Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / কে কে যাচ্ছে ইমরানের জোট সরকারে?

কে কে যাচ্ছে ইমরানের জোট সরকারে?


বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে ঘোষিত ফল অনুযায়ী একক দল হিসেবে এগিয়ে রয়েছে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের দল পিটিআই। বৃহস্পতিবার নির্বাচনে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণাও করেছেন খান। তবে অঘোষিত ফল হিসাব করলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কোনো সম্ভাবনা নেই পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির। তাই জোট সরকার গঠনে অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন পিটিআই চেয়ারম্যান।
দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পিটিআই। এ ছাড়া পাঞ্জাবেও প্রাদেশিক সরকার গঠনে অন্য দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে দলটি।
সরকার গঠনের অংশ হিসেবে পিটিআই নেতা জাহাঙ্গীর তারিন গতকাল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) নেতা খালিদ মকবুল সিদ্দিকির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। দলটির একাংশ মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি) ইমরানের জোট সরকারে যোগ দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কারণ গতকাল শুক্রবার রাজধানী ইসলামাবাদে যে মাল্টি পার্টি কনফারেন্স (এমপিসি) অনুষ্ঠিত হয়, তাতে যোগ দেয়নি দলটি। এমকিউএম-পি বুধবারের নির্বাচনে ছয়টি আসন লাভ করেছে।
২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের ১১তম জাতীয় নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নুতন নির্বাচনের দাবি জানাতে ওই কনফারেন্সের আহ্বান করেন মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমল (এমএমএ) নেতা এবং জেইউআই-এফ প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। কয়েকটি দলের, যারা তাদের সাথে একমত হবে, ব্যানারে নতুন নির্বাচনের দাবিতে শিগগিরই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। অবশ্য এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচনে দলটি ১২টি আসন পেয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনে ৪৩ আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টিও (পিপিপি) খানের জোটে যোগ দিতে পারে বলে একটি গুজব তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির নেতৃত্বাধীন এ দল জোটে না যাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে তারপরও দলটির জোট সরকারে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। কারণ গতকালের মাল্টি পার্টি কনফারেন্সে যোগ দেয়নি পিপিপি। তাদেরকে আগে থেকে জানানো হয়নি এমন অজুহাত দেখিয়ে ওই কনফারেন্সে যাওয়া থেকে বিরত থেকেছে দলটি।
পাক গণমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে, এর বাইরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে পিটিআইয়ের। ১২ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে সরকারের গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পাওয়ার দাবিও করা হচ্ছে খানের দলের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া অঘোষিত আসনের অন্তত দুটিতে এগিয়ে রয়েছে পিটিআই। ওই দুটি আসন পেলে সরকার গঠনে আরো একটু স্বস্তিবোধ করবে দলটি। এখন পর্যন্ত পিটিআইয়ের আসন সংখ্যা ১১৬টি।
এদিকে, পিপিপি যদি জোট সরকারে অংশ না নেয় সেক্ষেত্রে পার্লামেন্টে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন ক্রিকেটের মাঠ থেকে রাজনীতিতে আসা ইমরান খান। কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগ পাকিস্তান-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর প্রাপ্ত ৬২ আসন নিয়ে দুই দলের আসন সংখ্যা এক শ ছাড়াবে।
দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা নওয়াজ শরিফের দলের নেতৃত্বে এখন রয়েছেন তারই ভাই শাহবাজ শরিফ, যিনি পাঞ্জাবের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। বুধবারের নির্বাচন নিয়ে দলটির ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল হিসেবে পার্লামেন্টে জোরালো ভূমিকার রাখার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের নির্বাচনে বিজয়ী হিসেবে ইমরান খানকে অভিনন্দন জানিয়েছে সৌদি আরব। গতকাল সৌদি দূত নাওয়াফ সাঈদ আহমেদ খান আল-মালিকি খানের বাসায় গিয়ে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে রিয়াদ কাজ করবে বলে জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ভোটের পরিবেশ নিয়ে সমালোচনা করলেও মার্কিন সরকার ইমরানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন