রবিবার , জানুয়ারী 26 2020
Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / সড়কের দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি পাবে জনগণ-নাগরিক সভায় পৌর মেয়র-কউক চেয়ারম্যানের আশ্বাস

সড়কের দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি পাবে জনগণ-নাগরিক সভায় পৌর মেয়র-কউক চেয়ারম্যানের আশ্বাস

কক্সবাজার প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান আবির :শহরের প্রধান সড়কসহ খানা-খন্দে ভরপুর সকল সড়কের দুর্ভোগ থেকে জনগণ দ্রুত মুক্তি পাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) কক্সবাজার প্রেসক্লাব প্রাঙনে ‘কক্সবাজার শহরের জনদুর্ভোগ ও বেহাল সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবীতে’ আয়োজিত নাগরিক সভায় এই আশ্বাস
দেন। নাগরিক সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। সঞ্চালনা করেন নাগরিক আন্দোলনের নেতা ইমরুল কায়েস।
নাগরিক সভায় বক্তারা বলেন, শহরের প্রধান সড়ক ৯০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। যান চলাচল ও লোক চলাচলের উপযোগী নয়। মানুষের দুর্ভোগের সীমা ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলারা ভীষণ কষ্টে আছে। কউক চেয়ারম্যান বার বার আশার বাণী শুনিয়েছেন, কিন্তু সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখিনি। রাস্তার কারণে পর্যটকেরা কক্সবাজার বিমুখ হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ধর্য্যরে সীমা আর নেই। তাই দলমত নির্বিশেষে সবাই সড়ক সংস্কারের দাবীতে আন্দোলনে নেমে এসেছে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, আমরা আর আশ্বাসের বাণী শুনতে রাজী নই, দ্রুত সড়কের সংস্কার চায়। নয়তো জনগণ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, কক্সবাজারে লাখো কোটি টাকার উন্নয়ন হচ্ছে বলে নিয়মিত প্রচার হচ্ছে। কিন্তু সেই উন্নয়ন থেকে কক্সবাজারবাসী কতটুকু উপকৃত হচ্ছে। যে উন্নয়ন থেকে নাগরিকরা লাভবান হবে না সেই উন্নয়ন কতটুকু যৌক্তিক। আমরা চাই, কক্সবাজারবাসীর নাগরিক সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। যতক্ষণ পর্যন্ত নাগরিক সমস্যার সমাধান হবেনা ততক্ষণ পর্যন্ত নাগরিক সমাজ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবে।
নাগরিক আন্দোলনের নেতারা বলেন, কউক চেয়ারম্যান আমাদেরকে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার গল্প শুনিয়েছিলেন। আমরা আর সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার স্বপ্ন দেখতে চাইনা। আমরা চাই, সেই ১৫ বছর আগের স্বাস্থ্যসম্মত কক্সবাজার। আমরা চাই, দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি।
তারা আরও বলেন, জাগ্রত না হওয়ার কারণে নাগরিকরা অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে যদি প্রত্যেকটি দাবী আদায়ের জন্য নাগরিকরা সোচ্চার হয়, তাহলে কেউ দায় এড়াতে পারবে না। আমাদেরকে অধিকার বঞ্চিত করতে পারবে না।
সভায় বক্তারা বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় কক্সবাজারের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। কিন্তু এখানকার দায়িত্বরতদের সমন্বয়হীনতার কারণে কোন উন্নয়নই হচ্ছে না। সমন্বয়হীনতার কারণে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। সবাইকে এক টেবিলে বসে আগে সর্বসম্মত হতে হবে। সমন্বয় করতে হবে। তারপর কক্সবাজারের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
বক্তারা আরও বলেন, পৌরসভার নালা-নর্দমা দখল করে নিয়েছে কিছু দখলবাজ। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি উঠে যায়। কঠিন দুর্ভোগের সময় পার করছে নাগরিকরা। দুর্ভোগের সমাধান দরকার। এব্যাপারে নাগরিকরা মেয়রের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, সড়ক সংস্কারে ১৫০ কোটি টাকা টেন্ডার হয়েছে ইতোমধ্যে। আরও ৩০০ কোটি টাকার টেন্ডার দ্রুত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৬ মাসের মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভা বদলে যাবে।
তিনি বলেন, আমাকে আরেকটু সময় দিন, একটু ধৈর্য্য ধরুন। শতভাগ উন্নয়ন বুঝিয়ে দেব। তিনি আরও বলেন, ভাল কাজ করার জন্য পরামর্শ দিন, শহরটাকে সাজানোর জন্য সুযোগ দিন। জনগণ যে সম্মান আমাকে দিয়েছে তা আমি ফিরিয়ে দিব।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, প্রধান সড়কের উন্নয়নের দায়িত্ব নেওয়াটা আমার বড় ভুল ছিল। জনগণ প্রধান সড়কে দুর্ভোগে আছে, কষ্ট পাচ্ছে এটা আমি অনুভব করি। আমিও ভুক্তভোগী। আজ (সোমবার) সকাল থেকে আপাতত খানা-খন্দ ভরাটের কাজ শুরু করেছি। তিনদিনের মধ্যে দুর্ভোগ লাঘব করবো।
তিনি বলেন, প্রধান সড়কের স্থায়ী সংস্কার কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবো।
নাগরিক সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা, পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রনজিত দাশ, সিভিল সোসাইটির সভাপতি ফজল কাদের চৌধুরী, কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি তোফায়েল আহমেদ, কক্সাবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আয়াছুর রহমান, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, প্রথম আলোর সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস রানা, সাংস্কৃতিক কর্মী তাপস রক্ষিত, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রাসেদুল ইসলাম, জেলা যুবলীগ সভাপতি সোহেল আহমেদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সোহেল, দৈনিক হিমছড়ির সম্পাদক হাসানুর রহমান, দৈনিক বাঁকখালী সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়–য়া অপু, নাগরিক আন্দোলনের নেতা এইচএম নজরুল ইসলাম, পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল আলীম নোবেল, কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের মো. হেলাল, আইনজীবী রেজাউর রহমান, আইনজীবী সাকি এ কাউসার, দৈনিক কক্সবাজার একাত্তরের সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার, সমাজকর্মী ফাতেমা আনকিজ ডেইজি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, ব্যবসায়ী নেতা জেবর মুল্লুক, ডা. সাজ্জাদ কাশেম, যুবলীগ নেতা কুতুব উদ্দিন, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা অন্তিক চক্রবর্তী, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ। সভায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

About জানাও.কম

Check Also

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে বসছে ই-গেইট

চৌধুরী মুহায়মিন সোবহান ফাহিমঃ মাত্র ১৫ সেকেন্ডে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পার হওয়ার …

মন্তব্য করুন