Breaking News
Home / বাংলাদেশ / ‘বি কেয়ারফুল’

‘বি কেয়ারফুল’


রাজশাহীতে নারী আনসার সদস্যকে ‘বি কেয়ারফুল’ বলে ধমক দেওয়ার পর ভোটকেন্দ্রে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি বলেছেন, বিপন্ন গণতন্ত্রে ভোটের কোন দাম নাই।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কেন্দ্র একই। সকাল সোয়া আটটার দিকেই উপশহর স্যাটেলাইন টাউন উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে স্ত্রী শাহীন আক্তার রেইনী ও মেয়ে ডা. অর্না জামানকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন খায়রুজ্জামান লিটন।

এ সময় তিনি সংবাদকর্মীদের বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ফলাফল যাই হোক তিনি মেনে নেবেন।

কিন্তু এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেননি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তখন বুলবুল বাংলাদেশ গালর্স গাইড অ্যাসোসিয়েশন বিলসিমলা কেন্দ্রে রয়েছেন। সেখানে গিয়ে দেখা যায় বুলবুল প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে বসে আলোচনা করছেন। এ সময় নির্বাচন নিয়ে তার প্রতিক্রীয়া জানতে চাইলে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

এর আগে তিনি বিভাগীয় স্টেডিয়ামের পাশের আরও দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সকাল সোয়া নয়টার দিকে এজেন্টকে ঢুকতে না দেয়ার অভিযোগে বুলবুল বাংলাদেশ গালর্স গাইর্ড বিলসিমলা কেন্দ্রের গেটে দায়িত্বরত নারী আনসার সদস্য ইয়াসমিন বেগমকে ধমক দেন।

এ সময় ইয়াসমিন ধমকানোর কারণ জানতে চেয়ে বলেন, দায়িত্বরত এজেন্ট ছয়-সাতবার বাইরে বের হয়েছেন। আবার ঢুকেছের। এটাতো নিয়ম নেই। এজেন্ট কেনো বারবার বের হবে?

এ সময় বুলবুল নারী আনসারকে ‘বি কেয়ারফুল’ বলে হুমকি দিয়ে বলেন, তিনি সেখানে এক ঘন্টা ধরে আছেন। একবারও বের হননি।

তখন ইয়ামিন বলেন, হুমকি দিচ্ছেন কেনো? আপনার হুমকি তো আমি শুনবো না। আপনি একজন জনপ্রতিনিধি, আমাকে এভাবে চোখ রাঙ্গিয়ে আঙুল উঁচিয়ে হুমকি দিতে পারেন না। আমি আপনার কাজ করছি না। আমি সবার জন্য কাজ করছি।

পরে বুলবুল হাতে থাকা কাগজ ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর বুলবুল সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে চলে যান কেদুর মোড় ভোট কেন্দ্রে। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর যান বিনোদপুরের ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। সেখানে কিছু অনিয়মের অভিযোগ এনে দুপুর দেড়টার দিকে ভোট কেন্দ্রের মাঠে বসে পড়েন। এ সময় তিনি অবস্থান ধর্মঘট করছেন বলে সংবাদকর্মীদের জানান।

বুলবুল বলেন, বিপন্ন গণতন্ত্রে ভোটের কোন দাম নাই। তাই তিনি নিজেও ভোট দিচ্ছেন না। সেখানে বিকেল চারটা পর্যন্ত বসে থেকে প্রতিবাদ জানান বুলবুল।

তিনি আরও বলেন, চুরি নয়, গৃহস্থের ঘরে ডাকাতি পড়েছে। তারপরও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তিনি ভোট বর্জন করবেন না। যারা ভোট পরিচালনা করছেন, তাদের কালো চেহারা জনগনের কাছে তুলে ধরতে চান তিনি।

ওই সময় বুলবুলের পাশেই ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু।

বুলবুল আরও অভিযোগ করেন, সকাল ১১টার সময় মেয়রের ভোট হয়ে গেছে। কিন্তু কাউন্সিলরের ভোট হয়নি।

এদিকে বিকেল সাড়ে ৫টায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ খুবই সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ছিল। সকাল থেকে মনে হয়েছে ঈদের দিনের মত পরিবেশ। সংবাদকর্মীরাও তা দেখেছেন।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন