Breaking News
Home / বাংলাদেশ / প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে থাকায় মহিলা এমপি’র অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা মুক্তিযোদ্ধাদের

প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে থাকায় মহিলা এমপি’র অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা মুক্তিযোদ্ধাদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হাসান জাবেদ:
সরাইলে মহিলা এমপি’র সকল অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ৪১তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য (৩১২) উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলী আজাদ একটি অনুষ্টানে উপস্থিত না থাকায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এই ঘোষনা দেন। সকাল ১০টায় উদ্ধোধনের কথা থাকলেও সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা মিলানায়তন ছিল ফাঁকা। বেলা ১২টায় ব্যানারে লিখা বিশেষ অতিথি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরকে প্রধান অতিথি ঘোষণা দেন আয়োজকরা। শিউলী আজাদ বলেন আমাকে প্রধান অতিথি করে ইউএনও-ই নেই। আসলে এটা ছিল একটা নাটকিয়তা।

সরজমিন ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলা চত্বরের বিজ্ঞান মেলায় ২টি কলেজ সহ মোট ১৫টি শিক্ষা অংশ গ্রহনে তৈরী করা হয়েছে ১৫টি ষ্টল। আলোচনা সভার জন্য মিলনায়তনকে সাজানো হয়েছে অন্যরুপে। প্রধান অতিথিকে বরণ করতে উপজেলা প্রশাসনের ফুলের তোড়াও প্রস্তুত। উদ্ধোধনের জন্য প্রস্তুন ফিতা ও কেচি (সিজার)। প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহকে উপেক্ষা করে সকাল ৯টা থেকেই আসতে থাকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ১০টার আগেই হাজির হন বিশেষ অতিথিবৃন্দ। আসেন দর্শনার্থীরাও। যার যার ষ্টলে দাঁড়িয়ে যায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। ঘড়ির কাটায় সকাল ১১টা। আসছেন না প্রধান অতিথি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জরুরী সভায় চলে গেছেন নির্বাহী কর্মকর্তা। উনার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াংকা। সাড়ে ১১টার পর অস্থির হয়ে পড়েন শিক্ষার্থী ও বিশেষ অতিথিরা। ভিন্ন ধরনের আলোচনা চলতে থাকে উপজেলা চত্বরে। এক সময় আয়োজকরা নিশ্চিত হন প্রধান অতিথি আসবেন না। নির্ধারিত সময়ের ২ ঘন্টার পর ১২টার দিকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন আয়োজকরা।

ব্যানারে লিখা বিশেষ অতিথি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরকে ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি। আর সভাপতিত্ব করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াংকা। মঞ্চে আসেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. ইসমত আলী। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদ খালিদ জামিল খানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- সরাইল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নোমান মিয়া, সরাইল মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি মো. আইয়ুব খান, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন ও জেলা পরিষদের সদস্য মো. পায়েল হোসেন মৃধা। পরে প্রধান অতিথি, সভাপতি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ ফিতা কেটে মেলার উদ্ধোধন করে ষ্টল গুলো পরিদর্শন করেন।

উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.ইসমত আলী ও ডেপুটি কমান্ডার মো.আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা মহিলা এমপিকে বরাবরই সম্মান করছি। উনার অনুষ্ঠানে হাজির হচ্ছি। কিন্তু গত বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে তিনি আমাদের অসম্মান করেছেন। তাই আমরা সাংগঠনিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি উনার কোন অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধারা যাবে না। আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠানে উনি থাকলে আমরা যেতাম না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম মোসা বলেন, আমরা সকাল ১১টা পর্যন্ত জানতাম তিনি আসছেন। এর কিছুক্ষণ পর অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে জানতে পারলাম তিনি আসবেন না। তাই এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দিলাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রধান অতিথি করে উদ্বোধন করে ফেলতে। মহিলা এমপি উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে দাওয়াত দিলেন আর তিনি নিজেই নেই। তাহলে আমি কিভাবে ওই অনুষ্ঠানে যায়। সভাপতির বক্তব্য আমি শুনেছি। প্রশাসনের পরিকল্পনাই ছিল রফিক ঠাকুর উদ্ধোধন করবেন। আমাকে প্রধান অতিথি করা একটা নাটক। মুক্তিযোদ্ধারা আপনার অনুষ্ঠান বর্জন করবে এমন কথার উত্তরে তিনি বলেন, উনাদের সাথে আমার সম্পর্ক ভাল। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা মুঠোফোনের সাহায্যে আমার খোঁজ খবর নিয়েছেন।

About বার্তা সম্পাদক

মন্তব্য করুন