মঙ্গলবার , এপ্রিল 7 2020
Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / মানুষ মারলে কয় টাকা লাগে? গরু মারলে ৭০হাজার!এমন দম্ভোক্তি ইটভাটা মালিকের

মানুষ মারলে কয় টাকা লাগে? গরু মারলে ৭০হাজার!এমন দম্ভোক্তি ইটভাটা মালিকের

পূর্ণিমা হোসাইন ভৈরব প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর নিত্যনতুন অভিযোগের শেষ নেই। অভিযোগ কারীরাও প্রতিকার না পেয়ে আইনের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন! গতকাল ২৪শে মার্চ রোজ মঙ্গলবার বিকালে নিকলীর জারইতলা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রোদারপুড্ডা টু সাজনপুর গ্রামের মূল রাস্তা অতিক্রম করার সময় প্রায় ১৩বছরের কিশোর বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে একটি দুগ্ধ গাভীর প্রায় এক মাসের বাচ্চাকে ট্রাক চাপায় মেরে ফেলেছে। জানাগেছে আলতাফ ব্রিক ফিল্ডের বেতনভুক্ত কর্মচারী সোহেল কুর্শা গ্রামের সিন্ধু মিয়ার ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাচ্চা ছেলের বেপরোয়া চালানোর ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এই ছোট ছেলে গাড়ি জোড়ে চালানোর কারণে গাড়ি থামাতে পারেনি। আমি অনেক দূরে থাকতেই হাতে ইশারা (ইঙ্গিত) দিলেও গাড়ি থামাতে পারিনি এমনকি নিজও আল্লাহর ইচ্ছায় কোন রকম বেঁচে গেছি।

কৃষকের স্ত্রী দুবেলা আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, এই গাভীর দুধের উপর আমার সংসারের ১০জনের রিজিক। আমার সন্তান ও নাতি-নাত্তরের পড়াশোনার খরচ জোটে আর সবাইকে নিয়ে কিছু দুধ আমরাও খাই। এখন আমার কি উপায় হবে। তাছাড়া ঋণ করে দুটি গাভী কিনেছি। এখন কিস্তি দিব কিভাবে। এখন পর্যন্ত ইটভাটার মালিক রুপালি মিয়া এসে ঘটনাটি দেখেনি।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে সম্মেলিতভাবে বসেছিলাম এবং ৮লিটার দুধের দেশী প্রজাতির এ গাভীর বাজার মূল্য প্রায় ১৫০ হাজার টাকা হিসাব করে পরিবারের ক্ষতি পূরণ বাবদ মাত্র ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য ইটভাটার মালিক রুপালীকে অনুরোধ করেছিলাম। অথচ আমাদের কথা আমলে না নিয়ে দম্ভেরসহিত অত্র ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ইসহাক রানাকে মুঠোফোনে বলেন,“মানুষ মারলে কয় টাকা লাগে? গরু মারছে ৭০হাজার টাকা দিতে হবে!” এ ধরনের উল্টা হুসিয়ারি দেন।
এঘটনায় এলাকাবাসী বয়স বিবেচনা করে কিশোরকে ছেড়ে দিলেও গাড়িটি আটক করে গ্রামের ভেতর নিরাপদ স্থানে রেখে দেন। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মালিক রূপালী মিয়া থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের সহায়তায় ট্রাক নিয়ে যেতে চাইলে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম ও থানায় অভিযোগ করেছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।
নাম না বলার শর্তে একজন যুবক বলেন, তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার মানে হলো নিজেদের বিপদ ডেকে আনার সামিল।সাজানো মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার বিষয়ে এরা পারদর্শী তাই এদের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার কারো সাহস নাই, তাই এদের মনে মনে ঘৃণা করি। আইন তাদের হাতে জিম্মি।
কথিত আছে এই পরিবারটি অবৈধ উপায়ে আলতাফ ব্রিক ফিল্ড, কামাল ব্রিক ফিল্ড তৈরি করায় রোদানদীতে ইটের রাবিশ ফেলে মাছ চাষের অভয় আশ্রমটি করছে ধ্বংস, সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি হাট-বাজারের জনচলাচলের বিঘ্ন ঘটা তথা কালো ধোঁয়ায় করছে পরিবেশ দূষণ। এ ছাড়া অবৈধ দখলেরও কথিত অভিযোগ আছে। একই পরিবার বর্গের সহোদর যৌথ সামিয়া ব্রিক ফিল্ড নামে একই থানাধীন বনমালীপুর ও আঠার বাড়ীয়া গ্রামের নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুই ফসলি আবাদি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করার কারণে অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এমনকি রাস্তা ঘেঁষে ইটভাটা নির্মিত হওয়ার কারণে মেঠো সরু রাস্তা দিয়ে দুর্ঘটনার ভয়ে পথ চলার বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত মাটি বোঝাই করার কারণে মেঠো ও সরু রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাশ্ববর্তী কটিয়াদী উপজেলাধীন শাপলা ব্রিক ফিল্ডের মালিকও সহোদর। তাদের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে ও ইটভাটা বন্ধের দাবিতে দফায় দফায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেও প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগীরা আইনের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয় ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত অদক্ষ ড্রাইভারদের দ্বারা প্রাণ হারালো এ পর্যন্ত ৫ম শ্রেণীর ছাত্র নিকলী উপজেলার কামালপুর গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে মোশাররফ(১১), পশ্চিম কুর্শা গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে সাদেক(১৫),ও পাচরুখী গ্রামের যুবক সেন্টু মিয়া । এছাড়া আহত হয়েছে অনেককেই। ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হয়েছে নাম মাত্র। নিহত কামালপুর গ্রামের মোশাররফের সহোদর মন্টু মিয়া আক্ষেপ করে বলেন “ওরা প্রভাবশালী এদের বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা করে কিছুই করতে পারবো না তাই নামমাত্র টাকায় চাপের মুখে মীমাংসা করতে বাধ্য হয়েছি”
কথিত আছে, অভিযোগের ভিত্তিতে এই প্রভাবশালী অপরাধীচক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, জুয়া, নারী সংগঠিত ব্যবসা, মানব পাচারের দায়ে অত্র পরিবারবর্গের অনেকে জেল, হাজত ও জরিমানা দেওয়ার প্রমাণও বিদ্যমান। অনুসন্ধানে জানা যায় অসামাজিক কার্যকলাপ করে একের পর এক পার পেয়ে যাওয়ায় অত্র পরিবারের অপরাধের প্রবনতা দিন দিন তীব্রতর হয়ে উঠেছে। কথীত আছে, অবৈধ অর্থের বিনিময়ে ওরা সিদ্ধহস্তে গড়ে তুলেছে একটি প্রতারক চক্র । যে কারনে পাওনাদার ব্যক্তিদের টাকা চাইতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবনাশংকায় ভোগার দৃষ্টান্তও রয়েছে। সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তার অভাবে তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে অনেকে মামলা দায়ের করারও সাহস দেখায় না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রবীণ আ’লীগ নেতা বলেন, ওরা সুবিধাবাদী পার্টি করে ওদের কোন দল নেই ,ওরা অপরাধ ঢাকার জন্য অবৈধ অর্থের বিনিময়ে পার্টির পদ ভাগিয়ে নিয়ে অবৈধ সুবিধা ভোগ করে। পার্টির দোহাই দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ করে বেড়ায়। ওরা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে।
এ বিষয়ে আলতাফ ব্রিক ফিল্ডের মালিক হাজী রুপালি সাহেবের সাথে ৫টা ৩মিনিটে ০১৯৬৫০২০৯১৫ নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনটা ধরেননি।এক পর্যায়ে তিনি ফোনটা বন্ধ করে দেন। দুগ্ধ গাভীর বাচ্চা মারার বিষয়ে নিকলী থানার পরিদর্শক শামছুল আলম সিদ্দিকী সাহেব বলেন, এখন পর্যন্ত কোন

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন