Breaking News
Home / খেলাধুলা / শেষ বলের নাটকীয়তায় বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা ভারতের

শেষ বলের নাটকীয়তায় বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা ভারতের


জয়ের খুব কাছে গিয়েও আরেকবার হেরে গেলো বাংলাদেশ। ফলে আরেকবার এশিয়া কাপের শিরোপা ট্রফি জেতা থেকে বঞ্চিত হলো বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে ৩ উইকেটে হেরে আরেক বার আক্ষেপে পুড়লো বাংলাদেশ। আর এই জয়ে ৭মবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তুললো ভারত। তবে কম রানের ইনিংসেও অসহায় আত্মসমর্পণ করেনি টাইগাররা। মোস্তাফিজদের বোলিং তোপে শেষ বলে জিতেছে ভারত।

শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ৯ রান। ৪৯তম ওভার করলেন মোস্তাফিজুর রহমান। দিলেন মাত্র ৩ রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন ৬ রান। বোলিং কে করবেন? কোনো পেসার বাকি নেই আর। স্পিনার মিরাজ আর মাহমুদউল্লাহর ওভার বাকি। বল তুলে দেয়া হলো সৌম্য সরকারের হাতে। পরে সিদ্ধান্ত বদলে দেয়া হলো মাহমুদউল্লাহর হাতে। বিপিএলে এমন পরিস্থিতিতে দলকে জেতানোর সামর্থ্য আছে তার।

প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে ১ রান নিলেন কুলদ্বীপ যাদব। পরের বলে কেদার যাদব নিলেন ১ রান। তৃতীয় বলে নিলেন ২ রান। ৩ বলে প্রয়োজন ২ রান। চতুর্থ বলে কোনো রান দিলেন না রিয়াদ। ২ বলে প্রয়োজন ২ রান। ৫ম বলে নিলেন সিঙ্গেল। দু’দলের ইনিংস হয়ে গেলো সমান। ১ বলে প্রয়োজন ১ রান। এবার কেদার যাদব লেগ স্ট্যাম্পের ওপর বল পেয়েই ঠেলে দিয়ে নিয়ে নিলেন ১ রান। ৩ উইকেটে জিতে গেলো ভারত। তীরে এসে আবারও তরি ডুবলো বাংলাদেশের।

টান টান উত্তেজনায় ভরপুর ম্যাচ। ২২২ রান করেও যে বাংলাদেশ এতটা লড়াই করবে, সেটা কারোরই ধারণায় ছিল না। অথচ মাশরাফি, মোস্তাফিজ, মিরাজ আর মাহমুদউল্লাহরা যেভাবে লড়াই করলেন, সেটা রীতিমত বিস্মকর। শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা,

দিনেশ কার্তিক, মহেন্দ্র সিং ধোনি কিংবা রবীন্দ্র জাদেজারা আউট হয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত কেদার যাদব রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে টিকে ছিলেন।

শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমে তিনিই জিতিয়ে দিলেন ভারতকে।৭মবারের মত এশিয়া কাপ জিতলো ভারত।

ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন রোহিত শর্মা। ৩৭ রান করেন দিনেশ কার্তিক। ৩৬ রান করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ২টি, রুবেল হোসেন ২টি, মাশরাফি বিন মুর্তজা ১টি, নাজমুল ইসলাম অপু ১টি ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১টি করে উইকেট নেন।

এদিন ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ভারতের ওপেনিং জুটি ভাঙে বাংলাদেশ। বোলিংয়ে এসেই শিখর ধাওয়ানকে ফেরান নাজমুল ইসলাম অপু। সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন শিখর ধাওয়ান। ১৪ বল খেলে ১৫ রান করেন তিনি। ইনিংসের অষ্টম ওভারে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আম্বাতি রায়ডুকে ফিরিয়ে দেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ইনিংসের ১৭তম ওভারে রুবেল হোসেনের বলে নাজমুল ইসলাম অপুর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন রোহিত শর্মা। তিনি করেছেন ৪৮ রান। এরপর স্বস্তির ব্রেক থ্রু এনে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৩১তম ওভারে দিনেশ কার্তিককে এলডিব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। তিনি করেন ৩৭ রান। ৩৭তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ধোনি। তিনি করেছেন ৩৬ রান।

৪৮তম ওভারে রুবেল হোসেনের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন রবীন্দ্র জাদেজা। অবশ্য প্রথমে আম্পায়ার আউট দেননি। কিন্তু রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ৪৯তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ হন ভুবনেশ্বর কুমার।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.৩ ওভারে ২২২ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২১ রান করেন লিটন দাস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লিটন দাসের এটি প্রথম সেঞ্চুরি।

লিটন দাসের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ১২০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যক্তিগত ৩২ রানে সাজঘরে ফেরেন মিরাজ। সৌম্য সরকার করেছেন ৩৩ রান। বাকি সব ব্যাটসম্যানের রান দুই অঙ্কের নিচে। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে কুলদীপ যাদব ৩টি, কেদার যাদব ২টি, যুজবেন্দ্র চাহাল ১টি ও জ্যাসপ্রীত বুমরাহ ১টি করে উইকেট ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: তিন উইকেটে জয়ী ভারত।

বাংলাদেশ ইনিংস: ২২২ (৪৮.৩ ওভার)

(লিটন দাস ১২১, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২, ইমরুল কায়েস ২, মুশফিকুর রহিম ৫, মোহাম্মদ মিথুন ২, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪, সৌম্য সরকার, মাশরাফি বিন মুর্তজা ৭, নাজমুল ইসলাম অপু ৭, মোস্তাফিজুর রহমান ২, রুবেল হোসেন ০*; ভুবনেশ্বর কুমার ০/৩৩, জ্যাসপ্রীত বুমরাহ ১/৩৯, যুজবেন্দ্র চাহাল ১/৩১, কুলদীপ যাদব ৩/৪৫, রবীন্দ্র জাদেজা ০/৩১, কেদার যাদব ২/৪১)।

ভারত ইনিংস: ২২৩/৭ (৫০ ওভার)

(রোহিত শর্মা ৪৮, শিখর ধাওয়ান ১৫, আম্বাতি রায়ডু ২, দিনেশ কার্তিক ৩৭, মহেন্দ্র সিং ধোনি ৩৬, কেদার যাদব ২৩*, রবীন্দ্র জাদেজা ২৩, ভুবনেশ্বর কুমার ২১, কুলদীপ যাদব ৫*; মেহেদী হাসান মিরাজ ০/২৭, মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল ইসলাম অপু ১/৫৬, মাশরাফি বিন মুর্তজা ১/৩৫, রুবেল হোসেন ২/২৬, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১/৩৩)।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন