Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / সেন্টমার্টিন রক্ষা এবং পলিথিন ও ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে সভা ও প্রচারপত্র বিলি..

সেন্টমার্টিন রক্ষা এবং পলিথিন ও ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে সভা ও প্রচারপত্র বিলি..

কক্সবাজার প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান আবিরঃ সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা, প্রাকৃতি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পলিথিন ও ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে প্রচারণা চালিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) ও ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজার। সেন্টমার্টিন দ্বীপ রক্ষায় বিভিন্ন করণীয় ও পলিথিন ও ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যবহারে ক্ষয়-ক্ষতি তুলে ধরে দ্বীপের বাসিন্দা এবং পর্যটকদের কাছে প্রচার পত্র বিলি ও একাধিক উঠান বৈঠক করা হয়েছে। ২৪ ও ২৫ ফেব্রæয়ারী দুই দিন সেন্টমার্টিন দ্বীপে এ প্রচারণা চালানো হয়।
ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) কক্সবাজার এর প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ মামুনের পরিচালনা ও সমন্বয়ে এসব প্রচার পত্র বিলি ও একাধিক উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন-কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক আনছার হোসেন, দৈনিক হিমছড়ির সম্পাদক হাসানুর রশিদ, দৈনিক সাগরদেশ এর সম্পাদক মোস্তফা সরওয়ার, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক যুগ্ম-সম্পাদক হুমায়ুন সিকদার, কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ উর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ নদী পরিভ্রাজক দলের সহ-সভাপতি সরওয়ার সাঈদ, বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের কক্সবাজার জেলা সভাপতি আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ নদী পরিভ্রাজক দলের যুগ্ন-সম্পাদক ইসলাম মাহমুদ, সাংবাদিক সুজন প্রমুখ।

বিলিকৃত প্রচারপত্রে বলা হয়েছে- সেন্টমার্টিন দ্বীপটি মূলত কোরাল দ্বীপ। এখানে প্রচুর কোরাল বিদ্যমান থাকায় দ্বীপটি থেকে অপরিকল্পিতভাবে কোরাল আহরণ করা হয় যা, দ্বীপটির অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। ২০১৯ এর শুরুর দিকের একটি পরিসংখ্যার বলছে এর পূর্ববর্তী সাত বছরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের কোরাল রীফ এর ২৫ শতাংশই হারিয়ে গেছে। এছাড়া মানব সৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতায় এখানে গত পাঁচ বছরে নষ্ট হয়ে গেছে সামুদ্রিক কাছিমের ডিম দেয়ার পরিবেশ। দ্বীপে কৃত্রিমভাবে জ্বালানো রাতের আলো, সাইকেল মোটর সাইকেলের চলাচল, আতশ বাজি-পটকা ফোটানো, জেনারেটরের শব্দ, উচ্চ শব্দের সঙ্গীত ইত্যাদি এই কাছিমের বংশ বিস্তারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এছাড়া প্রতি বছর প্রজনন মৌসুমে সৈকতে ডিম পাড়তে আসা প্রচুর কাছিম আটকা পড়ে জেলেদের জালে এবং এইসব আটকে পড়া কাছিমদের জেলেরা নির্বিচারে মেরে ফেলে। আবার কখনো কখনো এই কাছিম বা কচ্ছপগুলোকে খাওয়ার জন্য শিকার করা হয়। পর্যটকবাহী জাহাজ থেকে নির্গত তেলের কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে প্রবাল। এর পাশাপাশি পাথর উত্তোলনও চলছে হরদম। ফলে, সেন্টমার্টিন তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালের পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে পরিবেশ ও বনমন্ত্রণালয়। তা সত্বেও এই ক্ষুদ্র ভূখন্ডেই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে একশটিরও বেশি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। রাস্তার একপাশ ও সৈকতের পাড় দখল করে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে শতাধিক দোকান। এর সাথে যোগ হয়েছে দ্বীপে ব্যবহৃত জেনারেটর এবং সৈকতে চলাচলরত বিভিন্ন ধরনের মোটরযান। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক দ্বীপের প্রবেশ মুখেই পর্যটকদের জন্য করনীয় নির্দেশনা দেয়া থাকলেও সকল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পর্যটকদের একাংশ নানাভাবে দ্বীপের পরিবেশ দূষিত করছে। একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের বোতল, কাপ, টিফিন বক্স, চিপস্, বিস্কুট, চকলেটের প্যাকেট, স্ট্র ইত্যাদি ফেলছে দ্বীপের যত্রতত্র। রাতে রিসোর্ট, হোটেল ও মোটেলের আলো এবং
পর্যটকদের বারবিকিউ পার্টির হৈ-হুল্লোড় ও কাঠের ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে এই দ্বীপের নির্মল পরিবেশ। কতিপয় প্রভাবশালী আইন অমান্য করে এবং দ্বীপের পরিবেশেকে ধ্বংস করে এখানে নির্মাণ করেছে অবৈধ স্থাপনা। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন অবকাঠামোর প্রসারে ধ্বংস হচ্ছে দ্বীপের কেয়াবন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রবাল ও পাথর উত্তোলনের ফলে দ্বীপটির অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে।

About nsompadok

মন্তব্য করুন