শুক্রবার , এপ্রিল 10 2020
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / শত বর্ষী ঐতিহ্যবাহী আশুগঞ্জ রেলস্টেশন; নেই মানসম্মত যাত্রীসেবা

শত বর্ষী ঐতিহ্যবাহী আশুগঞ্জ রেলস্টেশন; নেই মানসম্মত যাত্রীসেবা


নিতাই চন্দ্র ভৌমিকঃ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী আশুগঞ্জ রেলস্টেশনে নেই মানসম্মত যাত্রীসেবা।
“বি” গ্রেড থেকে “ডি” গ্রেডে অবনমন করায় দূর্ভোগে যাত্রীরা। নামকা মাত্রই দাড়াচ্ছে ট্রেন, নেই কোনো সিগনালিং ব্যাবস্থা। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে স্টেশনের ঐতহ্য। জাগ্রত আশুগঞ্জবাসীর ব্যানারে সামনে কঠোর আন্দোলনে একজোট আশুগঞ্জবাসী। তবে আশুগঞ্জ রেলস্টেশনের মানসম্মত কোনো পরিবর্তন হয়নি দাবী স্টেশন কর্তৃপক্ষের।
বন্দরনগরী খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের প্রানকেন্দ্রে অবস্তিত আশুগঞ্জ রেলস্টেশন। ১৮৮৯ সালে বৃটিশদের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় এই স্টেশনটি। একাধারে নদীবন্দর, শিল্প নগরী ও সড়ক পথে দেশের পুর্বাঞ্চলের সিলেটের সাথে যোগাযোগের একমাত্র সুব্যবস্থা ছিল আশুগঞ্জ থেকেই। যার ফলেই মূলত তৎকালীন বৃটিশ সরকারের হাতে নির্মাণ হয় স্টেশনটি। কালের পরিক্রমায় ধিরে ধিরে উন্নতির দিকে অগ্রসর হতে থাকে আশুগঞ্জ। বর্তমানে সরকারি খাতের ৯ টি কেপিআই প্রতিষ্ঠানের অবস্থান আশুগঞ্জে। যার মধ্যে আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সারকারখানা ও দেশের সবচেয়ে বড় খাদ্যগুদাম “সাইলো” অন্যতম। যার ফলে সর্বোপরি গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই স্টেশনটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেটের প্রায় সবগুলো ট্রেন যাত্রাবিরতি করত এই স্টেশনটিতে। তবে গুরুত্বের তুলনায় উন্নতির বদলে অবনতির দিকে যাচ্ছে আশুগঞ্জ রেলস্টেশনটি।
ফজলে রাব্বি নামক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন ট্রেনযাত্রী জানান, এই স্টেশনে নেই যাত্রীদের জন্য কোনো বিশ্রামাগার, নেই কোনো টয়লেটের ব্যবস্থা। থাকলেও থাকে তালাবদ্ধ। ফলে যাত্রীরা বিশেষ করে মহিলাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আরেক ট্রেনযাত্রী সাব্বির মিয়া জানান, স্টেশনে নেই কোনো সিগনালিং ব্যাবস্থা ফলে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া কসবার মন্দভাগের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মত যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে দূর্ঘটনা। আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, শতবছরের ঐতিহ্য আমাদের এই আশুগঞ্জ রেলস্টেশন। আমরা আশুগঞ্জবাসীর প্রানের দাবী একটি ভাল মানের স্টেশন।
বর্তমানে আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস, ঢাকা মেইল, চট্টগ্রাম মেইল, নোয়াখালী এক্সপ্রেস, কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, সুরমা এক্সপ্রেস, আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তিতাস এক্সপ্রেস যাত্রাবিরতি করে। ‘খ’ থেকে ‘ঘ’ শ্রেণিতে পরিবর্তন করার ফলে পূর্বের সময় অনুসারে ট্রেন থামলেও অবস্থান করে মাত্র মিনিট খানেক। যার ফলে অনেক যাত্রীই উঠতে পারেনা ট্রেনে। এছাড়া সিগন্যালিং সিস্টেম এবং স্টেশন মাস্টার নেই এখানে। ২১জন কর্মকর্তার পরিবর্তে আছে মাত্র ৪ জন। যার মধ্যে সন্ধ্যা ৭ টার পর থাকে না কেউ। যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেট ব্যবস্থা থাকলেও তালা বদ্ধ থাকে সবসময়। যাত্রী নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো আইন শৃংখলা বাহিনির সদস্য । যার ফলে বাড়ছে চুরি-ছিনতাই। নামকা ওয়াস্তে তৈরী করা হয়েছে যাত্রী ছাউনি। ঝড় বৃষ্টির দিনে চরম ভোগান্তির শিকার হয় যাত্রীরা।
স্টেশনটির এই দুরাবস্থা নিয়ে গত কয়েকবছর যাবত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে “জাগ্রত আশুগঞ্জবাসী” নামে একটি সংগঠন। সংঠগনটির সদস্য সচিব মোবারক হোসেন জানান, রেলস্টেশনটি আশুগঞ্জবাসীর ঐতিহ্য, দ্রুত এর অবকাঠামো উন্নয়ন এখন আমাদের একমাত্র দাবী। আমরা দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। অতি সত্তর আমাদের দাবী না মানলে সামনে আরো কঠোরভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক হাজী সফিউল্লাহ জানাও অনলাইকে বলেন, সরকারি খাতের ৯ টি কেপিআই প্রতিষ্ঠানের অবস্থান আশুগঞ্জে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী সরাইল ও নাসিরনগরে মানুষ যাতায়াত করে এই স্টেশন দিয়ে। তবে সরকারি কিছু আমলার অবহেলার কারণে পিছিয়ে পরছে স্টেশনটি।
আশুগঞ্জ রেলস্টেশন মাষ্টার নুর নবি লোকবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানাও অনলাইনকে বলেন, আশুগঞ্জ রেলস্টেশনকে অবনমন করা হয়নি, বরং এই স্টেশনটি “বি” গ্রেড থেকে “এ” গ্রেডে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। তবে আমাদের লোকবলের কিছু সমস্যা আছে আমরা দ্রুত এটি সমাধানের চেষ্টা করছি।
তবে এই রকম চলতে থাকলে একদিন বিলুপ্তির পথে চলে যাবে রেলস্টেশনটি। তাই বিলুপ্তি হতে যাওয়া স্টেশনটিকে বাঁচাতে একজোট আশুগঞ্জবাসী।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন