Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / হবিগঞ্জ, মাধবপুর ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস

হবিগঞ্জ, মাধবপুর ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস

হবিগঞ্জ, মাধবপুর প্রতিনিধি এনামুল হক আরিফ: ১৯৭১ সালের এই দিনে হবিগঞ্জ, মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে শুরু হয় মুক্তিবাহিনীর কার্যক্রম।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এপ্রিল মাসে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থাপিত হয় মুক্তিবাহিনীর সদর দপ্তর।

সড়ক ও রেলপথে বৃহত্তর সিলেটে প্রবেশের ক্ষেত্রে হবিগঞ্জ, মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

৪ এপ্রিল ২য় ও ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসারদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কর্ণেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজারের বাংলাতে এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় মিলিত হন।

সভায় প্রাথমিক ভাবে সারা দেশকে ৪টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়, যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের কৌশলগত পরিচালনায় ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিবাহিনীর সদর দপ্তরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন লেঃ কর্ণেল এম এ রব, মেজর শফিউল্লাহ, মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর খালেদ মোশাররফ, লেঃ কর্ণেল সালাউদ্দিন রেজা, মেজর কাজী নুরুজ্জামান, মেজর মঈনুল হোসেন চৌধুরী, মেজর নুরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন নাসিম, ক্যাপ্টেন মতিনসহ জন প্রতিনিধি।

৪ এপ্রিলের সভায় কর্ণেল ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করা হয়।

৩নং সেক্টরের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন মেজর শফিউল্লাহ।
হবিগঞ্জ ৩নং সেক্টরের অর্ন্তভুক্ত হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জ, মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া ম্যানেজারের বাংলোসহ পাশ্ববর্তী এলাকা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেনা নায়কদের পদচারনায় মুখরিত ছিল।

১৯৭১ সালের ২১ জুনের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রচন্ড আক্রমনের কারণে হবিগঞ্জ, মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থাপিত মুক্তিবাহিনীর সেক্টর হেড কোয়ার্টার প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধারণ করে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ম্যানেজার বাংলোর পাশে নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা স্থানে নির্মিত হয়েছে বুলেট আকৃতির স্মৃতিসৌধ।

স্মৃতিসৌধের ফলকে ৩৩ জনের নামের তালিকায় রয়েছে রাজনৈতিক নেতা, সাবেক সেনা ও সরকারী কর্মকর্তা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নাম।

এর মধ্যে রয়েছে সেনাপ্রধান কর্ণেল আতাউল গণি ওসমানী, সহ-সেনাপ্রধান লেঃ কর্ণেল আব্দুর রব এমএনএ, মেজর কে এম সফিউল্লাহ (সিলেট-ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মেজর খালেদ মোশাররফ (কুমিল্লা-নোয়াখালি), মেজর জিয়াউর রহমান (চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রাম) ও মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর (কুষ্টিয়া-যশোর পশ্চিম রনাঙ্গন) নাম।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন