Breaking News
Home / খেলাধুলা / সোনার বলের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ব্রাজিলের কুতিনহো

সোনার বলের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ব্রাজিলের কুতিনহো


সোনার বুটের জন্য দৌড়ে এগিয়ে কেইন, রোনালদো, লুকাকুরা। তবে সোনার বল হাতে যাবে, সেটা আগাম বলা এখনই মুশকিল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কিছু করতে পারেননি, কিন্তু শুধু নকআউট পর্বে দারুণ খেলে গোল্ডেন বল পেয়ে গেছেন, এমন খেলোয়াড় তো অনেক আছেন। ১৯৮২ বিশ্বকাপেই যেরকম গ্রুপ পর্বে কোনো গোল পাননি পাওলো রসি। কিন্তু নকআউটে একের পর এক গোল করে ইতালির এই স্ট্রাইকার পেয়েছিলেন গোল্ডেন বল ও বুট দুইটিই। এবার সেটা কার হাতে যাবে?

এমন নয়, যে গোল্ডেন বুট জিতবেন সে বল জিতবে না । কেইন, লুকাকু, রোনালদোদের কারও পাওয়ার সম্ভবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে সবচেয়ে বেশি গোল দেওয়ার সঙ্গে সেরা খেলোয়াড়েরও পুরস্কার জিতেছেন, বিশ্বকাপে এমন হয়েছে মাত্র তিন বার। ১৯৬২ সালে প্রথম গারিঞ্চা জিতেছিলেন দুইটি পুরস্কার, এরপর ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার মারিও কেম্পেস। আর আনুষ্ঠানিকভাবে গোল্ডেন বল ও বুট চালু হওয়ার পর দুইটিই পেয়েছিলেন রসি। ১৯৮২ বিশ্বকাপের পর দুইটি পুরস্কার কোনো খেলোয়াড় একসাথে জেতেননি।

সেই হিসেবে এবার এগিয়ে আছে কারা? ফিলিপে কুতিনিয়োর নামটা বোধ হয় সবার আগে আসবে। নেইমার নন, ব্রাজিলের এবারের স্বপ্নসারথী এই বার্সেলোনা মিডফিল্ডারকেই ধরা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে বক্সের বাইরে থেকে করেছিলেন এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল। পরের ম্যাচে যখন কোস্টারিকা ব্রাজিলকে ঠেকিয়ে দিচ্ছে, কুতিনিয়োর গোল এনে দিল স্বস্তি। আর সার্বিয়ার সঙ্গে গোল না পেলেও তাঁর দুর্দান্ত একটা পাস থেকে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন পাওলিনহো। এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছেন, দলের পাঁচটি গোলের তিনটিতেই তাঁর সরাসরি অবদান। ব্রাজিলের হয়ে তিনটি ম্যাচের দুইটিতেই হয়েছেন ম্যাচসেরা, অবিসংবাদিতভাবে তিনিই সেরা খেলোয়াড়। ব্রাজিল যদি শেষ পর্যন্ত যেতে পারে, তাহলে সোনার বলটা কুতিনিয়োর হাতে যাচ্ছে, সেই বাজি আপনি ধরতেই পারেন।

কুতিনিয়োর চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে থাকবেন না লুকা মদ্রিচও। রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যমাঠের প্রাণভোমরা অনেক দিন থেকেই, নিজের সময়ের সেরা মিডফিল্ডারদের একজনও। বড় কোনো দেশের হয়ে খেলেন না বলে হয়তো একটু পাদপ্রদীপের আড়ালে পড়ে থাকেন। ক্রোয়েশিরার হয়ে অবশ্য বড় মঞ্চে এবারের মতো নিজেকে দেখাতে পারেননি কখনো। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই নাইজেরিয়ার সঙ্গে মধ্যমাঠে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। পেনাল্টি থেকে একটি গোলও করেছিলেন। তবে মদ্রিচের সেরাটা দেখা গেছে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচে। মাসচেরানো, বিলিয়াদের মধ্যমাঠে দাঁড়াতেই দেননি, রাকিটিচের সঙ্গে তার নিয়ন্ত্রণে ছিল মাঝমাঠ। একটা নির্ভুল পাসও দেননি সেদিন, পরে করেছিলেন বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল। আইসল্যান্ডের সঙ্গে অবশ্য গোল আর পাননি, তবে নিজের জাত চিনিয়েছেন। ডার্ক হর্স ক্রোয়েশিয়া যদি অন্তত সেমি পর্যন্ত যেতে পারে, তাহলে মদ্রিচের হাতে গোল্ডেন বল যেতেই পারে।

সেটা যেতে পারে ইস্কোর কাছেও। পর্তুগালের সঙ্গে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দারুণ খেলেছিলেন, কিন্তু গোল পাননি। দ্বিতীয় ম্যাচেও ভালো খেলেছিলেন, শেষ পর্যন্ত মরক্কোর সঙ্গে এসে তৃতীয় ম্যাচে পেয়েছেন গোল। তবে গোল না পেলেও পুরো টুর্নামেন্টে সুযোগ তৈরি করেছেন অনেক বার। স্পেনের সামনের রাস্তা অপেক্ষাকৃত সহজ, সেই পথে ইসকোর ওপর তারা সওয়ার হতেই পারে।

সুযোগ আছে ইডেন হ্যাজার্ডের, লুকাকুর গোল বেশি হলেও বেলজিয়ামের প্রথম দুই ম্যাচেই চিনিয়েছেন নিজের জাত। এর বাইরে চমকে দেওয়ার মতো খেলা খেলেছেন রাশিয়ার আলেকজান্ডার গলোভিনও। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচেই দুর্দান্ত ছিলেন, শেষ যে ম্যাচে খেলেননি সেটাতে হেরেছে রাশিয়া। কলম্বিয়ার হুয়ান ফার্নান্দো কুয়েন্তেরোও প্লেমেকারের ভূমিকায় দারুণ খেলছেন। কে জানে, এঁদের কারও হাতে হয়তো উঠতে পারে গোল্ডেন বল।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন