সোমবার , অক্টোবর 21 2019
Breaking News
Home / সম্পাদকীয় আর্কাইভ / রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজে ভারতঃ বিপর্যয় ঘটলে দায় কার?

রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজে ভারতঃ বিপর্যয় ঘটলে দায় কার?

আজকের সম্পাদকীয়তে – লেখক “আখেনাটেন”

রূপপুর নির্মাণকাজেও যুক্ত হচ্ছে ভারত! -প্রথম অালো

শ্বেতহস্তীর বৃহদাকার স্ট্যাচু নির্মাণে নিয়োগ করা হচ্ছে পাড়ার ইটগাঁথা রাজমিস্ত্রীদের। স্ট্যাচু ভেঙে গেলে দায় কার? ধ্বংসের লেলিহান শিখা জনপদকে মিশিয়ে দিলে দায় কার? আমরা এক অবাস্তব ও অবিশ্বাস্য সময়ের মুখোমুখী। জাতীয় স্বার্থের চেয়ে গোষ্ঠীস্বার্থ আমাদেরকে মাঝে মাঝে অন্ধ করে দেয়। নিউজটা পড়ার পর এক ধরণের করুণা অনুভূত হচ্ছে কুশীলবদের জন্য। শুধু মনে হচ্ছে অমানুষ থেকে মানুষ হতে আমাদের আর কত শতাব্দী অপেক্ষা করতে হবে?
১৩ বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট মানে এক লক্ষ দশ হাজার কোটি টাকারও বেশি (ভুল পড়েন নি) খরচ হচ্ছে এই দানবের পেছনে। দেশে বিদ্যুতের দরকার। উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে ভীষণ ভাবেই দরকার। সরকার সেটা নানাভাবে চেষ্টা করছে সেজন্য প্রশংসাও প্রাপ্য। তবে সেটা অবশ্যই সাসটেইনেবল বা টেকসই হওয়াও ভীষণরকম জরুরী। আমরাই একমাত্র স্বল্পউন্নত দেশ যারা এইরকম বিলাসিতার পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গ্রোস পিরিয়ডের পর এর সুদসহ ক্রেডিট পরিশোধ করতে দেশের হালুয়া টাইট হয়ে যাওয়ার কথা।
আবার আমরাই একমাত্র দেশ যারা কোনো প্রকার প্রশিক্ষিত নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানী ছাড়াই এরকম সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ধার করা লোকদের দ্বারা কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবং আমরাই একমাত্র দেশ যার পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৫০ কিলোমিটার সারকামফেরেন্সের মধ্যে কয়েক কোটি লোকের বাস।
ভাবুন। নির্মাণ ত্রুটি বা অন্য কারণে একবার বিপর্যয় ঘটলে কি অবস্থা হবে? নিশ্চয় চেরনোবিল কিংবা জাপানের ফুকুসিমার কথা আমরা ভুলে যাই নাই। এবং রূপপুরে যে প্রযুক্তি (ভিভিইআর ১২০০) রাশিয়া সরবরাহ করছে তা রাশিয়ার বাইরে এই প্রথম। মানে তারাও আমাদেরকে টেস্ট গ্রাউন্ড ধরেই এগুচ্ছে। সাথে লাভের গুড়ের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি করতে ভারতকে (যার এ ধরণের প্রযুক্তি নিয়ে কোনো অভিজ্ঞতাই নেই) সঙ্গে নিয়েছে। আর এগুলো করা হয়েছে এদেশের কিছু সূর্যসন্তানের(!) পরামর্শে। এরাই মহান দেশপ্রেমিক নাতো কি ঐ রূপপুরের পাশের ক্ষেতে আলু চাষ করা হাড়জিরজিরে কৃষকটা দেশপ্রেমিক। যে আলুর ন্যায্য মূল্য না পেয়েও যুগযুগ ধরে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের র-মেটেরিয়াল উৎপাদন করে যাচ্ছে নিঃস্বার্থভাবে এসি রূমে বসে থাকা আমাদের জন্য।
ভারত তার নিজ স্বার্থে এই প্রকল্পে জড়াতে চাইবে এটা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ভারতকে পরামর্শক বাদে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা কোনো ভাবেই উচিত নয় ( কারণ ভারত নিজেও ভুগছে এ খাতে উন্নত প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে)। কিন্তু কোনো এক রহস্যজনক কারণে এখন ভারত এর নির্মাণেও অংশগ্রহণ করবে। হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে হার্টের বাইপাস সার্জারী। রোগী মরলে কী আর বাঁচলেই কী? হসপিটাল পরিচালনাকারীদের তো আর কিছু হচ্ছে না!!!

About জানাও.কম

Check Also

প্রাইম মিনিষ্টার সৌদী, মোদী, বৌদিদের বিনিয়োগ কেন চায়?

আজকের সম্পাদকীয়তে – চাদঁগাজী মনে হয়, এটা বিনিয়োগের ব্যাপার নয়, আসলে কৌশলে ভিক্ষা চাওয়া; সৌদীরা …

মন্তব্য করুন