শনিবার , ডিসেম্বর 7 2019
Breaking News
Home / খেলাধুলা / নয়া ইতিহাস গড়ে সবচেয়ে বড় জয় বাংলাদেশের, হোয়াইটওয়াশড ওয়েস্ট ইন্ডিজ

নয়া ইতিহাস গড়ে সবচেয়ে বড় জয় বাংলাদেশের, হোয়াইটওয়াশড ওয়েস্ট ইন্ডিজ


উইন্ডিজ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে কাজটা আগেই সহজ করে রেখেছিল স্বাগতিক বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তারপর বোলিংয়ে আরও দুর্দান্ত। মিরপুরে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫০৮ রানের জবাবে খেলতে নেমে ১১১ রানে সবকটি উইকেট হারিয়ে ফলোঅনে পড়ে ব্রায়ান লারার উত্তরসূরী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও সাকিব-মিরাজদের ঘূর্ণিতে ২১৩ রানে ঘুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ফলে ইনিংস এবং ১৮৪ রানের বিশাল জয় পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। আর এই জয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। কেননা, এর আগে সাদা পোশাকে ইনিংস এবং রানের ব্যবধানের জয় আগে কখনও পায়নি বাংলাদেশ। আজ রচিত হয়েছে নতুন ইতিহাস।

আর এই জয়ে ২-০ জিতে সফরকারীদের হোয়াইওয়াশ করল সাকিব বাহিনী। প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫ উইকেট নিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট নেওয়া সাকিব দ্বিতীয় ইনিংসে নিলেন এক উইকেট। প্রথম ইনিংসে উইকেট শূন্য তাইজুল ইসলাম শেষের ইনিংসে নিলেন ১ উইকেট।

প্রথম ইনিংসের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ইনিংসেও একের পর এক উইকেট হারায় ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের দল। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগে ২৯ রানে হারিয়েছে ৪ উইকেট। শেষ পর্যন্ত সেই ৪ উইকেটে ৪৬ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪ উইকেটে ৪৬ রান নিয়ে লাঞ্চ থেকে ফিরে আসার পর সাই হোপ আর শিমরন হেটমায়ারের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দু’জনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৫৬ রানের জুটি। পুরো ঢাকা টেস্টে এটাই ছিল ক্যারিবীয়দের সেরা জুটি। মধ্যাহ্ন বিরতির পর হেটমায়ার আর সাই হোপের এই জুটি যখন ভাঙা খুব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন ব্রেক থ্রুটা এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ইনিংসের ২৮তম ওভারের চতুর্থ বলে মিরাজকে খেলতে গিয়ে শর্ট মিডউইকেটে ধরা পড়েন সাই হোপ। ক্যাচ ধরেন সাকিব আল হাসান। ৭৫ বলে ২৫ রান করে বিদায় নেন হোপ। ৫ম উইকেপ পড়ে ৮৫ রানে। সাকিব মিরাজের উইকেট সাম্রাজ্যে আগেই ভাগ বসিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। এবার উইকেট নেয়ার তালিকায় নাম লেখালেন নাঈম হাসানও। ৩৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ৩ রান করে আউট হন শেন ডওরিচ। নাঈম হাসানের বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৯৬ রানে পড়ে ৬ষ্ঠ উইকেট। ৬ষ্ঠ উইকেট পরার পর এক প্রান্ত আগলে রেখে হাত খুলে খেলতে থাকেন শিমরন হেটমেয়ার। ৯২ বলে একটি চার আর ৯টি ছক্কায় তিনি করেন ৯৩ রান। মিরাজ ফিরিয়ে দেন তাকে। দলীয় ১৬৬ রানের মাথায় অষ্টম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর মিরাজ বিদায় করেন জোমেল ওয়ারিকানকে। শেষ ব্যাটসম্যান শিরমন লুইসকে ফেরান তাইজুল। ব্যক্তিগত ২০ রানে আউট হন লুইস, কেমার রোচ অপরাজিত থাকেন ৩৭ রানে। ২১৩ রানে অলআউট হয় ক্যারিবীয়ানরা। মিরাজ ৫টি, তাইজুল ৩টি, সাকিব ও নাঈম একটি করে উইকেট পান। গত উইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল, সেই ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দেওয়া গেছে প্রথম ইনিংসে সফরকারীদের ১১১ রানে গুটিয়ে দিয়ে।

এর আগে দ্বিতীয় দিন ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলেই সাকিব বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন ক্যারিবীয়ান ওপেনার কার্লোস ব্রাথওয়েইটকে। এরপর মিরাজ বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার কাইরন পাওয়েলকে (৪)। দলীয় ৬ রানে ক্যারিবীয়ানরা দুই ওপেনারকে হারায়। দলীয় ১৭ রানের মাথায় ইনিংসের নবম ওভারের শেষ বলে সাকিব বোল্ড করেন সুনীল অ্যামবিসকে (৭)। এরপর শিকারে আবারো যোগ দেন মিরাজ। ফিরিয়ে দেন রোস্টন চেজকে। দলীয় ২৯ রানে মিরাজ নিজের তৃতীয় উইকেট নিতে ফিরিয়ে দেন ১০ রান করা শাই হোপকে। টপঅর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানই বোল্ড হন। নাঈম হাসান নিজের প্রথম ওভারে এলবির ফাঁদে ফেলেন শিমরন হেটমেয়ারকে। আম্পায়ার আলিম দার আউট ঘোষণা করলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান হেটমেয়ার। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৫ রান। তাতে স্বাগতিকদের থেকে ৪৩৩ রানে পিছিয়ে থাকে সফরকারীরা।

তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের শুরুতে মিরাজ ফিরিয়ে দেন শিমরন হেটমেয়ারকে (৩৯)। নিজের বলে নিজেই দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মিরাজ। দলীয় ৮৬ রানের মাথায় উইন্ডিজরা ষষ্ঠ উইকেট হারায়। স্কোরবোর্ডে আর দুই রান যোগ হতেই আবারো আঘাত হানেন মিরাজ। এবার ফিরিয়ে দেন দেবেন্দ্র বিশুকে। এর মধ্যদিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট পান মিরাজ। সাকিব নতুন ব্যাটসম্যান কেমার রোচের সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি। পরের ওভারে মিরাজ তার ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন, ফিরিয়ে দেন কেমার রোচকে। দলীয় ৯২ রানের মাথায় উইন্ডিজ তাদের অষ্টম উইকেট হারায়। দলীয় ১১০ রানে শেন ডরউইচকে (৩৭) এলবির ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। শেষ ব্যাটসম্যান শিরমন লুইসকে এলবির ফাঁদে ফেলেন সাকিব। মিরাজ সাতটি, সাকিব তিনটি উইকেট পান। এটাই মিরাজের ক্যারিয়ার সেরা টেস্ট বোলিং। ৩৯৭ রানের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ফলোঅন করানোর সিদ্ধান্ত নিতে দুই বার ভাবতে হয়নি টাইগার দলপতি সাকিবকে।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে টাইগারদের হয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২৪২ বলে ১০টি বাউন্ডারিতে করেন ক্যারিয়ার সেরা ১৩৬ রান। অভিষিক্ত ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ৭৬ রান। দলপতি সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ৮০ রান। জাতীয় দলের আবারো ফেরা লিটন খেলেন ৫৪ রানের ইনিংস। এছাড়া, ওপেনার সৌম্য সরকার ১৯, মুমিনুল হক ২৯, মোহাম্মদ মিঠুন ২৯, মুশফিকুর রহিম ১৪, মেহেদি হাসান মিরাজ ১৮, তাইজুল ইসলাম ২৬ আর নাঈম হাসান অপরাজিত ১২ রান করেন। তাতে বিরল এক রেকর্ডে নাম লেখায় বাংলাদেশের ইনিংস। ১১ ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকের ডাবল ফিগারে যাওয়ার ঘটনা টেস্টের ইতিহাসে এ নিয়ে ঘটে মাত্র ১৪ বার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি করে উইকেট পান কেমার রোচ, দেবেন্দ্র বিশু, কার্লোস ব্রাথওয়েইট এবং জোমেল ওয়ারিকান। একটি করে উইকেট পান শিরমন লুইস এবং রোস্টন চেজ।

চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিল ৬৪ রানের ব্যবধানে। এই ম্যাচের আগে নিজেদের খেলা সবশেষ ৫ টেস্টে টানা দুটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ আর টানা তিনটিতেই হেরেছিল ক্যারিবীয়ানরা। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম টেস্টে চোট পেয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার বদলে নেতৃত্বভার পেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করেছিলেন সাকিব। ৯ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আবারও ধবলধোলাইয়ের সুযোগ পায় বাংলাদেশ।

About বার্তা সম্পাদক

Check Also

সাকিব-তামিম দলে থাকা স্বস্তিদায়ক : মাশরাফি

সাবিক আল হাসান এবং তামিম ইকবাল দলে থাকা প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের জন্য স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের …

মন্তব্য করুন