ে ওপরের দিক থেকে গাছের সরু ডালপালা মরে যাচ্ছে । তাছাড়া তিনি এই বিষয়ে সব যায়গাতে গিয়েছে কিন্তু কোন ফল পাইনি এখন পর্যন্ত।

তাছাড়া, বাগানমালিক বলেন লিজের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারনে, এই তিন অসাধু ব্যাবসায়ীরা বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে গাছ গুলো মেরেছে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আলীম উদ্দীন দিলেন ভয়ংকর তথ্য। তিনি জানান, আম বাগান মালিকরা নিজেরা আমের চাষ করেন না, তারা ব্যবসায়ীদের কাছে বাগান বিক্রি করে দেন। আর ব্যবসায়ীরা নিজেরা লাভবান হতে সঠিকমাত্রা ও সময় না জেনে ইচ্ছেমতো হরমোন ও ভিটামিন ব্যবহার করছে। নিয়ম হল, একবার যে বাগানে হরমোন স্প্র্রে করা হবে, সেই বাগানে পরবর্তী তিন বছর আর কোনো হরমোন স্প্রে করা যাবে না। যদি তা করা হয়, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চারঘাট থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, একটা অভিযোগ পেয়েছেন। এ ধরনের ক্ষতি দণ্ডবিধির ৪২৭ ধারার অপরাধ। তবে বিষয়টির তদন্ত চলছে

About জানাও.কম

Check Also

কয়লা আর তেলে শেষ সুন্দরবনের মাছ

সুন্দরবনে মাছ কমছে। এর জন্য সুন্দরবনের আশপাশে ব্যাপক শিল্পায়ন এবং জলযান চলচলের আধিক্যসহ বিভিন্ন সময়ে …

মন্তব্য করুন