Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফসলি জমিতে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করে পুকুর খনন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফসলি জমিতে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করে পুকুর খনন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফসলি জমিতে ড্রেজার ও বেকু দিয়ে নির্বিচারে আবাদি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ ও বালু বিক্রির ধুম পড়েছে। যার ফলে আগামী দিনে দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনে লক্ষ্য মাত্রায় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় ধান চাষ করে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। তাই পুকুর খনন করলে বালি বিক্রি করা যায় আবার সে পুকুরে মাছও চাষ করা যায়। দুটুতেই লাভ জনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় খুব ও হতাসা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে স্থানীয় ভাবে গিয়ে দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় মাছিহাতা ইউনিয়নের কাজীর খোলা গ্রামের হাজী হরমুজ মিয়ার ছেলে মোঃ ছাদেক মিয়া গং প্রায় তিন একর, ফোরকান মিয়ার গং এর নেতৃতে চান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মসজিদ সংলগ্ন ফসলি জমিতে প্রায় দুই একর। সুলতাপুর সিলেট কুমিল্লা হাইওয়ে আখাউড়া বাই পাসের উত্তর পূর্ব দিকে রিপন মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন নুরু মোল্লা গং পুকুর থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এই ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের ফলে আশে পাশে ফসলি জমি ও বসত বাড়ির বিশাল আকারে ভাংঘনের সৃষ্টি হওয়ার আসংখ্যা দেখা দিয়েছে। সুলতানপুর একাই জায়গায় প্রায় আট একরের অধিক জমিতে প্রায় বিশটি পুকুর খনন করে মাছ চাষের প্রজেক্ট তৈরী করছে। এতে করে দিন দিন ফসলি জমি কমে আসছে। যা ভবিষ্যতে বিশাল খাদ্য ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশংকা দিবে। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এত বড় বিশাল জনগোষ্ঠী খাদ্য যোগারের জন্য জমি না বাড়িয়ে বরং কমিয়েয় চলছে। প্রশাসনিক লোকজন দেখে ও না দেখার বান করছে। কিছু কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায় বর্ষা মৌসুমে পুকুর হিসাবে ভাড়ার জন্য ২ শতাংশ জমি হিসাবে ৫শত টাকা করে তারা পেয়ে থাকেন।
কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তার সাথে আলাপ করলে তিনি জানান কৃষি জমিতে বসত বাড়ি, পুকুর বাড়ি কিংবা অন্যান্য স্থাপনা তৈরী করতে গেলে কৃষি অফিসে আবেদন করলে তা মাননীয় জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে জমি স্থান রূপ পরিবর্তন করার অনুমতি পাওয়ার পরেই উক্ত জমিতে বাড়ি, পুকুর ও অন্যান্য স্থাননা নির্মাণ করা যেতে পারে। আর অনুমতি ব্যাতি রেখে যারা নির্মাণ করবে তারা আইনত দন্ডনিয়।
এব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরে রিসোর্স অফিসার রুনায়েত আমিন রেজা বলে ফসলি জমিতে পুকুর খননে আমাদের সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনা নেই। তবুও আমি ঐ সব এলাকা পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী সদর স্যার কে বিষয়টি অবগত করি।
এব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব পঙ্কজ বড়–য়া সাথে ফোনে আলাপ করলে তিনি জানান উক্ত ব্যাপারে আমরা কোন অভিযোগ পায়নি। তবুও পুকুর খনন করা আইন দন্ডনিয়, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে দূষিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সহকারী জেলা প্রশাসক মোঃ সামছুজ্জামানের সাথে ফোনে কথা বললে তিনি জানান ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা আইনত দন্ডনিয়। কেউ যদি এরকম অপরাধ করে থাকে বা প্রশাসনের কেউ যদি উক্ত বিষয়ে জরিত থাকে তাহলে আইন বিধি অনুযায়ী সকল দুষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন