Breaking News
Home / বাংলাদেশ / কয়লা ‘হরিলুট’: ৪ কর্মকর্তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চায় দুদক

কয়লা ‘হরিলুট’: ৪ কর্মকর্তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চায় দুদক


দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ‘হরিলুটের’ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটির চার কর্মকর্তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের ইমিগ্রেশন বিভাগে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) দুদকের পক্ষ থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়। দুদক সূত্রে এ তথ্য গেছে।

বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চাওয়াদের মধ্যে আছেন- বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাবিব উদ্দিন আহমেদ, জেনারেল ম্যানাজার (জিএম) আবুল কাশেম প্রদানিয়া, জিএম আবি তাহের মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী ও ডিজিএম খালেদুল ইসলাম।

এর আগে গতকাল সোমবার দুদক দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, তারা কয়লা খনির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেন- খনির কোল ইয়ার্ডে ১ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুদ থাকার কথা। কিন্তু কোল ইয়ার্ডে রয়েছে মাত্র ২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা। বাকি ১ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লার কোনো হদিস নেই।

তিনি বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ায় এখানে প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির আলমত পাওয়া গেছে।’ ইতোমধ্যেই তারা এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় দুদক অফিসে জানিয়েছেন।

এদিকে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ‘হরিলুটের’ঘটনায় তদন্তে নেমেছে দুদক। দুর্নীতির অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি।

দুদকের উপ-পরিচালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন সহকারী পরিচালক এএসএম সাজ্জাদ হোসেন ও উপ সহকারী পরিচালক এএসএম তাজুল ইসলাম।

আর দুদক পরিচালক কাজী শফিকুল আলমকে এই অনুসন্ধান কাজের তদারকি করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে দুদক আইন অনুযায়ী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় খনির শীর্ষ চার কর্মকর্তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

খনির মাইনিং বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত জিএম এটিএম নুরুজ্জামান চৌধুরী ও ডিজিএম মো. খাদেমুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এমডি প্রকৌশলী মো. হাবিব উদ্দিন আহমেদ ও সচিব (জিএম প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কয়লা সরবরাহ না হওয়ায় বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন রবিবার রাতে বন্ধ হয়ে গেছে।

৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ওই কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ থাকায় রংপুর বিভাগের আট জেলা বিদুৎ সঙ্কেটে পড়ায় বিকল্প পথ খুঁজছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন