Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / মার্কিন নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী, কিন্তু কেন?

মার্কিন নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী, কিন্তু কেন?


১. আব্দুল এল-সাঈদ ২. ফাইরুজ সাদ ৩. দিদরা আব্বুদ ৪. রাশিদা তালিব

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন শুরু হচ্ছে আগামী নভেম্বর মাসে। এর আগেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মঙ্গলবার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ে ৩৪ লাখ মুসলমানের মধ্যে এবার রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী অংশগ্রহণ করায় এবারের নির্বাচন বেশি আলোচিত হচ্ছে।

নাগরিক অংশগ্রহণ নিয়ে কাজ এমন একটি সংস্থা জেটপ্যাক জানাচ্ছে, এ বছর স্থানীয়, রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ৯০ জনের বেশি মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের বেশিরভাগই অবশ্য ডেমোক্রেট দল থেকে লড়াই করছেন। জেটপ্যাক জানাচ্ছে, ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার পর চলতি বছরই এই সংখ্যাটা এত বেশি।

মিশিগানে ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল এল-সাঈদ। মঙ্গলবার যদি অঘটন ঘটাতে পারেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম গভর্নর হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবেন তিনি। কিন্তু ৩৩ বছর বয়সী এল-সাঈদের জন্য এই পথটা খুব একটা মসৃণ হবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি করপোরেট অর্থ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ভারমন্টের সিনেটর ও সাবেক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স এবং গেল জুনে নিউইয়র্কে প্রাইমারি জয়ী ডেমোক্রেট অ্যালেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোরটেজ তার নির্বাচনী প্রচারণায় হাজির হয়ে তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

তবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এল-সাঈদের সামনে আরও কঠিন ও দীর্ঘ পথ রয়েছে। মতামত জরিপে দেখা গেছে, এল-সাঈদের চেয়ে বেশ অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন রাজ্য সিনেটের সাবেক ডেমোক্রেট নেতা গ্রেটচেন হুইটমার। আর যদিওবা হুইটমারকে সাঈদ হারিয়েও দেন, তারপরও তাকে এই অঙ্গরাজ্যে জিততে বেশ বেগ পেতে হবে। কারণ ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই অঙ্গরাজ্যে জয় তুলে নিয়েছেন তৎকালীন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মিশিগানেরই আরেকজন মুসলিম প্রার্থী রাশিদা তালিব। তিনি অবশ্য কংগ্রেসের জন্য লড়াই করছেন। তিনি যদি মঙ্গলবারের প্রাইমারি বিজয়ী হন তাহলে একইসঙ্গে দুটি ঐতিহাসিক প্রথম ঘটনা ঘটবে- একটি হচ্ছে জাতীয় পর্যায়ে তিনিই প্রথম নির্বাচিত মুসলিম নারী হবেন। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে তিনিই হবেন প্রথম আরব-আমেরিকান মুসলিম নারী। এর আগে কংগ্রেসে দুজন মুসলিম পুরুষ নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা দুজনই আবার আফ্রিকান-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্য।

এই ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন আরও একজন আরব বংশোদ্ভূত মার্কিনি নারী। তিনি হচ্ছেন লেবানিজ-আমেরিকান ফাইরুজ সাদ। মঙ্গলবারের প্রাইমারিতে বিজয়ী হলে তিনিও কংগ্রেসের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবেন।

অ্যারিজোনা থেকে ডেমোক্রেট দল থেকে মার্কিন সিনেট পদপ্রার্থী দিদরা আব্বুদ। এই মুসলিম নারী ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত হন। আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মী আব্বুদ বলেন, অন্যান্য অভিবাসী গ্রুপগুলোর মতো মুসলিম আমেরিকানরাও ১৫ বছর আগে রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে খুব একটা নিশ্চিত ছিল না। কিন্তু ৯/১১-এর ইসলামোফোবিয়ার ঢেউয়ে অনেককেই মাথা নিচু করে রাখতে হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর মুসলিম আমেরিকানরা যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল, সেটি ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পরের সময় থেকে চেয়ে বেশি না।

ধর্ম, পারিবারিক জীবন ও মার্কিন রাজনীতি নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় লেখালেখি করেন ওয়াজাহাত আলি। মার্কিন নির্বাচনে এত মুসলিমের অনশগ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ৯/১১-এর পর মুসলিম আমেরিকান এবং কমিউনিটির অন্যান্যরা সংস্কৃতি থেকে রাজনীতিসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে যে মুসলিমবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি মুসলমানরা রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স জানিয়েছে, ২০১৭ সালে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তিনশটি হেইট ক্রাইমের রিপোর্ট পেয়েছে তারা। যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। কিন্তু মূলধারার রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো হলেও হয়রানি বন্ধ হতে হয়তো আরও কয়েক বছর লেগে যাবে বলে মত প্রকাশ করেন ওয়াজাহাত আলি।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন