মঙ্গলবার , এপ্রিল 7 2020
Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / কুলিয়ারচরে শিশু অপহরণের ৩৯ দিনেও সন্ধান মেলেনি! প্রশাসন নিরব

কুলিয়ারচরে শিশু অপহরণের ৩৯ দিনেও সন্ধান মেলেনি! প্রশাসন নিরব

পূর্ণিমা হোসাইনঃ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বেগম নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী অপহরণের ৩৯দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শিশু মেয়েটিকে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেন নাই। এই বিষয়ে শিশু মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে কুরিয়ারচর থানায় গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫ ঘটিকায় শফিকুল ইসলাম নামের এক যুবকও সঙ্গীয় আরো ২/৩জন অপরিচিত লোকের সহায়তায় সিএনজি যোগে তুলিয়া নিয়ে যায় বলে কুলিয়ারচর থানায় গত ১৬ফেব্রুয়ারী ২০০০ সালের নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩ ধারা মতে ২০০৩ সংশোধনী আইনে একটি অপহরণ মামলাও দায়ের করেছেন, মামলা নং কুলিয়ার থানা-১০/৩১
অভিযোগ আছে শফিকুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ধারীশ্বর গ্রামের ডেঙ্গুবাড়ীর মেহর আলীর ছেলে। কুলিয়ারচর থানাধীন পূর্ব গাইলকাটা দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো এবং মেয়েটি মাদ্রাসার সামনে দিয়ে আসা যাওয়ার পথে প্রায় সময়ই শিশু মেয়েটিকে উত্যোক্তসহ প্রেমের প্রস্তাব দিত। এ সকল ঘটনাসমুহ শিশু মেয়েটি এক পর্যায়ে তার অভিভাবকে জানান। অভিভাবক বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে।এ ঘটনার সত্যতা পেয়ে শফিকুলকে মাদ্রাসা থেকে প্রায় এক বছর পূর্বে বহিষ্কারও করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে বলাবলি করে মেয়েটির ক্ষয়-ক্ষতিসহ সুযোগে তুলে নিয়ে যাইবে। উৎপেতে থাকা শফিকুল প্রায় সময়ই মেয়েটির বাড়ির আশপাশে ঘুরাঘুরি করতো।

সুযোগ মতো শফিকুল ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ৫টার সময় শিশু মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা এই খবর দিলে তৎক্ষণাৎ শফিকুলের বাড়িতে যাই উদ্ধারের জন্য কিন্তু পরিতাপের বিষয় শিশুটি ফেরত না দিয়ে বরং উল্টা গালমন্দ করেন। মামলার বাদী শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন,পরিবারের লোকজনসহ জারইতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর সাথে জড়িত এবং সহায়তা করতেছে। মেয়েটির বাবা এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে বলেন, আমার অবুঝ শিশুটিকে ফিরে পাবো কি না এই বিষয়ে চিন্তায় আছি।

শিশুটির মাও এ দিকে পাগল প্রায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে আইন আমার শিশু মেয়েটিকে ঘটনার ৩৯ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমার বুকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি আমি কার উপর আস্থা রাখবো। আমার স্বামী বারবার থানায় যোগাযোগ করে ব্যর্থ হচ্ছে, অধিনায়ক, ভৈরব র‌্যাব-১৪ ক্যাম্প কমান্ডার জোবায়েরের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কোন রেজাল্ট পাইনি। পুলিশ এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ সদস্য আফজাল সাহেবকেও অবহিত করা হয়েছে। আমি আতংকে আছি এই দুর্যোগ মুহূর্তে অবুঝ শিশু মেয়েটি অসচেতনতায় সংক্রামক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায় কিনা!

এই বিষয়ে সরেজমিনে গেলে বাড়িতে ঘরের দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। শফিকুলের মা শাহীনুর আক্তার জানু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা মেয়েটিকে দিয়ে দিবো যদি আগে মেয়ের বাবা মামলা তুলে নেয়। মামলার কারণে আমরা সবাই পলাইয়া থাকি। শফিকুলের ০১৯৮৬১০১২৮৪ নাম্বারটি বর্তমানে বন্ধ পাওয়া যায়। সহোদর জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে ০১৯৬৮০৮৮০১৮0 নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলা তুলে নিলে আমরা মেয়েটিকে ফেরত দিবো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শফিকুলের এলাকার এক উচ্চ শিক্ষিত যুবক বলেন, ছেলেটি কেমন হাফেজ, কিসের এলেম শিক্ষা গ্রহণ করেছে। নৈতিকতার অভাব না থাকলে অবুঝ মেয়েটির উজ্জ্বল ভবিষ্যতকে এমন অন্ধকার করে দিতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে এর সাথে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।

কুলিয়ারচর বেগম নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান এ প্রতিবেদককের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সে আমার বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রীতে অধ্যয়নরত একজন ছাত্রী এর বেশি কিছু আমি জানি না।
এই বিষয়ে কুলিয়ারচরের থানার পরিদর্শক আব্দুল হাই তালুকদার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, উদ্ধারের বিষয়ে যতটুকু চেষ্টা করার প্রয়োজন তারচেয়ে বেশি করেছি এতে করে ছেলে পক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। তবে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে। ধৈর্য্য ধরার পরামর্শও দেন।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন