Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / লাহোরে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ, উত্তাল পাকিস্তান

লাহোরে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ, উত্তাল পাকিস্তান


মহানবীকে (সা.) নিয়ে ‘কটূক্তি’র দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আছিয়া বিবিকে খালাস দেয়ার প্রতিবাদে হাজার হাজার পাকিস্তানি রাস্তায় নেমে এসেছে। এ প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির বড় বড় শহরে। সহিংসতা এড়াতে পাকিস্তানের বৃহৎ শহর লাহোরে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেশটির প্রভাবশালী পত্রিকা ডন নিউজ জানিয়েছে, লাহোরের অনেক অধিবাসী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন তারা মোবাইলে কোনো নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন না। ফলে উত্তাল শহরে স্বজনদের খোঁজখবর নিতে পারছেন না।

এর আগে গতকাল বুধবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্ত আছিয়া বিবিকে খালাস দিয়ে রায় প্রদান করেন। রায়ে বলা হয়, ‘সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে বাদীপক্ষ। তাছাড়া তুচ্ছ ঘটনায় করা এ মামলার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তাই তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে খালাস দেয়া হয়েছে। অন্য কোনো মামলা না থাকলে আছিয়া বিবি মুক্তি পেতে পারেন।’

এরপরই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠেছে পাকিস্তান। দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদ, করাচি ও রাওয়ালপিন্ডিসহ বড় বড় শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন প্রদেশের প্রধান প্রধান সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় মুসলমানরা।

খবরে বলা হয়, রায় ঘোষণার পর দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তা অবরোধ করেন। এ ছাড়া করাচি ও পেশোয়ারের মতো কয়েকটি শহরে মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অভিযোগ করে বলেছেন, রায়ের পর কট্টর ডানপন্থিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি) আছিয়াকে মুক্তি দিলে পাকিস্তান অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল।

২০১০ সালে ধর্ম অবমাননার দায়ে আছিয়া বিবিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল পাকিস্তানের নিম্ন আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি ২০১৫ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। সে আপিল আমলে নিয়ে বুধবার দেশটির প্রধান বিচারপতি মঈন সাকিব নাসেরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ আছিয়া বিবিকে খালাস দেন। এ সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় ইথান ওয়ালি গ্রামের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী আছিয়া বিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০০৯ সালে একই পাত্রের পানি পান করা নিয়ে দুজন নারীর সঙ্গে বিতর্কের সময় ধর্ম অবমাননা করেন। পরে ওই দুই নারী তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন। সে মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

এদিকে হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আছিয়া বিবির স্বামী বলেন, ‘আমি ও সন্তানরা খুবই খুশি। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে আমাদের বিচার বিভাগকেও। আমার স্ত্রী ভুল করেছিল সেটা সে স্বীকার করেছে, তার জন্য সে শাস্তিও পেয়েছে। আশা করি, মুক্ত হওয়ার পর আমরা শঙ্কামুক্তভাবে বসবাস করতে পারবো।’

এদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী সাইফুল মুলক বলেন, ‘এ রায়ে প্রমাণিত হলো যে নির্যাতিতরা দেশের কোথাও ন্যায় বিচার না পেলেও সুপ্রিম কোর্টে এসে পায়।’

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন