Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / বাংলাদেশ-চীন নতুন সামরিক চুক্তি

বাংলাদেশ-চীন নতুন সামরিক চুক্তি


বাংলাদেশের সাথে চীনের নতুন একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে (বিএএফ) ২৩টি হোংডু কে-৮ডাব্লিউ মধ্যম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ বিমান দেবে চীন। ঢাকায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে গত ২০ জুন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ছাড়াও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত বিমান বাহিনী প্রধান উপস্থিত ছিলেন। বিমান বাহিনী চুক্তির ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি। তবে একটি সূত্র দ্য ডিপ্লোম্যাটকে জানিয়েছে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অঙ্কের চুক্তি এটি।
অন্যদের সাথে পিপলস লিবারেশন আর্মি বিমানবাহিনী, পাকিস্তানী বিমানবাহিনী, মিশরের বিমানবাহিনী, মিয়ানমারের বিমানবাহিনী এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনী বর্তমানে এই হালকা অ্যাটাক-কাম-জেট প্রশিক্ষণ বিমানগুলো ব্যবহার করছে।
এই চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কে-৮ডাব্লিউ বহরের দ্বিতীয় ধাপ পূরণ হবে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই বিমান ব্যবহার করছে বাংলাদেশ। সে সময় চারটি এ ধরনের বিমান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিমান বাহিনী সূত্র জানিয়েছে, পুরনো সেসনা টি-৩৭ বহরকে বদলে এই বিমানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া টি-৩৭ বিমানগুলো বদলে ফেলার জন্য ১৬টি রাশিয়ান ইয়াক-১৩০ বিমান কেনার পরিকল্পনাও বিমান বাহিনীর রয়েছে।

কে-৮ডাব্লিউ কেন?
২০১০ সালে মিয়ানমার ৫০টি কে-৮ডাব্লিউ বিমান কেনে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও তাই নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো ও বিমানের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আরও এই বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কে-৮ডাব্লিউ বিমানগুলো পাইলটদের ফ্রন্টলাইন বহর পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াবে। এই বহরে রয়েছে চীনের তৈরি চেংডু এবং মিগ-২৯ ফাইটার বিমান।
এছাড়া কে-৮ডাব্লিউ এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আরেকটি প্রশিক্ষণ বিমান সাবেক চেকোশ্লোভাকিয়ার তৈরি অ্যারো এল৩৯ অ্যালবাট্রস বিমানে একই ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। ইভশেঙ্কো এআই-২৫ ইঞ্জিনগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত জোরা শ্যাফটযুক্ত মধ্যম বাইপাস টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, যেটা তৈরি করেছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন।
বাংলাদেশকে বিমান বাহিনীকে তাদের বাজেটের মধ্যেই বিমানগুলোর খুচরা সরঞ্জাম ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও ভাবতে হয়। এদিকে বেশ কিছু প্রতিরক্ষা ব্লগে আলোচনা হচ্ছে, জঙ্গিবিমান তৈরির কোন কারখানা না বানিয়ে আরও প্রশিক্ষণ বিমান কিনে ভুল করছে বিমান বাহিনী।
বিমান বাহিনীর একটি সূত্র এ ব্যাপারে জানিয়েছে, দেশের ফোর্সেস গোল ২০৩০-এ যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, সেখানেই কে-৮ডাব্লিউ চুক্তির বিষয়টি রয়েছে, যদিও পরিকল্পনার সে অংশটি কখনও প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রশিক্ষণ বিমানের একটা বহর গড়ে তুলতে হবে। আরও অ্যাটাক বিমান শিগগিরই বাহিনীতে যুক্ত হবে।
সূত্র আরও জানায়, বহুমুখী জঙ্গিবিমানের একটি স্কোয়াড্রন শিগগিরই বাহিনীতে দেখা যাবে। তবে বিমানের মডেল ও কোন দেশ থেকে নেয়া হচ্ছে, সেটি এখনও গোপনীয় বলে জানান তিনি।
সমালোচনার কারণ হলো বাংলাদেশের বর্তমানে ৪৫টিরও কম জঙ্গিবিমান রয়েছে। অথচ প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে ৫১টি। কে-৮ডাব্লিউ এর নতুন বহর প্রশিক্ষণ বিমানের সংখ্যা আরও বাড়াবে। তবে বিমান বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, পুরনো প্রশিক্ষণ বিমানের অনেকগুলোই বাতিল হয়ে যাবে। তাই নতুন করা চুক্তিটি কোন ‘মজার’ বিষয় নয়, বরং খুবই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
ফোর্সেস গোল ২০৩০ সম্পর্কে যে তথ্যটুকু প্রকাশিত, সেখানে বলা হয়েছে বিমান বাহিনী একটা অত্যাধুনিক পাইলট প্রশিক্ষণ ইউনিট গড়ে তুলবে যেটার নাম হবে ‘১০৫ অ্যাডভান্স জেট ট্রেইটিং ইউনিট’। ইউনিটে তিনটি প্রশিক্ষণ স্কোয়াড্রন থাকবে। জঙ্গি বিমান পরিচালনার জন্য নির্বাচিত পাইলটদের এখানে অ্যাডভান্সড প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
সার্বিকভাবে ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর অধীনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে, প্রশিক্ষণ এবং সরঞ্জামাদিতে সমৃদ্ধ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে যাতে বাংলাদেশের উপর যে কোন হুমকির তারা মোকাবেলা করতে পারে। এর মধ্যে বিমান শক্তি এবং বিমান প্রতিরক্ষা শক্তি উভয়ই বৃদ্ধির বিষয় রয়েছে।
অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য বিমান বাহিনীকে দুটো আলাদা কমান্ডে ভাগ করা হচ্ছে, ‘সাউদার্ন এয়ার কমান্ড’ এবং ‘নর্দার্ন এয়ার কমান্ড’। দুটো নতুন বিমান ঘাঁটি এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে: একটি কক্সবাজারে, দ্বিতীয়টি ঢাকার বঙ্গবন্ধু বিমানঘাঁটি। কক্সবাজারের বিমান ঘাঁটিটি প্রশস্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বরিশালের সাউদার্ন এয়ার কমান্ডের অধীনে একটি নতুন বিমান ঘাঁটি এবং একটি নৌ বিমান সাপোর্ট অপারেশান সেন্টারও স্থাপন করা হচ্ছে। সিলেটে আরেকটি বিমান ঘাঁটি নির্মাণাধীন রয়েছে।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন