Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / অবশেষে বৈদ্যুতিক আলোর মুখ দেখবে আশুগঞ্জ চরবাসী!

অবশেষে বৈদ্যুতিক আলোর মুখ দেখবে আশুগঞ্জ চরবাসী!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নিতাই চন্দ্র ভৌমিকঃ বুকের ওপর জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনের বিশাল টাওয়ার, এক কিলোমিটার দূরত্বে দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। দিন শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দু-এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধে জ্বলে ওঠে হাজারো বিজলি বাতি। তবুও বৈদ্যুতিক সুবিধাবঞ্চিত আশুগঞ্জের চর সোনারামপুর বাসী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সরকারি-বেসরকারি ১১টি ইউনিট থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। এর ফলে দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এই আশুগঞ্জ।
অবশেষে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়ার ঘোষণায় চরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ভৌগলিক কারণে চরটিতে বিদ্যুতায়ন কঠিন হলেও মুজিববর্ষেই বিদ্যুতের আলো জ্বলবে চর সোনারামপুরে। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছে যাবে ১১ কেভি লাইন। প্রায় এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেয়া হবে সেখানে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় একশ বছর আগে আশুগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠে একটি চর। আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সেই চরের নামকরণ করা হয় চরসোনারামপুর। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষজন বসতি গড়েন চরসোনারামপুরে। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চরের এই গ্রামে মানুষ বসবাস করে আসছে।
বর্তমানে হিন্দু-মুসলমান ধর্মালম্বী মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার মানুষ বসবাস করেন এই চরটিতে। এর মধ্যে ভোটার রয়েছে প্রায় দেড় হাজার। চরের বেশির ভাগ মানুষ পেশায় জেলে। মেঘনা নদীতে মাছ ধরে সেই মাছ আশুগঞ্জ বাজারে নিয়ে বিক্রি করেই চলে তাদের জীবন-জীবিকা। সম্প্রতি চরের বাসিন্দাদের অনেকেই আশুগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়েছেন।
বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার ১৩ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণের সক্ষমতা বাড়াতে এ নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে খরচ হবে এক হাজার ৪৫৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লা জেলার কুমিল্লা সদর উপজেলা, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম ও বুড়িচং উপজেলা; ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলা, আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলা; চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর সদর উপজেলা; নোয়াখালী জেলার মাইজদি উপজেলা, বেগমগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা; ফেনী জেলার ফেনী সদর উপজেলা এবং লক্ষীপুর জেলার লক্ষীপুর সদর উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিতরণ বিভাগ) আশুগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল হক জানান, কুমিল্লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় সাব মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে নদীর নিচে দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে চরটিতে। ইতোমধ্যে নদীর পাড়ে টাওয়ার স্থাপন করে সাবস্টেশন থেকে তার টানা হচ্ছে। চরে বসানো হচ্ছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। মুজিববর্ষে চরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার টার্গেট নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী কুমিল্লার ৬টি জেলার ১৩টি উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ করতে প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজিমুল হায়দার বলেন, আশুগঞ্জ উপজেলা একটি বিদ্যুৎ জোন। অথচ দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল চরের লোকজন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তাদের এ দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে- এটা ইতিবাচক। এতে করে আশুগঞ্জ উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় চলে আসছে।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন