Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / চুনারুঘাটের মুড়ারবন্দ দরগা’র ৬৯৯তম ওরস শুরু হয়েছে আজ

চুনারুঘাটের মুড়ারবন্দ দরগা’র ৬৯৯তম ওরস শুরু হয়েছে আজ

মাধবপুর প্রতিনিধি এনামুল হক আরিফ : চুনারুঘাট উপজেলার মুড়াবন্দে ১২০ আউলিয়ার মাজার শরীফের ঐতিহাসিক পবিত্র ওরস মোবারককে উপলক্ষ করে দরগাহ প্রাঙ্গন ও আশপাশের এলাকা সাজানো হয়েছে দৃষ্টি নন্দন রূপে।

আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক মুড়ারবন্দ দরবার শরীফে ৬৯৯ তম বাৎসরিক পবিত্র ওরস মোবারক।

হযরত সৈয়দ নাছির উদ্দিন সিপাহশালা (রঃ) সহ ১২০ আউলিয়ার মাজার শরীফ মুড়ারবন্দে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও তিনদিন ব্যাপী ওরসকে সফল করতে ইতোমধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পুলিশের সাথে আনসার, গ্রাম পুলিশ সহায়তা করবে বলে জানা গেছে। বাড়তি নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক জানান, “জোয়া খেলা থেকে শুরু করে অশ্লীল কোনো কিছুই চলবে না পবিত্র ওরস মোবারকে। দুষ্কৃতকারী ও নাশকতাকারীদের শক্ত হাতে দমন করবে থানা-পুলিশ। মাজারের পবিত্রতা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কয়েকদিন আগে থেকেই মাঠে সাদা পোশাকে কাজ করছে পুলিশ। কেউ নাশকতা যাতে সৃষ্টি না করতে পারে, এদিকে আমাদের কড়া নজর থাকবে। মাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”

ওরস উপলক্ষে ৩দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ওরস শেষ হবে বুধবার ১৫ জানুয়ারি।

মুড়ারবন্দ দরবার শরীফের মোতাওয়াল্লী আলহাজ্ব সৈয়দ সফিক আহম্মেদ (সফি) চিশতি জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ওরস মোবারক সম্পন্ন হয়, এজন্য আমরা সকল কর্মকান্ড ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছি। আশা করছি, ভক্ত আশেকানের উপস্থিতিতে এবারের ওরস সফল ও সার্থক হবে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে জাতি, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে ৬৯৯তম ওরস মোবারকে আসা শুরু করেছেন।

প্রসঙ্গত, সিলেটে হযরত শাহজালাল (রঃ) এর সাথী ৩৬০ আউলিয়ার মধ্যে বহুল আলোচিত ব্যক্তিত্ব তরফ বিজয়ী সিপাহসালার (মদনী) হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রঃ) ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে সিলেট বিজয়ের পর তরফ রাজ্য বিজয় করেন। ১৩০৪খ্রিস্টাব্দে মুড়ারবন্দ নামক স্থানে তরফ রাজ্যের শাসনকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হয়ে বসতি স্থাপন করেন। তিনি মৃত্যুর পূর্বে বলেছিলেন তার দেহ মোবারক পূর্ব-পশ্চিমে দাফন করার জন্য কিন্তু তার সঙ্গী সাথীরা এ আদেশ কেহই মানল না। শরিয়তের বিধানমতে মাজার উত্তর-দক্ষিণে দাফন করেন ভক্তবৃন্দ। দাফন করে সবাই ৪০ কদম দূরে যাওয়ার পর অলৌকিকভাবে মাজার পূর্ব-পশ্চিমে ঘুরে যায়। তার মাজার এখনো পূর্ব-পশ্চিমেই রয়েছে। ওরসে অংশগ্রহণের জন্য আশেকান।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন