Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল চত্বরে শক্তিশালী এ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটঃ রোগীদের ভোগান্তি শেষ নেই

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল চত্বরে শক্তিশালী এ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটঃ রোগীদের ভোগান্তি শেষ নেই

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চলছে বে-সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের রমরমা ব্যবসা। হাসপাতালের নার্সিং ইন্সটিটিউটের সরকারি ড্রাইভার মোঃ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট শক্ত হাতে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী জিম্মি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা এবং জেলা স্বাস্থ্যসেবা কমিটিতে আলোচনা হলেও কোন সমাধান হয়নি। বরং দিন দিন বাড়ছে ওই সিন্ডিকেটের বেপরোয়া আচরণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে কোন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ অন্য জেলায় নিতে হলে রোগীর স্বজনরা তাদের পছন্দমতো এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে পারেন না। সিন্ডিকেটের কাছ থেকে চড়া মূল্যে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ৫০/৬০টি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও আধুনিক ও মানসম্মত এ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা খুবই কম। সিন্ডিকেটের চাপে পড়ে রোগীর স্বজনরা লক্কর-ঝক্কর মার্কা এ্যাম্বুলেন্স নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ লক্কর-ঝক্কর মার্কা এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে চাইলে ওই রোগীর স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানান, হাসপাতালের নার্সিং ইন্সটিটিউটের সরকারি চালক রফিকুল ইসলাম এই এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করেন। তিনি শহরের কয়েকজন প্রভাবশালীকে সাথে নিয়ে শক্ত হাতে বছরের পর বছর ধরে এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা পরিচালনা করছেন। রফিকের নিজেরও আছে চারটি এ্যাম্বুলেন্স। তিনি সরকারি গাড়ি না চালিয়ে এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা পরিচালনা করেন। যার জন্য এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা।
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তাসহ দালাল ও অবৈধ এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব নিয়ন্ত্রন করতে হলে হাসপাতালে সার্বক্ষনিক পুলিশী তদারকী প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মোঃ শাহআলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, হাসপাতালের নার্সিং ইন্সটিটিউটের সরকারি ড্রাইভার মোঃ রফিকুল ইসলামের ব্যাপারে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, অবৈধ এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

About বার্তা সম্পাদক

মন্তব্য করুন