Breaking News
Home / খেলাধুলা / বাংলাদেশের সিরিজ জয়

বাংলাদেশের সিরিজ জয়


দারুণ ব্যাটিংয়ের পর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সিরিজ নির্ধরণী ম্যাচে ১৮ রানের জয় পেল বাংলাদেশ। এজয়ে ২-১ এ সিরিজ জিতলো টাইগাররা।

ঠিকঠাকভাবে কাজ করে রেখেছিলেন ব্যাটসম্যানরা। তামিমের রেকর্ড সেঞ্চুরি ও মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত ফিফটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩০২ রানের বড় টার্গেট ছুড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ।

৩০২ রানের টার্গেটে দারুণ শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুভসূচনা করেন ক্রিস গেইল ও এভিন লুইস। ভয়ংকর হয়ে উঠছিল সেই জুটি। তবে সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান মাশরাফি। দলীয় ৫৩ রানে লুইসকে (১৩) ফিরিয়ে তাদের বিচ্ছিন্ন করেন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেটে শাই হোপকে নিয়ে এগোতে থাকেন গেইল। একের পর এক চার-ছক্কায় এলোমেলো করে দেন টাইগার বোলিং আক্রমণ। একপর্যায়ে তুমুল চোখ রাঙাতে থাকেন ক্যারিবীয় দানব। তখনই বাদ সাধেন রুবেল। মিরাজের তালুবন্দি করে গেইলকে (৭৩) ফিরে যেতে বাধ্য করেন রিভার্সসুইং তারকা। ফেরার আগে টি-টোয়েন্টি মেজাজে ৬৬ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় এই রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বিস্ফোরক ব্যাটার। এটি টি-টোয়েন্টি ফেরিওয়ালার ৪৯তম ফিফটি। ঝুলিতে রয়েছে ২৩টি সেঞ্চুরি।

পরে শিমরন হেটমায়ারকে নিয়ে এগিয়ে যান শাই হোপ। জমাট বেঁধে গিয়েছিল তাদের জুটি। দোর্দণ্ড প্রতাপে খেলছিল তারা। তাদের দম্ভ চূণর্ করেন মিরাজ। দুর্দান্ত কুইকারে বোল্ড করে গেল ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শিমরন হেটমায়ারকে (৩০) সাজঘরের পথ দেখান তিনি। এতে লড়াইয়ে ফেরে বাংলাদেশ। কিছুক্ষণ পরই যৌথ প্রচেষ্টায় কাইরন পাওয়েলকে (৪) রানআউটে কেটে ক্যারিবীয়দের চেপে ধরেন মাশরাফি-মিরাজ। সেই চাপের মধ্যে হোপকে (৫৬) সাকিবের ক্যাচ বানিয়ে ম্যাশ ফেরালে ধুঁকতে শুরু করে তারা।

একে একে ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে থেকে যান রোভম্যান। টাইগার বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিম রোলার চালাতে থাকেন তিনি। তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি হোল্ডার। মোস্তাফিজের শিকার হয়ে ফেরেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। সবশেষ নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ক্যারিবিয়ানদের সংগ্রহ পাঁচ ইউকেটে ২৮৩ রান।

এরআগে শনিবার সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে তৃতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ধীরলয়ে শুরু করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং এনামুল হক বিজয়। নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পেয়ে টানা তিন ম্যাচে ব্যর্থ হলেন বিজয়। দলীয় ৩৫ রানে ৩১ বলে ১০ রান করে জেসন হোল্ডারের বলে পাওয়েলের তালুবন্দি হন তিনি। তামিমের সঙ্গী হন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব।

ধীরে ধীরে উইকেটে সেট হয়ে সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকেন তামিম ইকবাল। ৬৬ বলে স্পর্শ করেন ৫০। দারুণ খেলতে খেলতে হুট করেই ক্যাচ তুলে দিলেন সাকিব আল হাসান। রান তোলার তাড়া কাজ করছিল তার মধ্যে, যেটা দলের জন্যও জরুরি। অফস্পিনার অ্যাশলে নার্সকে সুইপ করতে চেয়েছিলেন সাকিব। ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় কিমো পলের গ্লাভসে। ৪৪ বলে ৩৭ রান করে ফিরেন তিনি।

সাকিবের বিদায়ের সঙ্গে ভাঙে তামিমের সঙ্গে তার ৮১ রানের দারুণ একটি জুটি। এরপর তামিম ইকবালের সঙ্গী হন গত ম্যাচে নায়ক থেকে ‘ভিলেন’ হওয়া মুশফিক। ১৪ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১২ রান করে নার্সের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি।

তবে ধারাবাহিকতার প্রতিশব্দ হয়ে ওঠা তামিম ইকবাল ক্যারিবীয় সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি উপহার দেন। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ম্যাচে করেন হাফ সেঞ্চুরি। ১২০ বলে ৭ চার ২ ছক্কায় তুলে নেন ক্যারিয়ারের একাদশ সেঞ্চুরি। অবশ্য ১০৩ রানেই তিনি দেবেন্দ্র বিশুর বলে কায়রন পাওয়েলের তালুবন্দি হন।

রান তোলার তাড়ায় পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেই ঝড় তোলেন অধিনায়ক মাশরাফি। ২৫ বলে ৪ বাউন্ডারি এবং ১ ওভার বাউন্ডারিতে ৩৬ রান করে জেসন হোল্ডারের বলে ক্রিস গেইলের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এরপর ক্যারিয়ারের ১৯তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ছক্কা মেরে ফিফটি করার পথে ৪৪ বল খেলেছেন রিয়াদ। মেরেছেন ৪টি চার এবং ২টি ছক্কা।

অন্যদিকে যথারীতি ব্যর্থ সাব্বির রহমান। ৯ বলে ১২ রান করে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন। তবে আগের মতোই বিধ্বংসী মাহমুদউল্লাহ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে নিজের সর্বোচ্চ স্কোর করে ফেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ৫ চার ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৬৭ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। মোসাদ্দেক ৫ বলে ১১ রান করে অবদান রাখেন। দলের স্কোর দাঁড়ায় ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩০১।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন