Breaking News
Home / বাংলাদেশ / ৩ সিটিতে ‘অঘোষিত সান্ধ্য আইন’ চলছে: রিজভী

৩ সিটিতে ‘অঘোষিত সান্ধ্য আইন’ চলছে: রিজভী


আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহর তিনটিতে যেন ‘অঘোষিত সান্ধ্য আইন’ জারি করা হয়েছে- এমন অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘তিন সিটি করপোরেশনেই ভোটাররা অন্ধকার শ্বাসরোধী পরিবেশের মধ্যে সময় পার করছে। ক্ষমতাসীন দল পুলিশের সহায়তায় ভোটারশূন্য পরিস্থিতি তৈরি করতে নানা ফন্দি এঁটে চলেছে।’

শনিবার (২৮ জুলাই) সন্ধা সাড়ে ৭টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সকল আইনি বাধ্যবাধকতাকে অতিক্রম এক বেপরোয়া দুঃশাসন চালু করার জন্য নির্বাচন, ভোট, মানুষের ভোটাধিকারকে বিসর্জন দিয়েছে। ভোট কারচুপি আর ভোট সন্ত্রাসকে আওয়ামী নির্বাচনের উপজীব্য করা হয়েছে। অবৈধ আওয়ামী সরকার ভোট ও নির্বাচনের মুখোশ পরে মূলত: একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ‘৭৫ এর মৃত বাকশালকেই প্রতিষ্ঠা করছে। ‘৭৫ এর একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার গ্লানি মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি শেখ হাসিনা। এখন সেই একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের একটি লেবাস পরিয়ে বাস্তবায়ন করছেন।’

তিনি বলেন, ‘একদলীয় ব্যবস্থা মানেই হচ্ছে প্রতিযোগিতা, নির্বাচন, ভোট, বহু দল, বহু মতকে নির্মূল করা। ‘৭৫ এ সেটিই করা হয়েছিল। পিতা যেখানে ব্যর্থ হয়েছিলেন কন্যা সেখানে সফল হতে চান। দেশের মানুষকে বন্দি রেখে অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ভিন্নমতের মানুষ, বিরোধী দল ও মতকে নিশ্চিহ্ন করতে রাষ্ট্রশক্তিকে প্রয়োগ করছে নিষ্ঠুরভাবে। আর সেই কারণেই আগামী ৩০ জুলায়ের সিটি নির্বাচন একতরফা করতে বাকশালী পুলিশ রক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব পালন করছে। যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে ততদিনই গণতন্ত্রের জন্য বিপদ।’

রিজভী অভিযোগ করে বলেন,’ সিটি করপোরেশনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ থানায় বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদেরকে আসামি করে ইতোমধ্যেই তিনটি বানোয়াট ও অসত্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারের নামে পুরো শহরে বিএনপি’র নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের মনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে বিএনপি সমর্থকরা ভোট দান থেকে বিরত থাকে। পুলিশি হয়রানি এমন পর্যায়ে উত্তীর্ণ করা হয়েছে যে, ছেলেকে না পেয়ে পিতাকে আবার পিতাকে না পেয়ে ছেলেকেও গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি মহিলাদেরকেও এই হয়রানি থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে মহিলারা যাতে নির্বাচনের দিন পোলিং এজেন্ট হিসেবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারেন সেজন্য তাদেরকেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।’

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে বিএনপি সমর্থিত অধ্যুষিত এলাকায় এই পুলিশি হয়রানি আরও ব্যাপকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী আরও বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনী প্রচারণায় ম্যাজিস্ট্রেট নিজে উপস্থিত হয়ে প্রচারণা বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু প্রশাসনের ছত্রছায়ায় পুলিশী পাহারায় আওয়ামী লীগের প্রচারণা চলছে দেদারসে। ঘণ্টা দু’য়েক আগে বিএনপি’র প্রচার মিছিলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশি অভিযানের কারণে রাজশাহী মহানগরে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুলিশি দৌরাত্ম্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর সব নির্বাচনী অফিস বন্ধ। পুলিশ তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ধানের শীষের প্রার্থী’র কর্মীশূন্য করতে তাদের সকল শক্তি প্রয়োগ করছে। ভোটাররা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বাহির থেকে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে রাজশাহীর সকল আবাসিক হোটেলগুলো ভরে ফেলা হয়েছে। শহরের ছাত্রাবাসগুলো থেকেও শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে সেখানে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সারা শহরজুড়ে আওয়ামী ক্যাডারদের উৎপাতে জনজীবন অতিষ্ঠ।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈয়মুর আলম খন্দকার, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন