Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / ক্রেতা নেই, মাধবপুরে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে সবজি

ক্রেতা নেই, মাধবপুরে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে সবজি


মাধবপুর প্রতিনিধি এনামুল হক আরিফঃ দেশে করোনাভাইরাসের প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, থেকে নেই মৃত্যুর মিছিলও। সরকার করোনায় আক্রান্ত আর মৃত্যুর মিছিল থামাতে দফায় দফায় সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি করছে। তবে সরকার যতই ছুটি বৃদ্ধি করছে ততই ভাগ্যর আকাশ ফিকে হয়ে আসছে হবিগঞ্জের মাধবপুরের সবজি চাষিদের। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে উপজেলার বেশিরভাগ চাষির সবজি জমিতেই নষ্ট হচ্ছে।

করোনার কারণে মানুষ স্বেচ্ছাবন্দিতে থাকায় স্থানীয় বাজারগুলোতে নেই প্রয়োজনীয় ক্রেতা। আর গণপরিবহন বন্দের কারণে আসছেন না পাইকাররা। যদিও সরকার পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে সাধারণ ছুটির আওতায় রেখেছে। তবুও অন্যান্য বছরের মতো সবজি কিনতে এবার নেই পাইকারদের উপচে পড়া ভিড়।

এতে করে বিপাকে রয়েছেন উপজেলায় সবজি চাষিরা। বাজারে চাহিদা না থাকায় জমি থেকে সবজি তুলছেন না চাষিরা। আবার সবজি দীর্ঘদিন উত্তোলন না করলে জমিতেই পচন শুরু হবে। এমনকি ইতিমধ্যে উপজেলার বেশিরভাগ জমিতেই অল্প-বিস্তর পচন শুরু হয়েছে।

শনিবার ও রবিবার (১১-১২ এপ্রিল) মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা জুড়ে সবজি চাষিরা নানা রকম সবজি চাষ করেছেন। তবে মাধবপুরের হাট-বাজারগুলোতে আগের মতো সবজি কেনাবেচা নেই। নেই দুর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররাও। নিজেরাই নিজেদের উৎপাদিত সবজির পশরা সাজিয়ে বসছেন অনেক কৃষক। তবে ক্রেতার অভাবে কম দামে সবজি বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। এতে করে ঋণ-গ্রস্ত কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উপজেলার ঘিলাতলী গ্রামের সবজি চাষি আবুল বাসার জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাবে সবজির চাহিদা কমে গেছে। এছাড়া পাইকার না থাকায় শসা, টমেটো, বরবটি বিক্রি করতে পারছি না।

তিনি আরও জানান, আমি ১০ বিঘা জমিতে শসা, ৫ বিঘা জমিতে টমেটো, ৩ বিঘা জমিতে বরবটি চাষ করেছি। এই সবজি এখন ২ থেকে ৫ টাকা কেজিতে বিক্রি ও করতে পারছি না। ক্ষেতে পরে থেকে সবজি এখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এমন অবস্থায় চলতে থাকলে আমি পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে। করোনার কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ। ট্রাক চালকরা করোনা ঝুঁকি নিয়ে কোথাও ভাড়ায় যেতে চায় না। এ কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এখানকার উৎপাদিত সবজি পাঠানো যাচ্ছে না। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দুর-দূরান্ত থেকে পাইকাররাও আসছে না সবজি সমৃদ্ধ এই এলাকায়। যদিও কৃষি বিভাগ থেকে একটু সময় নিয়ে ক্ষেতের ফসল উত্তোলনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে উপজেলার শাহজাহানপুর, বহরা, চৌমুহনী, ধর্মঘর, আদাঐর, ছাতিয়াইন, নোয়াপাড়া, বাঘাসুরা, বুল্লা, জগদীশপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে এবার করোনা পরিস্থিতি আর সবশেষ (২ এপ্রিল) শিলাবৃষ্টির কারণে তাদের লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে। আর বর্তমানে যে পরিমাণ ফসল জমিতে আছে তাও বিক্রি করতে পারছেন না। এই ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয় উঠতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন তারা।

তবে উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, এবার উপজেলায় ১ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংকট কালীন সময় পরে হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক প্রণোদনা আসতে পারে সরকার থেকে। আমরা চেষ্টা করবো কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে।

আর উপজেলা উপ কৃষি কর্মকর্তা তাপস চন্দ্র দেব জানান, করোনার কারণে কৃষি পণ্যবাহী পরিবহন সংকটসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা আসতে না পারায় সবজি চাষিরা ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এখনো ভরা মৌসুম আসেনি। সবেমাত্র গ্রীষ্মকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। ভরা মৌসুম আসার আগে যদি দুর্যোগ কেটে যায়, তাহলে সবজি চাষিরা খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন