সোমবার , অক্টোবর 14 2019
Breaking News
Home / শিল্প-সাহিত্য / কার্টুন, হাসায় নাকি ভাবায়?

কার্টুন, হাসায় নাকি ভাবায়?


সামিয়া কালাম:সেই ছোট বেলা থেকে উন্মাদ পড়ে আসছি। যতদূর মনে করতে পারি, শুরুর দিকে এর দাম ছিল ৭ টাকা । এর পরে তো কতবার দাম বাড়লো, সে সাথে বাড়লো চাহিদা, আর উন্মাদের চিঠি পত্র কলামে পাঠকেরা কত বকা-বাজি করলো উন্মাদ কে! উন্মাদের বয়সটাও বেড়েই চলল। রসিকতা কমলো না। তিরস্কার এবং স্যাটায়ার কমলো না। ধানমন্ডির দৃক গ্যালারির দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলায় সেটাই দেখতে পেলাম। একে একে প্রায় সকল পুরনো নতুন আর্টিস্ট দের কাজ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তৃতীয় তালায় এসে দেখা গেল কিছুটা ভিন্ন চিত্র। গ্লোবালাইজেশান, প্যালেস্টাইন… ইশু সব কিছুই স্থান পেয়েছে। আপনাদের কি মনে পড়ে ফাদি আবু সালে নামেরভাইরাল হয়ে যাওয়া হুইল চেয়ারের যুবকটির কথা? পঙ্গু হয়েও যে লড়ে গেছে দখলদার ইহুদিবাদী ইজরাইলের বিরুদ্ধে?

সেই ফাদিকে দেখা যাচ্ছে নদীর পাশে ফিশিং রড হাতে মাছ ধরায় ব্যস্ত। ইন-সেটে তাঁর মূল ছবি।ছবির শিরনাম “গ্লোবাল হ্যাপিনেস”। পাথর যুদ্ধে সে প্রতিহত করতে চেয়েছিল ইজরাইলের সুসজ্জিত সৈন্যদের। মনে পড়ে সেই ছোট বোনটির কথা? যে নিজের অক্সিজেন মাস্ক খুলে কোলের ছোট ভাইটিকে দিয়ে গিয়েছিল একটু স্বাস নেবার প্রত্যয়? উন্মাদ এই সব ঘটনাগুলোকে এরিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের নির্মাণ শ্রমিক, লেদ মেশিনের কারিগর, সকলেই এসেছে কার্টুনের আদোলে, কেউবা আয়রন ম্যান, কেউ ব্যাট ম্যান। আসলেই তো তাই। লোহা , তাপ আর প্রতি পদে বিপদের আশংকা সামনে রেখে এরাই তো কাজ করে চলে। কার্টুন মানুষকে মুলত বিনোদন দেয়, হাসায়। কিন্তু সেই হাসির সাথে দিয়ে দেয় একটা বার্তা। উঠে আসে প্রতিবাদ, কারটুনের মাধ্যমে।লোকে হাসে, আর ভাবে… আরে তাইতো!!

এবারে ইভেন্টের ডিটেইলে চলে যাই। ছিল ছবি তোলার স্থান। উন্মাদ এর কমোড, যেটাকে ‘উন্মাদাসন’ বলা হয়েছে। আমাকে সবচেয়ে আনন্দ দিয়েছে “ল্যান্ড ফোনে সেলফি তোলা হয়” শিরনামের কনসেপ্টটি। দেখা হল অনেকের সাথে, ইব্রাহিম স্যার (ডক্টর মুহাম্মদ ইব্রাহিম) খুব খুশি হলেন শিশুদের এই সব ইভেন্টে আনার জন্য। রেডিওর শাহেদ ভাই আমাদের নিজের মানুষ। অনাকেও দেখতে পেলাম গামছা গলায় ঘুরে ঘুরে ছবি দেখতে। আহসান হাবিব স্যার কে বললাম, “আন্তর্জাতিক কার্টুন গুলো খুব ভালো হয়েছে, কিন্তু এখানে নেটের প্রভাব আছে অনেকটাই” তিনি বললেন, “এখন তো সব কিছুই নেট। নেট ছাড়া আমাদের আর কোনো নিড নাই।”। আমার দুই পুত্র, তারাও আমার মত ছোট বেলা থেকে উন্মাদ এর একনিষ্ঠ পাঠক। যখন বললাম, আমার ছেলেরা কিন্তু ছবি আঁকে, খুব অবাক হয়ে বলল, “ওরা গেইম খেলে না!”
ছিল নিজ চেহারা নিয়ে ‘ক্যারিক্যাচার’ করার বুথ, যেখানে দীর্ঘ লাইন। সুভিনির শপে বাহারি টি শির্ট, কি-রিং, কফি মগ, স্পোর্টস ক্যাপ –কমিক এর পাশা পাশি পেয়ে গেলাম কিছু পোস্টার। এখনো মানুষ পোস্টার কেনে এবং দেয়ালে সাঁটে ভেবেই অবাক হলাম!

মূল আকর্শান ছিল তৃতীয় তলায়। সেখানে একটু পর পর আনন্দ ধ্বনি, ‘উন্মাদের ৪০ বছর’ সাথে লাউড ভলিউমে মিউজিক! ফগ মেশিনে ধোয়া হয়ে ওঠা গ্যালারী যেন এক জাদুরপুরী! আর পরন্ত বিকেলে তো এতো দরশনার্থি এলো, মনে হল যেন সেদিনের ঢাকার সবচেয়ে সফল ইভেন্ট ছিল দৃক গ্যালারীতে।

গ্যালারি থেকে বের হয়ে বা -পাশের খোলা ছাদে যেয়ে ভাবলাম একটু বসা যাক। এক মামা এসে জানতে চাইলেন কি দেব? রঙ চা নাকি দুধ চা? সাথে কি খাবেন, বাবুদের জন্য কি আনব? পুরি-সিঙ্গারা-পেঁয়াজু? আজকাল তেলেভাজা একেবারেই খাইনা। বললাম চিনি ছাড়া এক কাপ রঙ চা দিন। ছেলেরাও আমার সাথে সাথে কেবল চা খেলো দু একটা বিস্কুট দিয়ে। বিল দিতে চাইলে পর মামা বলল, আপনারা উন্মাদের অতিথি। আমরা আজ সবাইকে আপ্যায়ন করছি। প্রিয় পাঠক, এক কাপ ফ্রি চা কিছুই প্রমান করেনা। কিন্তু এই সামান্য ভদ্রতা এবং আন্তরিকতা অনেক বড় বড় বানিজ্যিক ইভেন্টেও খুঁজে পাই না।

উন্মাদের ৪০ বছেরের বর্ষপূর্তি উৎসব দেখে এলাম। ৮০ বছরের পূর্তি উৎসব দেখে যাবার আমার কনো সম্ভাবনা নাই। কিন্তু আমি চাই এই প্রতিষ্ঠানটি হাজার বছর ধরে মানুষ কে হাঁসাক, ভাবাক আর জাগিয়ে রাখুক।

About জানাও.কম

Check Also

দীর্ঘশ্বাসের দ্রাঘিমা —- – মনিরা সুলতানা

গুনতি’তে বেশ হাত পাকিয়েছ আজকাল ! স্তব্ধ দুপুরের নিঃশ্বাস ছুঁয়ে বলে দিতে পারো, রাতের অভিসারের …

মন্তব্য করুন