Breaking News
Home / বাংলাদেশ / ভারতের জন্য প্রস্তুত চট্রগ্রাম ও মংলা বন্দর

ভারতের জন্য প্রস্তুত চট্রগ্রাম ও মংলা বন্দর


বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে দক্ষিণ পূর্ব ভারতের চারটি বন্দরে পণ্য পরিবহণ শুরু হচ্ছে এ মাসেই। এ সংক্রান্ত সব কাজ প্রায় শেষ এবং সমুদ্রবন্দর দুটি ভারতের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আব্দুস সোবহান।
রোববার (০৭ অক্টোবর) সাউথ এশিয়া মেরিটাইম এন্ড লজিস্টিকস ফোরামের দ্বিতীয় সম্মেলন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খানও উপস্থিত ছিলেন।
গত মাসের ১৭ তারিখে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরের জন্য ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বি ইউজড অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া বিটুইন দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড দি রিপাবলিক অব ইন্ডিয়া’ চুক্তিটি খসড়ায় অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
সচিব জানান, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে দক্ষিণ পূর্ব ভারতে মালামাল পরিবহণের জন্য সক্ষমতার কোন সমস্যা নেই। প্রতিবছর মংলা ও চট্রগ্রাম বন্দর মিলে প্রায় চার হাজারের বেশি বিদেশি জাহাজ গ্রহণ করি। এর মধ্যে ৬০টি জাহাজ বাংলাদেশি। বাকি সব জাহাজই বিদেশি। কাজেই ভারত থেকে যেসব জাহাজ আমাদের এসব বন্দরে আসবে তার সব জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্দর নীতিমালাই হচ্ছে বেশি বেশি বিদেশি জাহাজ গ্রহণ করা। যত বেশি জাহাজ গ্রহণ করবো তত বেশি রাজস্ব হবে। এমনকি আমদানি-রফতানি বাড়বে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে ভারতের জাহাজ আসার পর দক্ষিণ পূর্ব ভারতে যে মালামাল বহন করবে তা যাবে বাংলাদেশি গাড়িতে। অর্থাৎ বাংলাদেশি ট্রাক ব্যবহার করলে আমরা এখান থেকে নানা ধরণের সুবিধা পাবো। এক্ষেত্রে সব ধরণের সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’
সচিব আরও বলেন, ‘এতে কোন ধরণের ভৌত কোন অসুবিধা হবে না। ইতোমধ্যে আমরা বন্দর সম্প্রসারণের সব ধরণের কাজ করেছি। চট্রগ্রাম বন্দরে গ্রে টারমিনাল হচ্ছে যেখানে আরও ১৩টি জেটি যুক্ত হবে। এ টার্মিনালটিতে আরও অনেক বেশি বিনিয়োগ বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে রোড কানেকটিভিটির ডিটেইল মাস্টার প্লান হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্লান বাস্তবায়নে বুয়েট কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ২৫ কিলোমিটার ড্রেজিং হবে চ্যানেলের ভিতরে এবং আর ৪৫ কিলোমিটার ডেজিং হবে সমুদ্রের ভিতরে।’
‘আর সমুদ্রের ভেতরে ড্রেজিং করার অভিজ্ঞতা আমাদের সেভাবে নেই। এজন্য ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে সমন্বয় করেছি। এ কাজে আমাদের মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে।’
‘প্রাথমিকভাবে এই বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে ৮৭০ মিলিয়ন ইউরো খরচ ধরা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে এর পরিমাণ বাড়বে।’
এছাড়াও মংলা বন্দরে মাটি ভরাট করে টার্মিনাল নির্মাণের যে কাজ সেটিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। সেখানে শেখ হাসিনা রোডসহ সব ধরণের রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখানে প্রায় তিন হাজার পাচঁশত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সম্মানজনকভাবে পাকা বাড়ি করে দেওয়া হবে।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন