Breaking News
Home / বাংলাদেশ / তীব্র শীতে কাঁপছে তেঁতুলিয়া তাপমাত্রা ৪ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা

তীব্র শীতে কাঁপছে তেঁতুলিয়া তাপমাত্রা ৪ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি ঃ
এবার শীত মৌসুমে দীর্ঘদিন ধরেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রার শীত পোহাচ্ছে দেশের উত্তরাঞ্চলের তেঁতুলিয়া জনপদের সর্বসাধারণ মানুষ। বেশ কয়েকদিন শৈত্যপ্রবাহের কারণে দিনভর মেঘলা আকাশ ও কুয়াচ্ছন্ন থাকায় দেখা যায়নি সূর্যের মুখ। গত তিনদিন কুয়াশার সাথে দিনের বেলায় মেঘলা আকাশে ঝরেছে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। তবে নতুন ২০২০ সালের আজ মঙ্গলবার ভোর ছয়টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছর ২০১৯ সালে জানুয়ারীতে এর নিম্নতাপমাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৮ সালে ৮ জানুয়ারী দেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সোমবার সন্ধ্যা নামতেই অনুভূত হতে থাকে তীব্র শীত। কুয়াশা না থাকলেও বইতে থাকে হিমশীত হাওয়ায়। এ হিমশীতল হাওয়ায় সন্ধ্যার পর যেন বাজারের জনশুন্য হতে থাকে। তীব্র শীতে নাকাল হয়ে পড়ে সীমান্তঘেষা প্রান্তিক মানুষ। বাজারের বিভিন্ন স্থানে কাগজের কার্টুন বাক্স, টায়ারে আগুন লাগিয়ে হাড়কাঁপানো শীত নিবারন করতে দেখা যায়। গ্রামাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষগুলোকে বাড়ির উঠোনে, রান্নাঘরের চুলার আগুনে শীত নিবারণ করতেও দেখা যায়। কোথাও শীতবস্ত্র বিতরণের কথা জানতে পারলে সেখানে হাজির হচ্ছে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষগুলো।
এদিকে তীব্র শীতের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। উত্তরের হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে দেশের সর্ব উত্তরের এই জনপদের বাসিন্দারা। হিমালয়ের খুব কাছাকাছি জেলা হওয়ায় পঞ্চগড়ে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হিমালয়ের হিম বায়ু প্রবেশ করায় নিম্নতাপমাত্রা প্রবাহিত হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীতের তীব্রতার কারণে ঠিকমতো কাজও করতে পারছেন না শ্রমজীবী মানুষ।
মঙ্গলবার ভোরের পরিস্কার আকাশে সূর্যের আলো দেখা গেলেও অনুভূত হয় হাঁড়কাপানো শীত। দর্জিপাড়া এলাকার বেশ কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের ঠকঠক করে কাঁপতে দেখা যায়। কথা হলে তারা জানান, চার/পাঁচদিন ঠান্ডা কম ছিল। কিন্তু আইজকা খুব ঠান্ডা লাগতাছে। তবে পেটের দায়ে তীব্র এ শীতকে উপেক্ষা করেই কাজে ফিরছিলেন বেশ কয়েকজন পাথর শ্রমিক। তারা সীমান্তঘেষা মহানন্দা নদীতে পাথর তুলতে যাবেন। এরকম হাঁড়কাঁপানো শীতে কাজে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারা জানান, ঠান্ডা বাতাসের মধ্যে হাত-পা পানিতে সামান্য ভিজলেই জমে আসে। কিন্তু কি করবো, ক্ষুধার্ত পেট তো শীত বুঝে না।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হিমেল বাতাস সরাসরি প্রবাহের কারণে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দিনের বেলা সূর্যের সঙ্গে রোদের দেখা মিললেও উত্তরের হিম বায়ুতে সেই রোদের উষ্ণতা থাকছে না। তিনি বলেন, দিনে রোদের দেখা মিললেও রাতে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। নতুন বছরে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের গতকাল মঙ্গলবার সকাল ভোর ৬টায় ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি ও সকাল ৯টায় ৬ দশমিক সেলসিয়াস নিম্নতাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। আগামী দু-এক দিনে ৪ থেকে ৩ ডিগ্রিতে নামার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।

About বার্তা সম্পাদক

মন্তব্য করুন